এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে আপনার পরিবারের সুরক্ষায় জরুরি কিছু পরামর্শ

লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি এখন প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দ্রুত রান্না, ঝামেলাহীন ব্যবহার আর সহজলভ্যতার কারণে এলপিজির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছেই। তবে সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রান্নাঘর মানেই সারাক্ষণ ব্যস্ততা; কেউ রান্না করছেন, কেউ চা বানাচ্ছেন, আবার শিশুরা ফাঁকে ফাঁকে কিছু খেতে ঢুঁ মারছে। এমন পরিবেশে সামান্য অসতর্কতা থেকেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই আপনি নিজের পরিবারকে রাখতে পারেন নিরাপদ।

ডেলিভারির সময় সিলিন্ডারের সিল ও সেফটি ক্যাপ ঠিক আছে কি না দেখুন
ছবি: প্রথম আলো

এলপিজি কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

  • অনুমোদিত ডিলার বা পরিবেশকের কাছ থেকেই এলপিজি সিলিন্ডার কিনুন।

  • অননুমোদিত দোকান থেকে নেওয়া সিলিন্ডার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

  • ডেলিভারির সময় সিলিন্ডারের সিল ও সেফটি ক্যাপ ঠিক আছে কি না দেখুন।

  • সিল ভাঙা থাকলে সিলিন্ডার নেবেন না।

  • সিলিন্ডারের গায়ে লেখা পরীক্ষার মেয়াদ (ডিএফটি) দেখে নিন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে সেই সিলিন্ডার ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।

  • নতুন সিলিন্ডার লাগানোর সময় জয়েন্টে সাবানের ফেনা লাগিয়ে গ্যাস লিক হচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন।

  • কখনোই আগুন দিয়ে গ্যাস লিক পরীক্ষা করবেন না।

আরও পড়ুন

রান্নার সময় যেসব সতর্কতা জরুরি

  • রান্নাঘরের জানালা-দরজা খোলা রাখুন, যেন বাতাস চলাচল করতে পারে।

  • চুলার কাছে প্লাস্টিক, কাগজ, কাপড় বা দাহ্য বস্তু রাখবেন না।

  • রান্না করার সময় চুলা জ্বালিয়ে রেখে বাইরে চলে যাবেন না।

  • সহজে আগুন ধরে, এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন।

  • রান্না শেষে রেগুলেটরের নবটি অবশ্যই অফ করুন।

চুলার কাছে প্লাস্টিক, কাগজ, কাপড় বা দাহ্য বস্তু রাখবেন না
ছবি: মীর হোসেন

এলপিজি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ

  • দীর্ঘদিন চুলা ব্যবহার না করলে রেগুলেটর খুলে সেফটি ক্যাপ লাগিয়ে রাখুন।

  • সিলিন্ডার সব সময় সোজা অবস্থায় ও খোলা জায়গায় রাখুন।

  • চুলার পাইপ বা সুরক্ষা টিউব প্রতিবছর বদলানো ভালো অভ্যাস।

  • সব সময় আইএসআই বা মানসম্পন্ন পাইপ, রেগুলেটর ও চুলা ব্যবহার করুন।

  • সিলিন্ডার বা যন্ত্রাংশে নিজে কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া বা মেরামতের চেষ্টা করবেন না।

আরও পড়ুন

জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন?

যদি গ্যাসের গন্ধ পান বা লিক সন্দেহ হয়—

  • দ্রুত রেগুলেটর ও চুলার নব বন্ধ করুন।

  • ভয় না পেয়ে সব দরজা-জানালা খুলে দিন, যেন বাতাস ঢোকে।

  • ঘরের সব আগুন, মোমবাতি, কয়েল, আগরবাতি, ধূপ, চুলা নিভিয়ে ফেলুন।

  • বিদ্যুতের সুইচ, ফ্যান, লাইট বা কোনো যন্ত্র স্পর্শ করবেন না।

  • সম্ভব হলে বাইরে থেকে মেইন সুইচ বন্ধ করুন।

  • ডিস্ট্রিবিউটর বা জরুরি সেবায় দ্রুত যোগাযোগ করুন।

মনে রাখবেন, এলপিজি বাতাসের চেয়ে ভারী, তাই এটি নিচে জমে থাকে। ভালোভাবে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

অনুমোদিত ডিলার বা পরিবেশকের কাছ থেকেই এলপিজি সিলিন্ডার কিনুন
ছবি: প্রথম আলো

শেষ কথা

এলপিজি আমাদের জীবন সহজ করেছে, রান্নাবান্না করেছে দ্রুত। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি অবহেলা করলে সেই সুবিধাই বিপদ ডেকে আনতে পারে। সামান্য সচেতনতা, কয়েকটি সহজ অভ্যাস আর নিয়মিত তদারকিই পারে আপনার পরিবারকে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে।

সূত্র: সুপার গ্যাস

আরও পড়ুন