টাকা জমিয়ে আপনি কোনো দিনই ধনী হতে পারবেন না, তাহলে উপায়?

বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, ভালো চাকরি, মাসে নিয়মিত বেতন, কিছু টাকা সঞ্চয় আর ফিক্সড ডিপোজিট…ব্যস, এভাবেই একদিন তিনি ধনী হয়ে যাবেন। কিন্তু সেই ‘একদিন’ বাস্তবে আর আসে না। কেন?

টাকা শুধু ব্যাংকে পড়ে থাকলে সেটা বাড়ে না, বরং সময়ের সঙ্গে তার ক্রয়ক্ষমতা কমতে থাকে
ছবি: পেক্সেলস, গ্রাফিকস: প্রথম আলো

কেন ব্যাংকে টাকা ফেলে রাখলে সেটি কমতে থাকে?

ভালো চাকরি, বেতন, সঞ্চয়—বিষয়গুলো শুনতে নিরাপদ লাগে। বাস্তবে অনেকেই এই পথেই হাঁটেন। কিন্তু সত্যিটা হলো, শুধু টাকা জমিয়ে ধনী হওয়া যায় না।

কারণ, টাকা শুধু ব্যাংকে পড়ে থাকলে সেটা বাড়ে না, বরং সময়ের সঙ্গে তার ক্রয়ক্ষমতা কমতে থাকে।

এর মানে হলো, আজ এক লাখ টাকায় যা কেনা যায়, পাঁচ বা ১০ বছর পর সেই একই জিনিস এক লাখে কেনা সম্ভব হবে না। এর কারণ মুদ্রাস্ফীতি।

অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, আর টাকার ‘দাম’ কমে। তাই যদি আপনার অর্থের বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে কম হয়, তাহলে কাগজে টাকা বাড়লেও বাস্তবে আপনি পিছিয়ে যাচ্ছেন।

এ কারণেই শুধু প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা জমিয়ে বা ফিক্সড ডিপোজিট রেখে ধনী হওয়া কঠিন। অধিকাংশ নিরাপদ সঞ্চয়পদ্ধতির রিটার্ন অনেক সময় মুদ্রাস্ফীতির সমান বা তার কাছাকাছি থাকে। ফলে আপনি টাকা বাঁচাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু সম্পদ তৈরি করছেন না।

মোটকথা, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা জমিয়ে, ফিক্সড ডিপোজিট করে ধনী হওয়া অনেকটাই অসম্ভব। কেননা আপনার অর্থকে সময়ের সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে বড় হতে হবে।

আরও পড়ুন
ধনী হওয়ার আসল খেলা হলো আপনার টাকা যেন আপনার জন্য কাজ করে। অর্থাৎ এমন জায়গায় বিনিয়োগ করা, যেখানে সময়ের সঙ্গে টাকার মূল্য বাড়বে
ছবি: পেক্সেলস

ধনী হওয়ার আসল খেলা

ধনী হওয়ার আসল খেলা হলো আপনার টাকা যেন আপনার জন্য কাজ করে। অর্থাৎ এমন জায়গায় বিনিয়োগ করা, যেখানে সময়ের সঙ্গে টাকার মূল্য বাড়বে। আয় তৈরি হবে এবং চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পাবে। যেমন ব্যবসা, দক্ষতা উন্নয়ন, শেয়ারবাজার, রিয়েল এস্টেট বা অন্য আয় সৃষ্টিকারী সম্পদ।

লেভারেজ—ধনী হওয়ার জন্য যে ঝুঁকিটা নিতেই হয়

লেভারেজ অর্থ নিজের সীমিত টাকা, সময়, দক্ষতা বা সম্পদ ব্যবহার করে অন্যের টাকা/সম্পদ/সিস্টেম কাজে লাগিয়ে বড় ফল পাওয়া।

টাকার ক্ষেত্রে লেভারেজ

সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো ঋণ ব্যবহার করে সম্পদ কেনা বা ব্যবসা করা। ধরুন, আপনার কাছে পাঁচ লাখ টাকা আছে। আপনি ৩০ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট কিনলেন পাঁচ লাখ টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে। বাকিটা ব্যাংক ঋণ হিসেবে দিল।

যদি ফ্ল্যাটের দাম কয়েক বছরে ৩০ লাখ থেকে ৪০ লাখ হয়, তাহলে আপনার নিজের পাঁচ লাখ টাকার ওপর বড় রিটার্ন হলো। এটিই লেভারেজ।

সময়ের লেভারেজ মানে এমন কাজ করা, যা একবার করে বারবার ফল দেয়
ছবি: পেক্সেলস

ব্যবসায় লেভারেজ

নিজের একার কাজের বদলে টিম রাখা। কর্মচারী বা ফ্রিল্যান্সার দিয়ে কাজ বাড়ানো। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেকটা কাজ করে ফেলা।

সময়ের লেভারেজ

এমন কাজ করা, যা একবার করে বারবার ফল দেয়। যেমন অনলাইন কোর্স, ইউটিউব ভিডিও, বই লেখা, নতুন একটা ভাষা শিখে তার মাধ্যমে আয় করা ইত্যাদি।

আরও পড়ুন

কেন ধনীরা লেভারেজ ব্যবহার করেন?

কারণ, তাঁরা জানেন, শুধু নিজের সময় বিক্রি করে আয় সীমিত। কিন্তু লেভারেজ ব্যবহার করলে আয় ও সম্পদ দ্রুত বাড়ানো যায়।

তবে ঝুঁকিও আছে। যেমন ঋণ নিয়ে ভুল বিনিয়োগ করলে ক্ষতি বাড়ে। অতিরিক্ত ধার মানসিক চাপ তৈরি করে।

ধনীরা জানেন, শুধু নিজের সময় বিক্রি করে আয় সীমিত। কিন্তু লেভারেজ ব্যবহার করলে আয় ও সম্পদ দ্রুত বাড়ানো যায়
ছবি: পেক্সেলস

শেষ কথা

সঞ্চয় জরুরি, কিন্তু সঞ্চয়ই শেষ কথা নয়। সঞ্চয় আপনাকে নিরাপত্তা দেয়, বিনিয়োগ আপনাকে এগিয়ে নেয়। শুধু টাকা জমালে ভবিষ্যৎ চলে। কিন্তু টাকা বাড়াতে শিখলে ভবিষ্যৎ বদলে যায়।

সূত্র: ওয়েলথ ইনসাইট

আরও পড়ুন