এআই যুগে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়া কি আরও চ্যালেঞ্জিং

এআইকে ‘শর্টকাট’ না ভেবে ‘লার্নিং টুল’ হিসেবে ব্যবহারের মানসিকতা থাকতে হবে
ছবি: সুমন ইউসুফ, কৃতজ্ঞতা: সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি

‘আমরা এআই সুনামির চূড়াটুকু কেবল দেখতে পাচ্ছি’ বলেছেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাবিষয়ক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জ্যানেট উইং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব ইতিমধ্যে প্রযুক্তি দুনিয়ার নানা স্তরে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কম্পিউটারবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন নিয়ে আছে নানা আলোচনা।

কয়েক সেকেন্ডে কোড লিখে দিচ্ছে এআই। ভুল ধরিয়ে দিচ্ছে, এমনকি পুরো অ্যাপ্লিকেশনের কাঠামোও প্রস্তাব করছে। ফলে অনেকের মনে প্রোগ্রামারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অনেকে ভাবছেন, এই পেশা কি গুরুত্ব হারাবে? এআইয়ের দাপুটে এ সময়ে কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল পড়া কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে?

আরও পড়ুন

তবে এই আশঙ্কাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন কম্পিউটারবিজ্ঞানী মার্কাস ফনটোরা। টাইম ডটকমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, এআইয়ের কাছে সফটওয়্যার খাতই সবচেয়ে ‘সহজলভ্য গিনিপিগ’, বিষয়টি এমন না। প্রোগ্রামিং ভাষার উন্নতি হচ্ছে, কম্পিউটারের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলাচ্ছে, এসবের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিবর্তন খুব স্বাভাবিক। তবে এতে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের প্রয়োজন কমে যাবে—এমন না। আমাদের এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। আমাদের এমন দক্ষ মানুষ লাগবে, যাঁরা ক্রিটিক্যালি চিন্তা করতে পারেন, কঠিন সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

দক্ষতার বিকল্প নেই

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইকে ‘শর্টকাট’ না ভেবে ‘লার্নিং টুল’ হিসেবে ব্যবহারের মানসিকতা থাকতে হবে। নিজে যাত্রীর আসনে বসে এআইকে চালকের আসন ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কম্পিউটারবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের এআইকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে, যেন নিজের চিন্তা ও কোড বোঝার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্রাথমিকভাবে কোড শিখতে এআই ব্যবহার না করাই ভালো।

আবার এআইয়ের এই যুগে কেবল গতানুগতিক কোডিং পারলেই চলবে না। সমস্যা সমাধান ও বিশ্লেষণী (অ্যানালিটিক্যাল) দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দক্ষ প্রোগ্রামার বা দক্ষ কোডারদের জন্য কাজের সুযোগটা এ সময় আরও বেড়ে যাচ্ছে। কারণ, বিভিন্ন ধরনের এআই টুল ব্যবহারের কারণে কর্মক্ষমতা বাড়ছে, ফলে তারা আরও বেশি কাজ করার সুযোগ পাবে।

মনে রাখতে হবে, মানুষ কাজ হারাচ্ছে না; বরং কাজগুলোর রূপান্তর ঘটছে। নিজেকে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

আরও পড়ুন

নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য বলছে, কম্পিউটার ও তথ্য নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন, ২০২৩ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে তাঁদের চাকরির সম্ভাবনা প্রায় ২৬ শতাংশ বাড়বে। এটি অন্যান্য পেশার তুলনায় অনেক বেশি। এই চাকরিগুলোর বড় অংশই এআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, এআই সফটওয়্যার ডেভেলপার ও এআই গবেষকের মতো পদের চাহিদা বাড়ছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হবে। এর বড় একটি অংশ আসবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি খাত থেকে।

স্বাস্থ্য, পরিবহন, অর্থনীতি ও পরিবেশের মতো খাতগুলোতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়; বরং বিভিন্ন শিল্প খাতেও সিএসই শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে কাজের পরিসর বাড়ছে।

পড়াশোনায় এআই

মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) থেকে সম্প্রতি কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে স্নাতক করেছেন জাওয়াদুর রহমান। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে যখন পড়েছেন, তখনো এআই নিয়ে এত আলোচনা ছিল না। জাওয়াদুর বলেন, ‘এআই আসার পর খুব সহজে বিভিন্ন রিসোর্স ব্যবহার করতে পারছি। দেখা যাচ্ছে, আমি হয়তো পাইথন পারি না। আগে হলে পাইথনের ডকুমেন্টেশন পড়ে বা টিউটোরিয়াল দেখে কাজ করা লাগত। এখন আমার হয়তো পাইথনের খুব স্পেসিফিক (নির্দিষ্ট) একটা অ্যাপ্লিকেশন দরকার, এআই ব্যবহার করে আমি খুব সহজে ওইটুকু রিসোর্স পেয়ে যাচ্ছি। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি, প্রতিটটি ক্ষেত্রেই আমরা এখন একটা সঙ্গী পেয়ে গেছি।’