বিশিষ্ট গরু লাল হাম্বার একান্ত সাক্ষাৎকার
'আমাদের প্রতিভা আর সৃজনশীলতা সম্পর্কে আপনাদের কোনো ধারণাই নেই'
লাল হাম্বা। বিশিষ্ট গো-বেষক, গো-চিন্তক। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হাটে উঠেছেন। কাটাচ্ছেন বেশ ব্যস্ত সময়। নানান জনের দরদাম এবং দেখাদেখির ফাঁকে ফাঁকেই কথা বললেন রস+আলোর সঙ্গে। একান্ত সাক্ষাৎকারে হাট ব্যবস্থাপনাসহ গো-সমাজের আরও অনেক বিষয় নিয়ে বললেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি (পুরোপুরি কল্পনাপ্রসূত) নিয়েছেন শরীফ মজুমদার
রস+আলো: জনাব লাল হাম্বা, টানা দ্বিতীয়বার হাটে উঠেছেন, কেমন লাগছে?
লাল হাম্বা: সত্যি বলতে কেমন লাগালাগির কিছু নেই। হাট এমন কোনো জায়গা নয় যে আনন্দে ধেইধেই করে নাচব। ইটস জাস্ট ‘কাউ’ডি প্লেস। চারপাশের এত গরুর মধ্যে কি আর ভালো থাকা যায়?
র. আ.: এটা অবশ্য ঠিক বলেছেন। কিন্তু আপনার মেজাজ একটু বেশিই চড়া মনে হচ্ছে?
লা. হা.: চটব না-ই বা কেন? কিছু বেকুব এসে এমন দাম বলছে, যেন বাজারে গুঁড়া মাছ কিনতে এসেছে! দাম বলবেন তো একটু বুদ্ধি-বিবেচনা করে তো বলেন, তা না...মনে হয় আমরা বানের পানিতে ভেসে ভেসে হাটে এসে উঠেছি। মাঝেমধ্যে ইচ্ছা করে শিং দিয়ে কষে একটা গুঁতা দিই! আর হাটের ম্যানেজমেন্টের যে অবস্থা, উফ, জাস্ট ডিজগাস্টিং!
র. আ.: ঠিক কী ধরনের অব্যবস্থাপনার কথা বলছেন?
লা. হা.: অব্যবস্থাপনার কথা বলে কি আর শেষ করা যাবে! এই ধরুন, টয়লেটের কথাই যদি বলি, উচিত তো ছিল আমাদের প্রত্যেকের জন্য পারসোনাল টয়লেটের ব্যবস্থা করা। অথচ কিসের কী! যেখানে খাচ্ছি সেখানেই...। আচ্ছা, আমাদের কথা না হয় বাদই দিলাম, হাটে যেসব ক্রেতা আসছেন, তঁাদের জন্যও তো চোখে পড়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। ধরুন, কারও ছোট কিংবা বড় ‘ইয়ে’ চাপল, কী হবে তখন? গরু কিনতে এসে বেচারার মন পড়ে থাকবে সেই ‘চাপ’ সামলানোতে। আপনিই বলুন, শান্তিমতো কেনাকাটা করা যাবে তখন?
র. আ.: তাই তো! আর কী অব্যবস্থাপনা আপনার চোখে পড়ছে?
লা. হা.: এগুলো বলে শেষ করা যাবে না। একটু ঘুরে এলেই আপনি দেখবেন বেশ কিছু বখাটে ষাঁড় সমানে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি আর কাউটিজিং করে যাচ্ছে! অথচ দেখার কেউ নেই! দু-চার প্লাটুন গো-পুলিশ নিয়োগ করলে কী হতো! আপনারা একটা হাট বসাবেন, আর এই ব্যাপারগুলো দেখবেন না?
র. আ.: অবশ্যই দেখা উচিত। ইয়ে মানবসমাজের উদ্দেশে যদি কিছু বলতেন...
লা. হা.: কিছু না, অনেক কিছুই বলব। এটা আমাদের অজানা নয় যে আপনারা আমাদের বেশ অবজ্ঞার চোখে দেখেন। ক্লাসের সবচেয়ে খারাপ ছাত্রটিকে আপনাদের শিক্ষকেরা ‘গরু’ বলে গালি দেন, এটা কেন? আমাদের সৃজনশীলতা আর প্রতিভা সম্পর্কে আপনাদের কোনো ধারণাই নেই। শুধু শুধু বলতেও চাচ্ছি না। এখন আমরাও যদি আমাদের মধ্যে গণ্ডমূর্খ গরুটাকে ‘হালায় একটা মানুষ’ বলে গালি দিই, তখন কেমন লাগবে? আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করে আপনারা বেশ কিছু প্রবাদও বানিয়েছেন। আপনাদের কে বলেছে যে ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়? আন্দাজে একটা কথা বলে ফেললেই সেটা বেশ জ্ঞান হয়ে যায়? তা ছাড়া, ‘কলুর বলদ’, ‘চিনির বলদ’—এ ধরনের আপত্তিকর বাগ্ধারাই বা কেন? গোয়াল নিয়ে আর কী যেন একটা প্রবাদ...ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে, ‘দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো’! আশ্চর্য! আমি তো বলব, এটা গো-সমাজের মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত! জানি, অরণ্যে রোদন হবে, তবু বলছি, আমাদের মধ্যে কেউই দুষ্ট নই, আমরা সবাই শান্তিপ্রিয়। যাহোক, আশা করি আমাদের সম্পর্কে আপনাদের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবেন।
র. আ.: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
লা. হা.: রস+আলোকেও ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ, হাম্বা সমাজের পক্ষ থেকে রস+আলোর সব পাঠককে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা!