সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বান্দরবানের ৪১টি অবৈধ ইটভাটায় ১২ হাজার মণের বেশি বনের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে প্রতিদিন। প্রাথমিক বিদ্যালয়, লোকালয় ও বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত ইটভাটাগুলোতে এভাবে কাঠ পোড়ানো হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিন পার্বত্য জেলায় ২০০৯ সাল থেকে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসব এলাকায় ইটভাটা স্থাপন না করার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে কয়টি ইটভাটা রয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। তবে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদরে ১২টি, লামায় ২৪টি, আলীকদমে দুটি, নাইক্ষ্যংছড়িতে চারটি ও রুমায় একটিসহ জেলায় মোট ৪১টি ইটভাটা রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বান্দরবান সদর উপজেলার গুংগুরু খিয়াংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলসংলগ্ন স্থানে এবিসি নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, আট বছর ধরে এ ভাটার চুল্লিতে সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন বনের কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভাটার শ্রমিকেরা জানান, একটি ভাটায় দিনে গড়ে ৩০০ মণ কাঠের প্রয়োজন। সে হিসাবে ৪১টি ভাটায় প্রতিদিন (বর্ষা মৌসুম ছাড়া) ১২ হাজার ৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন ভাটার আশপাশের বনাঞ্চল। বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ।
এ ব্যাপারে লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ১৮টি ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হয়। এতে আশপাশের পাহাড় ও বনাঞ্চল উজাড় হয়ে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। এ কারণে ২০১২ সালে পাহাড় ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অবিলম্বে ইটভাটাগুলো বন্ধ করা না হলে বন উজাড় অব্যাহত থাকবে। ১০ ডিসেম্বর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি ওঠে বলে তিনি জানান।
ইটভাটার মালিক সমিতির ফাইতং ইউনিয়নের সভাপতি ফকরুল ইসলাম অকপটে স্বীকার করেন কাঠ পোড়ানোর কথা। বলেন, ইটভাটার লাইসেন্স বন্ধ থাকায় মালিকেরাও শৃঙ্খলা না মেনে যে যার মতো করে চলছেন। উন্নত ও পরিবেশসম্মত জিকজাক পদ্ধতি ছাড়া অন্য সব ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া দরকার বলে মত দেন তিনি।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, লাইসেন্স প্রদানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলায় একটিও বৈধ ইটভাটা নেই। তবে সম্প্রতি পুরোনো ইটভাটাগুলো দুই লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে আরও এক বছর পর্যন্ত পরিচালনার অনুমতি দেওয়া যাবে বলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এ বিজ্ঞপ্তি পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য হবে কি না এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।