শিক্ষার্থীরা যেন বেকার না থাকে, এ ব্যাপারে এডওয়ার্ড কলেজের কী উদ্যোগ; প্রশ্নে যা বললেন অধ্যক্ষ

দীর্ঘদিন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের উপাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন মো. আব্দুল আউয়াল। তিন মাস হলো অধ্যক্ষর দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সরোয়ার মোর্শেদ

প্রথম আলো:

দায়িত্ব নেওয়ার পর কলেজে কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছেন?

মো. আব্দুল আউয়াল: অবকাঠামোগত ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কলেজের রাস্তাগুলো ভাঙা ছিল, হলগুলো জরাজীর্ণ ছিল। সেগুলো সংস্কার করা হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ফুলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্যানটিন বন্ধ, চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছাত্র সংসদ ভবন, মসজিদ ও একাডেমিক ভবন তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। অন্যদিকে শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভাগগুলোয় নিয়মিত ক্লাস, সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষকদের ক্যাম্পাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি ব্যবহারিক ক্লাসের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোচিং–নির্ভরতা কমাতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রথম আলো:

আপনার দৃষ্টিতে, এই মুহূর্তে কলেজের বড় সমস্যা কী? সমাধানে আপনারা কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?

মো. আব্দুল আউয়াল: ক্যানটিন নেই, ছাত্রাবাস-ছাত্রীনিবাসের সংকট, একাডেমিক ভবনের সংকট, লাইব্রেরি ভবন জরাজীর্ণ হয়ে আছে। পর্যাপ্ত কম্পিউটার ল্যাব নেই। এসব সমস্যা সমাধানে আবেদন করা হয়েছে।

প্রথম আলো:

এডওয়ার্ড কলেজের এমন কোনো সাম্প্রতিক অর্জন আছে, যেটার কথা সবাইকে জানাতে চান?

মো. আব্দুল আউয়াল: কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো করছেন। প্রতিবছর এখানকার বহু শিক্ষার্থী মেডিক্যাল, বুয়েটসহ বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য নির্বাচিত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বাড়াতে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ক্লাস শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলো:

এই কলেজ থেকে পাস করে অধিকাংশ শিক্ষার্থী কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন? অ্যালামনাইদের সঙ্গে কি আপনারা যোগাযোগ রাখছেন?

মো. আব্দুল আউয়াল: কলেজের রেজাল্ট ভালো। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বিসিএসের জন্য চেষ্টা করেন। অনেকেই বিসিএস পাস করে ভালো অবস্থানে আছেন। অন্যদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। কেউ কেউ উদ্যোক্তা হয়েছেন। ব্যবসা করে সফলতা অর্জন করেছেন। অ্যালামনাইদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়, তাঁদের সাফল্যর গল্প শুনে ভালো লাগে।

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আউয়াল
ছবি: প্রথম আলো
প্রথম আলো:

কদিন আগে পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়কের ১৮টি পদে নিয়োগ হয়েছে, তার মধ্যে ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত। যে পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস, সেই পদের জন্য বিএসসি প্রকৌশলী, এমবিএ ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করেছেন। আপনার কী মনে হয়, কেন এই অবস্থা তৈরি হলো?

মো. আব্দুল আউয়াল: বিষয়টি ভাবনার। কিসে পড়লে ভালো হবে, কী পড়লে চাকরি মিলবে, কোন বিষয়ে দেশে লোকবলের ঘাটতি আছে, এসব বিষয় নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন। চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থা চালু হলে এবং নতুন বিষয় খোলা হলে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করি। সরকারকে এ নিয়ে ভাবতে হবে।

প্রথম আলো:

পাস করার পর শিক্ষার্থীরা যেন বেকার না থাকে, এ ব্যাপারে কি আপনারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন?

মো. আব্দুল আউয়াল: বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার জ্ঞান ও ইংরেজিতে দক্ষতা ভীষণ জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা দুটি বিষয়েই দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। দুটি কম্পিউটার ল্যাব করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যবহারিক বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলো:

আমরা জানি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। চাইলেও হয়তো রাতারাতি অনেক কিছু বদলাতে পারবেন না। কিন্তু যদি সুযোগ থাকত, যদি আপনাকে সব রকম সহায়তা করা হতো, আপনি সবার আগে কী পরিবর্তন আনতেন?

মো. আব্দুল আউয়াল: প্রতিটি পরীক্ষার সময় কলেজে ক্লাস বন্ধ থাকে। মডেল পরীক্ষাকেন্দ্র করা হলে ক্লাস বন্ধ থাকত না। অন্যদিকে প্রতিটি বিভাগে আইসিটি ক্লাস খোলা হয়েছে, কিন্তু কোনো শিক্ষক নিয়োগ হয়নি, কম্পিউটার ল্যাব করা হয়নি। সুযোগ থাকলে আমরা আইসিটি শিক্ষক নিয়োগ ও কম্পিউটার ল্যাবের ব্যবস্থা করতাম। এতে শিক্ষার্থীরা কারিগরিভাবে দক্ষ হতে পারত।

প্রথম আলো:

শিক্ষার্থীদের অনেকের মধ্যেই হতাশা। ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। তাঁদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?

মো. আব্দুল আউয়াল: সবার আগে শিক্ষার্থীদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। শুধু ডিগ্রির জন্য পড়লে চলবে না। চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করতে হবে। আর অবশ্যই কম্পিউটার ও ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে।