একটা মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে যদি প্রেম প্রেম ভাবই না আসে তাহলে সংসার করা আর কিসের টানে

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে লেখা আহ্বান করেছিল প্রথম আলোর শনিবারের ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভালোবাসার টক–ঝাল–মিষ্টি গল্প লিখে পাঠিয়েছেন পাঠক। কেউ লিখেছেন দুরন্ত প্রেমের গল্প, কেউবা শুনিয়েছেন দূর থেকে ভালোবেসে যাওয়ার অনুভূতি। তেমনই একটি লেখা পড়ুন এখানে।

ছবি: এআই/জেমিনি

সুন্দর চোখের ব্যাপারে আমার একটু অবসেশনের মতো আছে। বিয়ের আগে বাসায় একটা অলিখিত ঘোষণাই দিয়ে রেখেছিলাম—ছেলের চোখ সুন্দর না হলে কিন্তু বিয়ে করব না। আর যা হোক না হোক, ছেলের চোখ মায়া মায়া হওয়া চাই। বাসার সবাই হতভম্ব, একই সঙ্গে বিরক্ত। আমার নানি মুখ মোচড় দিয়ে বলেছে, ‘আয়হায়, এক্কেরে বেহায়া হয়ে গেছে।’

যা বলছিলাম, একটা মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে যদি প্রেম প্রেম ভাবই না আসে তাহলে সংসার করা আর কিসের টানে! চোখ আমার সুন্দর চাই-ই চাই। তাই বলে মেয়েলি হরিণা চোখা চাচ্ছি না আবার গরুর মতো বিশালাক্ষীও না। চোখে মায়া ভাব প্রবল থাকবে, চোখের ভ্রু থাকবে ধনুকের মতো টান টান। তবেই না চোখে চোখ পড়লে প্রেম জমে ক্ষীর হবে।

কিন্তু আমার জন্য যেসব পাত্র আনা হতে থাকল, তাদের আর সব ঠিক থাকলেও চোখ ঠিক নেই। হয় পিঁপড়ের মতো পিনিপিনি, নয়তো মরা মাছের মতো ঠান্ডা চোখ। চোখে কোনো মায়া-মহব্বত নেই।

মনের মতো চোখের দেখা আর মেলে না। বাসায় দুই দিন পরপর বিচারসভা বসে। আম্মা কথা বলা বন্ধ করে দেয়। বড় ভাই তো সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘তোমাদের মেয়ের বিয়ে তোমরাই দাও। আমি এসবে নাই। তার নাকি চোখ লাগবে? তা আমি কি অন্ধ ছেলে ধরে আনি নাকি! যত্তসব।’

আব্বা বলে, ‘ইডিয়ট, স্টুপিড।’

বাস্তবিকই তা–ই। পাত্র আসে আর যায়। অবস্থা দাঁড়ায় এমন পুত্রের বাপ সবুর করিতে পারিতেন কিন্তু কন্যার বাপ সবুর করিতে পারছেন না! একটা প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে তো আর জোর করে বিয়ে দেওয়া যায় না। নয়তো আজ-কালের মধ্যেই রাস্তা থেকে একটা লোক তুলে এনে বিয়ের বন্দোবস্ত করে দিতেন। যে মেয়ে বিসিএস ক্যাডারদের নাক সিঁটিয়ে টাকলা, ভুঁড়িওয়ালা বলে প্রত্যাখ্যান করে, তার উপযুক্ত সাজা এই। রাস্তা থেকে কাউকে ডেকে পত্রপাঠ নগদে বিদায়।

আমি কিন্তু আমার সিদ্ধান্তে অনড়। বাসায় সবাই হতাশ হয়ে হাত গুটিয়ে নেওয়া শুরু করল। আর যা–ই হোক এই মেয়ে বিয়ে নিয়ে সিরিয়াস না৷

কিছুদিন পরই এক বন্ধুকে নিয়ে বাসায় এসেছে বড় ভাই। ছেলেটার মাস তিনেক আগে বউ মরে গেছে। আজ দুপুরে উনি আমাদের সঙ্গে খাবেন, তা খাক, আমার কী সমস্যা! কিন্তু সমস্যা আমারই হলো। যখন প্লেটে ভাত তুলে দিতে যাব, তখনই চোখে চোখ পড়ল। এই সেই চোখ, যার জন্য বাসার সবার সঙ্গে আমার বিশ্বযুদ্ধ।

ছেলেটার আপত্তি ছিল না। নানি শুধু নাক সিঁটিয়ে বলল, ‘এ্যাহ, বিধবা বেডা।’

আরও পড়ুন