আপনার সম্পর্কে তো আমরা প্রায় কিছুই জানি না। এদিকে ভেনিসে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে অংশ নিয়ে ও ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডস বাগিয়ে ইতিহাস গড়ে ফেললেন। প্রথমে আপনার সম্পর্কে বলুন।
আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। আমার মা জাতিসংঘে কূটনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেন। ২০০৮ সালে মায়ের চাকরিসূত্রে আমরা মিয়ানমারে চলে যাই। তারপর আবার ২০১৩ সালে ফিলিপাইনে।
এরপর আমি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসি। ম্যাসাচুসেটসে স্মিথ কলেজে ভর্তি হই। সেখানে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রির জন্য আমার মেজর ছিল ইংরেজি সাহিত্য আর মাইনর ছিল ফিল্ম স্টাডিজ।
আমি বরাবরই সিনেমা খুব ভালোবাসি। সিনেমা নিয়ে পড়তাম, লিখতাম। লেখালিখির সুবাদে আমি স্মিথ কলেজ থেকে অনেক পুরস্কার পেয়েছি।
আমাদের স্মিথ কলেজের ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের যিনি চেয়ারপারসন, জেন মালকোভস্কি, উনি আমাকে খুবই স্নেহ করেন। উনিই আমাকে রুবাইয়াত হোসেনের কনটাক্ট দেন (রুবাইয়াত হোসেনও স্মিথ কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন)।
আমার মা এখন দিল্লিতে কাজ করেন। ফলে আমি এখন ঢাকা-দিল্লি-নিউইয়র্ক করছি আরকি!
আপনি ঢাকায় এলেন কবে? কী কাজে এলেন?
আমি তো আসলে ঢাকারই মেয়ে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, সবকিছু শেষে ঢাকা আমার ফিরে আসার জায়গা। সেভাবেই ২০২৩ সালে পড়াশোনা শেষে ফিরলাম।
আমি বাংলাদেশের আর্ট, সিনেমা বুঝতে; এগুলো নিয়ে কাজ করতে খুবই আগ্রহী। এটাই তো আমার দেশ, আমার ঘরবাড়ি, আমার সবকিছু।
যখন দেশ ছাড়ি, তখন বয়স ছিল ১০ বছর। ভাবলাম, কয়েক বছর থাকব। কিছু কাজ করব। সেই সময় রুবাইয়াত আপুর সঙ্গে পরিচয় হলো। বাংলাদেশি সিনেমায় ‘মেল গেজ’ (পুরুষ দৃষ্টি) নিয়ে একটা পেপার লেখার কাজ নিয়ে আলাপ হলো শুরুতে।
ব্রিটিশ নারীবাদী সিনেমা তাত্ত্বিক লরা মালভি হলিউডের বা পশ্চিমা সিনেমার আলোকে মেল গেজকে ব্যাখ্যা করেছেন। আমরা সেটাকে বাংলাদেশি সিনেমার আলোকে ব্যাখ্যা করতে চাইছিলাম।
আমরা লেখা শুরু করলাম। তখন রুবাইয়াত আপু বলছিলেন, তাঁর পরবর্তী প্রজেক্টে মেল গেজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তখন আমি নানান কিছু নিয়ে কাজ করছিলাম। কারণ, ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
সিনেমা নিয়ে পড়াশোনার জন্য নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির টিশ স্কুল অব দ্য আর্টসে আবেদন করছিলাম। ক্লাস শুরু হলো। কিছুকাল ব্লাস্টের (বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট) সঙ্গে কাজ করলাম। তখন আমি আবার মানবাধিকার আইন নিয়েও কাজ করতে চাইছিলাম।
ভাবছিলাম, এক বছর কাজ করে আবার আইন নিয়ে পড়তে চলে যাব। তখন রুবাইয়াত আপু জানতে চাইলেন, আমি তাঁর প্রজেক্টে সহকারী হিসেবে কাজ করতে চাই কি না। হাতে সময় ছিল। আগে থেকেই লেখালিখির চর্চা ছিল। আমি চিত্রনাট্যের দলে যুক্ত হয়ে গেলাম। আগে কখনো কোনো সিনেমার সেট দেখিনি। তাই খুবই রোমাঞ্চিত ছিলাম।
প্রোডাকশনের নতুন কেউ এলে আমিই মূলত স্ক্রিপ্ট পড়ে শোনাতাম। এরপর রুবাইয়াত আপু একদিন আমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি লিড কাস্টের জন্য অডিশন দিতে চাই কি না।
আমার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘নাআআ!’ নিজেকে সামলে নিয়ে দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘আচ্ছা, একটু ভেবে জানাই।’ ঘণ্টা তিনেক পর জানালাম, অডিশন দিতে চাই।
এর মধ্যে আমার মা, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলি। তাঁরা আমাকে বোঝায়, এটা আমার জন্য বড় সুযোগ।
রুবাইয়াত হোসেনের মাথায় তো এই চরিত্রের জন্য শুরুতে অন্য কেউ ছিলেন?
হ্যাঁ, হ্যাঁ। খুবই শক্তিশালী গুণী অভিনেত্রী। তিনিও দেশের বাইরে সেটলড।
প্রথম আলো :
বাংলাদেশি?
হ্যাঁ, অবশ্যই। এটা তো একেবারেই ঢাকার গল্প, বাংলাদেশের গল্প।
প্রথম আলো :
আপনার অডিশনের প্রক্রিয়া কেমন ছিল?
খুবই দীর্ঘ আর জটিল প্রক্রিয়া। আরও অনেকেই কিন্তু এই চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছেন। মূল অডিশনের পরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দৃশ্যের ভিডিও করে পাঠাতে হতো।
এরপর মাসের পর মাস চুপচাপ বসে ছিলাম। কোনো আপডেট নেই। ভাবলাম, বোধ হয় আমি চরিত্রটা আর পাব না। অন্য কিছুতে মন দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। একদিন পরিচালক ফোন করে জানালেন, আমি নির্বাচিত হয়েছি!
প্রথম আলো :
আপনি তো এই সিনেমার তিনটি অংশে কাজ করেছেন। প্রি-প্রোডাকশনে চিত্রনাট্যে কাজ করেছেন। চরিত্রটা গড়ে তুলেছেন। তারপর মূল চরিত্র হিসেবে অভিনয় করেছেন। এরপর ভেনিসে দর্শকসারিতে বসে সিনেমাটি দেখলেন। এই তিনটি ‘পয়েন্ট অব ভিউ’ থেকে সিনেমাটিকে কীভাবে দেখলেন?
যখন চিত্রনাট্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন কাজটা আমার জন্য অনেক সহজ ছিল। আমি মূলত একাডেমিক জায়গা থেকে চিত্রনাট্যকে তৈরি করার ক্ষেত্রে ইনপুট দিচ্ছিলাম।
আমরা মহড়া যখন শুরু করলাম, তখন বুঝতে পারলাম, অভিনয় ব্যাপারটা কত সূক্ষ্ম, কত জটিল। যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই, ক্যামেরা সবকিছু বুঝে যায়, ধরে ফেলে; সূক্ষাতিসূক্ষ্ম ব্যাপারস্যাপারও।
ফলে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে গেলেই ধরা! ঠিক ঠিক ওই চরিত্রটাই হয়ে উঠতে হবে। ব্যাপারটা আসলে এর চেয়েও জটিল।
ধরুন, একটা দৃশ্য, মেয়েটা একা একা বেডরুমে একটা কিছু করছে; কিন্তু রুমে তো আসলে আরও ৫–৭ জন আছে। আলো পড়ে আছে ঠিক মুখের ওপর। পরিচালক আমার ওপর ভরসা করেছেন। ভীষণ ঝুঁকি নিয়ে বাজি ধরেছেন। আমি তাই আমার শরীর, মন ও মননে ওই চরিত্রটা হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি।
আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। বিশেষ করে আমার সহশিল্পী শিমু…রিকিতা নিন্দিনী শিমু, আমরা প্রথম দিন থেকেই একসঙ্গে মহড়া করেছি। তিনি ব্রিলিয়ান্ট ব্রিলিয়ান্ট অভিনয়শিল্পী।
আর তৃতীয়ত, যখন দর্শক হিসেবে দেখেছি, সেটা আমার জন্য খুবই আবেগের ছিল। নিজের শরীর থেকে বের হয়ে নিজেকে দেখার (আউট অব বডি এক্সপেরিয়েন্স) মতো একটা ব্যাপার। এত বড় পর্দায় নিজেকে দেখছি, নিজের চিত্রনাট্যটা দেখছি, একটা একটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা।
কেবল যে নিজেকে দেখছি তা-ই নয়, আমাদের সিনেমাটোগ্রাফার যে কী ভালো কাজ করেছেন; সাউন্ড, লাইট, এডিটিং, সহশিল্পীদের কাজ…সব মিলিয়ে সিনেমা যখন শেষ হলো, আমার চোখে পানি। নিজেকে সামলে নিয়ে স্টেজে উঠলাম, প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বললাম। আর সবাই কী যে সুন্দর করে সিনেমাটাকে গ্রহণ করেছেন!
প্রিমিয়ার শেষে যেখানেই গেছি, অন্য যেকোনো স্ক্রিনিংয়ে বা লবিতে অথবা কার্পেটে বা বাইরে…সবাই আমাকে চিনেছে। অন্তত তিনজন আমাকে জানিয়েছে এই বিভাগে আমাদের সিনেমাটাই তার কাছে সবচেয়ে সেরা বলে মনে হয়েছে।
আপনার কাছে সৌন্দর্যের কী মানে?
একটা মানুষের অকৃত্রিমতা। মানে আমি যেমন, নিজেকে সেভাবেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ক্যারি করাই আমার কাছে সৌন্দর্য।
নিজের দুর্বলতা ও নিজের শক্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা আর সেটাকে সুন্দর করে বয়ে নিয়ে বেড়ানো। এর সঙ্গে কারও চেহারা, গায়ের রং, জাতীয়তা বা অন্য কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই।
প্রথম আলো :
আপনার কাছে নারীবাদের সংজ্ঞা কী?
জাতি, ধর্ম, সংস্কৃতি, দেশ, লিঙ্গ বা অন্য যেকোনো কিছু–নির্বিশেষে নিজের জীবনের ওপর নিজের অধিকার থাকা, এটাই মৌলিক ব্যাপার।
প্রথম আলো :
টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (টিফ) যাচ্ছেন?
না। খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমার ফিল্ম স্কুল শুরু হয়ে গেছে। আমি তখন ইতালির ভিসা নিচ্ছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিলাম। এসব তো অনেক পেপারওয়ার্ক। সময়মতো কানাডার ভিসার কাজও করতে পারিনি। সময় পাইনি আসলে। আমাদের দল থেকে সম্ভবত রুবাইয়াত আপু আর শিমু যাচ্ছেন।
প্রথম আলো :
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি একটি বাক্যে কী বলতে চায়?
কেবল ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ই নয়, রুবাইয়াত হোসেনের কোনো সিনেমা সম্পর্কেই এক বা দুই লাইনে বলা যায় না। কারণ, সিনেমাগুলো এত সোজাসাপটা নয়। একটা সিনেমার অনেক স্তর থাকে। সেসব আবার একটার সঙ্গে আরেকটা জড়িয়ে-পেঁচিয়ে থাকে।
খুব সহজে অল্প কথায় বলতে গেলে, এই সিনেমা সৌন্দর্যের প্রচলিত সংজ্ঞাকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে গড়তে চায়। মানে সিনড্রেলার সেই রূপকথার গল্পটাকেই ভেঙে নতুন ভাষায় বলে। যেখানে সমাজের লেন্স দিয়ে বা বাইরের চোখে যেটা ‘ফেইরি টেল’, সেটাই মূল চরিত্রের ভেতরে ‘গোস্ট স্টোরি’ হয়ে চলতে থাকে।
বাইরে থেকে দেখলে, মেয়েটার ‘সো কলড খুব ভালো’ বিয়ে হচ্ছে। সবাই বাহবা দিচ্ছে; কিন্তু এদিকে মেয়েটার ভেতরে ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। মানে সমাজের মাপকাঠিতে তাঁর জীবন একদম ‘পারফেক্ট’; কিন্তু তাঁর নিজের জন্য সেটা একটা হরর ব্যাপার।
আপনার ভেনিসের ওয়ার্ডরোব নিয়ে কথা বলি। প্রিমিয়ারে তো আপনারা সবাই জামদানি পরেছেন। আপনার কলাপাতারঙা শাড়ির সঙ্গে টপে গোলাপির ওই শেডটা একটা আরেকটাকে এত কমপ্লিমেন্ট করেছে! সঙ্গে আবার স্নিকার্স…
হ্যাঁ। আমরা সবাই আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম, জামদানি পরব। আমাদের সবার জামদানি তৈরি করেছে দেশি ফ্যাশন হাউস ‘নব’।
আমরা সবাই বাংলাদেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ডকে তুলে ধরতে চেয়েছি। এটা নিজেদের সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে, ছড়িয়ে দিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের সিনেমার বিয়ের শাড়িটিও ‘নব’ তৈরি করেছে। ওরা অসম্ভব সুন্দর নকশার হালকা কিন্তু জমকালো জামদানি তৈরি করে। আমি কিন্তু শাড়ির টপের সঙ্গে বো-টাই পরেছিলাম। আর স্নিকার্সও পরেছিলাম। কারণ, ফ্যাশনের ভেতর দিয়ে তো আমি নিজেকেও প্রকাশ করছি।
আমার স্টাইলিংয়ের আলাদা দল ছিল, আমরা সবাই মিলেই শাড়ি আর টপের ওই কম্বিনেশনটা বাছাই করেছিলাম। আমি খুবই রঙিন মানুষ। রং আমার খুব পছন্দ।
ব্যাকড্রপে সমুদ্র থাকলে, লালগালিচা থাকলে—এসব বিবেচনায় রেখে কেমন লাগবে, এসব ভেবেই পোশাক ও রং বাছাই করা।
প্রথম আলো :
প্রাডার ককটেল পার্টিতে পরেছেন বারগেন্ডি রঙের স্লিট প্লিটেড স্কার্ট আর করসেট টপ। র্যাপ স্কার্টের ভাঁজগুলো আর ফিনিশিংও এত নিঁখুত। এটা কার করা?
হ্যাঁ। কী সুন্দর, না? এই ডিজাইনারের নাম মৌরিন জহির। উনার ফ্যাশন হাউসের নাম ‘মায়া ঢাকা’।
আমি মৌরিনকে বলেছিলাম, আমার জন্য এমন একটা কিছু বানাতে, যেটাতে বাংলাদেশ আর পশ্চিমার একটা মেলবন্ধন থাকে। আমি যেমনটা। তো টপটায় ডালিম আর কৃষ্ণচূড়া ফুলের মোটিফে এম্ব্রয়ডারি করা।
আর করসেট টপটার সাইডগুলায় নকশি সেলাই। প্রাডা ফাউন্ডেশন এ বছর থেকেই সিনেমায় অনুদান দেওয়া শুরু করেছে।
আমাদের সিনেমাটাই প্রথম সিনেমা হিসেবে পোস্ট-প্রোডাকশনে সেই ফান্ড পায়। প্রাডা আমাদের সিনেমাটাকে (অন্যতম প্রযোজক হিসেবে প্রাডারও সিনেমা) উদযাপন করার জন্য প্রিমিয়ার শেষে সুন্দর একটা ককটেল পার্টির আয়োজন করে।
এই স্কার্ট-টপের সঙ্গে জুতা নিয়ে আমার স্টাইলিং টিমের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। শেষে আমি যে রংচঙা জুতাটা পরতে চেয়েছি, সেটাই পরেছি।
প্রথম আলো :
আলাপের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিওতে আপনাকে বড় বড় ফুল-ফুল থ্রিডি মোটিফে নকশি সেলাইয়ের কালো জাম্পস্যুটে দেখলাম। ওটা তো দেখেই মনে হচ্ছে পরে খুব আরাম…
একদম। ওটা ভেনিসে আমার ফাইনাল লুক ছিল। বানিয়েছেন ‘সিজ বাই এসএস’–এর সামাহা সুবাহ।
প্রথম আলো :
এরপর? সামনে কী করতে চলেছেন?
আমি অভিনয়টা তো করতেই চাই; কিন্তু যে ধরনের সিনেমায় অভিনয় করতে চাই, যেমন নারীবাদী, আর্ট হাউসের সিনেমা—এই ধরনের কাজ তো খুবই কম হয়। তাই ভাবলাম, যদি এই ধরনের সিনেমায় কাজ করতে চাই, তাহলে নিজেকেই বানাতে হবে।
তাই এখন সিনেমা পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করছি। ভবিষ্যতে সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা, পরিচালনা ও অভিনয়ের ইচ্ছা আছে।
প্রথম আলো :
ধন্যবাদ, এত ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকটা সময় দেওয়ার জন্য।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আমি এই সাক্ষাৎকারে ভেতর দিয়ে কেবল আরেকটা কথা বলতে চাই। সেটা হলো, এখনো আমি সাক্ষাৎকারে অনেকটুকু ইংরেজিতে কথা বলি। বাংলাটা ভালোভাবে শেখার চেষ্টা করছি। বাংলা সাহিত্য পড়ছি। গান, পডকাস্ট শুনছি।
বাংলা তো খুবই মিষ্টি, সুন্দর একটা ভাষা। আমার মাতৃভাষা। আশা করছি, যখন সিনেমা মুক্তির সময় বাংলাদেশে যাব, তখন আরও সুন্দর করে বাংলায় কথা বলব। এখনকার মতো ক্ষমাপ্রার্থী।