হাসিমুখের উত্থান

ক্যামেরাকে কে জনপ্রিয় করেছে—এ কথা উঠলে কোডাক কোম্পানির কথাই আসবে সবার প্রথম। ছবি তোলাকে মধ্যবিত্তের হাতের নাগালে নিয়ে আসার পুরো কৃতিত্বটাই যেন কোডাকের! জটিল সব ক্যামেরার যন্ত্রপাতিকে এক ঝটকায় দূর করে দিয়েছিল ক্যামেরার এই ব্র্যান্ড। ক্যামেরা হয়ে উঠে সহজে ‘ক্যারি’ করার মতো যন্ত্র। তবে হাসিমুখের ছবি তোলার সঙ্গেও যে কোডাকের নাম জড়িত, সে কথা কি আপনারা জানেন?

বিশ শতকের শুরুতে কোডাক যখন প্রথমে সহজে বহনযোগ্য ক্যামেরা নিয়ে আসে, তখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল মানুষকে ক্যামেরার সঙ্গে সহজ করে তোলা। তাদের ক্যামেরাভীতি কাটানো। এ জন্য তারা এক অভিনব মার্কেটিং ক্যাম্পেইন করে। ফটোগ্রাফি ম্যাগাজিনে একের পর এক হাসিমুখের ছবি প্রকাশ করতে থাকে। নিচে স্লোগান জুড়ে দেয়, ‘সেভ ইয়োর হ্যাপি মোমেন্টস উইথ আ কোডাক’ অর্থাৎ ‘আপনার সুখী মুহূর্তকে কোডাকে ধরে রাখুন।’ আর এই স্লোগানের মাধ্যমেই এক নতুন যুগের সুচনা করে কোডাক।

default-image

কোডাকের ক্যামেরায় ছবি তুলে ক্রেতারাই শেয়ার করতে থাকেন একের পর এক হাসিমুখ ছবি। ধীরে ধীরে এই হাসিমাখা মুখ পরিচিতি পেতে থাকে চারদিকে। অন্যান্য কোম্পানিও তাদের প্রচারণায় ব্যবহার করতে থাকে হাসিমুখ মডেলের ছবি। এমনকি ১৯৫০ সালের দিকে প্রেসিডেন্টরা পর্যন্ত হাসিমুখে ছবি তোলা শুরু করেন। এভাবেই ঘটে যায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন।

গাম্ভীর্যকে দূরে সরিয়ে সহজাত হাসিই হয়ে ওঠে ছবি তোলার মূল ভঙ্গি। ক্যামেরা হয়ে ওঠে সুখের দিনকে বন্দী করে রাখার এক আলাদিনের প্রদীপ। যেখানে পুরোনো ছবির দিকে তাকালেই মন অজান্তেই গুনগুনিয়ে ওঠে, ‘ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়!’

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন