অলির বইপ্রীতি

সাত বছর আগের কথা। কলম কিনতে এলাকার একটি বইয়ের দোকানে গিয়েছিলেন অলি। সেখানে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ মনীষীর জীবনী বইটি চোখে পড়ে। সেটি কিনে পড়া শুরু করেন। যতই পড়েন ততই তাঁর আগ্রহ বাড়ে। বিখ্যাত মানুষের জীবনী তাঁকে টানে। বই কিনতে এরপর একদিন জেলা শহরে যান। সৃজনশীল বই ও নানা পণ্যের দোকান ‘মধ্যবিত্ত’ থেকে বই কেনেন। দোকানটির মালিক মানবেন্দ্র করের সঙ্গে পরিচিত হন। মানবেন্দ্র নিজেও বইপাগল মানুষ। অলির বই পড়ার আগ্রহ দেখে উৎসাহ দেন। এরপর সময় হলেই আসতেন মানবেন্দ্রর কাছে। একপর্যায়ে শুধু বই পড়ার জন্য মধ্যবিত্ততে কাজ নেন অলি। তিন মাস ছিলেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বই পড়া ছিল তাঁর নেশা। দোকানে তো বটেই, দোকান থেকে ফেরার সময় প্রতিদিন একটি করে বই নিয়ে যেতেন। একপর্যায়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, প্রথমা প্রকাশনের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অলির পরিচয় করিয়ে দেন মানবেন্দ্র কর। ঢাকায় গেলেই এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বই কেনেন অলি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে তাঁকে সম্প্রতি ৮৭টি বই উপহার দেওয়া হয়েছে। এই দুই প্রতিষ্ঠান তাঁকে বই কেনায় বিশেষ ছাড়ও দিয়ে থাকে। অলি জানান, এ পর্যন্ত পাঁচ শর মতো বই পড়েছেন। বিজ্ঞান, ভ্রমণবিষয়ক বই তাঁর বেশি ভালো লাগে। ২০১৮ সালে নিজের বাড়িতে একটি পাঠাগার গড়ে তোলেন। তাতে এখন চার শর মতো বই আছে। পাঠাগারের নাম দিয়েছেন ‘স্বপ্নরাজ বুক ক্লাব’। এলাকার অনেকেই তাঁর পাঠাগার থেকে বই নিয়ে পড়েন।

বই বেচে বই পড়ার আন্দোলন

অলি তখন অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন। সেসময় তাঁর বাবা বাইসাইকেল কিনে দেন। পরিকল্পনা করেন সাইকেলটি নিয়ে দেশ ঘুরতে বের হবেন। ৬৪ জেলায় ঘুরে মানুষকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করবেন। মা-বাবাকে ইচ্ছার কথা বলার পর কেউই রাজি হলেন না। এরপর একদিন নিজের কেনা বেশ কিছু বই নিয়ে আসেন মানবেন্দ্র করের কাছে। নিজের ইচ্ছার কথা জানান। অলির বইগুলো ১০ হাজার টাকায় কিনে নেন মানবেন্দ্র। এই টাকা দিয়েই ‘বই পড়ার আন্দোলন’ কর্মসূচি শুরু করেন অলি। এখন অবশ্য মা-বাবাকেও পাশে পেয়েছেন।

মানবেন্দ্র কর বললেন, ‘অলি আসলেই ব্যতিক্রম। এ রকম বইপড়ুয়া তরুণ আমি কমই দেখেছি। বই নিয়েই তাঁর সব ভাবনা। এখন বুঝতে পারছি, সে আমার এখানে মূলত বই পড়ার জন্যই কাজ নিয়েছিল। তাঁকে দেখে অন্যদের শেখার আছে।’