কেন অন্যের কষ্টে আনন্দ পাই, বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করি না?

কেন মানুষ ভুক্তভোগীকেই দোষ দেয়? কেন ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসে না? বা কেন কেউ অন্যের অপমান দেখে আনন্দ পায়? এসব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে মানুষের কিছু অন্ধকার মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতায়।

মানুষ শুধু ভালো গুণের সমষ্টি নয়। আমাদের আচরণ ও সিদ্ধান্তের আড়ালে লুকিয়ে থাকে কিছু অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা
ছবি: পেক্সেলস

মানুষ শুধু ভালো গুণের সমষ্টি নয়। আমাদের আচরণ ও সিদ্ধান্তের আড়ালে লুকিয়ে থাকে কিছু অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা। কখনো আমরা অজান্তেই ভুক্তভোগীকেই দোষ দিই, কখনো অন্যের কষ্টে আনন্দ পাই, আবার কখনো অনেক মানুষের ভিড়ে নিজের দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলি। এমনই পাঁচটি ‘ডার্ক সাইকোলজি’ ধারণা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. জাস্ট ওয়ার্ল্ড ফ্যালাসি

এটি এমন এক মানসিক প্রবণতা, যেখানে মানুষ পৃথিবীকে মূলত ন্যায্য বলে বিশ্বাস করতে চায়। অর্থাৎ বিশ্বাসটি এমন—ভালো মানুষের সঙ্গে ভালো এবং খারাপ মানুষের সঙ্গে খারাপই ঘটে। আর এই বিশ্বাসের কারণে অনেক সময় মানুষ ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করে।

যেমন ‘নিশ্চয়ই সে কিছু ভুল করেছিল, তাই তার সঙ্গে এমন হয়েছে’ বা ‘কেন তুমি ওই ব্যক্তিকে বিশ্বাস করেছিলে’—এমন মন্তব্য ও প্রশ্নে এ ধরনের মানসিকতার প্রকাশ ঘটে।

আরও পড়ুন

২. এভরিডে স্যাডিজম

এটি এমন এক ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য, যেখানে একজন ব্যক্তি অন্যের ছোটখাটো কষ্ট, অপমান বা অস্বস্তি দেখে আনন্দ বা তৃপ্তি পায়। যদিও তা সব সময় চরম সহিংস বা অপরাধমূলক নয়। যেমন—

  • কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিব্রত করে মজা পাওয়া।

  • অনলাইনে কাউকে ট্রল বা অপমান করে আনন্দ পাওয়া।

  • কারও ব্যর্থতা বা দুঃখ দেখে তৃপ্তি বোধ করা।

বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট এমন এক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, যেখানে আশপাশে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করার প্রবণতা কমে যায়
ছবি: এআই/প্রথম আলো

৩. দ্য বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট

এটি এমন এক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, যেখানে আশপাশে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করার প্রবণতা কমে যায়।

যত বেশি মানুষ উপস্থিত থাকে, দায়িত্ব তত বেশি ভাগ হয়ে যায়; ফলে কেউ এককভাবে দায়িত্ব নিতে চায় না। কারণ, সবাই মনে করে ‘অন্য কেউ নিশ্চয়ই সাহায্য করবে।’ একে ‘ডিফিউশন অব রেসপনসিবিলিটি’ বা দায়িত্বের বিস্তারও বলা হয়।

আরও পড়ুন

৪. ডিইনডিভিজুয়েশন

আপনি যদি একজন ব্যক্তিকে একটা ইট দিয়ে বলেন যে ‘অমুক জানালার কাচ গুঁড়িয়ে দাও’, তিনি করবেন না। কিন্তু ওই একই ব্যক্তি যদি ভিড়ের মধ্যে থাকেন, তাহলে তাঁর সেটি করতে বিবেকে আটকাবে না।

যখন মানুষ ভিড়ের মধ্যে নিজের ব্যক্তিসত্তা হারিয়ে ফেলে, তখন ব্যক্তি হিসেবে তার নৈতিকতা আর স্বতন্ত্র দায়িত্ববোধও হারিয়ে ফেলে।

যখন মানুষ ভিড়ের মধ্যে নিজের ব্যক্তিসত্তা হারিয়ে ফেলে, তখন ব্যক্তি হিসেবে তার নৈতিকতা আর স্বতন্ত্র দায়িত্ববোধও হারিয়ে ফেলে
ছবি: পেক্সেলস

৫. কমপ্যাশন ফেড

সহানুভূতির ক্ষয় এমন এক মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা, যেখানে একজন ব্যক্তির দুর্ভোগ দেখে আমাদের সহানুভূতি জাগে। কিন্তু একই দুর্ভোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা যত বেশি হয়, সহানুভূতি ততই কমতে থাকে।

যেমন একটি অসুস্থ শিশুর গল্প শুনে মানুষ সহজেই সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। কিন্তু যদি বলা হয়, ‘লাখো শিশু একই সমস্যায় ভুগছে’, তাহলে অনেকের আবেগ ও সাহায্য করার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

সূত্র: মিডিয়াম

আরও পড়ুন