তারপর একের পর মন্তব্য আসতে থাকে। ছবিটির প্রশংসা করে কেউ কেউ লেখেন, ‘শাশ্বত বাঙালি কন্যা। সহজ সরল সাবলীল। বর্তমান থেকে অনেক আধুনিক’, ‘পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।/ও সেই চোখে দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।’ কেউ লিখতে থাকেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একদিন সবাই হারিয়ে যায়’, আশাবাদ ব্যক্ত করে কেউ কেউ লেখেন, ‘আশা করি সবাইকেই খুঁজে পাবেন’, এমন নানা মন্তব্য।

এরই মধ্যে আরেকটি মন্তব্যে আটকে যায় প্রত্যাশার চোখ। নাজিবুর রহমান নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন, ‘এই ছবির সর্ব ডানে যিনি (হাওয়া) তাঁর ছেলে আমি। এবং সর্ব বামে যিনি আছেন নিলু আন্টি, তাঁর সঙ্গেও আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। আশা করছি এই একই রকম ছবি আবার খুব দ্রুত আরেকবার তোলা সম্ভব হবে।’

দুজনের খোঁজ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া প্রত্যাশার মা তখন দারুণ খুশি। ছবিটা বিভিন্ন ব্যক্তিগত আইডি ও পেজ থেকে শেয়ার হতে থাকে। এদিকে প্রত্যাশার চোখে রাতে ঘুম নেই। কিছুক্ষণ পরপর মন্তব্য দেখেন তিনি। এরই মধ্যে দেখেন, একজন লিখেছেন, ‘সবাইকে শুভেচ্ছা, আমি ঝুমা। আমাদের কাছে তখনো সবকিছু স্বপ্ন স্বপ্ন মনে হচ্ছিল।’

প্রত্যাশা তাঁর মা দিলখোশ বেগমকে ঝুমা নামের নারীর বর্তমান ছবি দেখান। ফেসবুকে ছবি দেখে অনেকটাই চিনতে পারেন তিনি। ‘তারপর ঝুমা আন্টিকে উদ্দেশ করে একজন লেখেন, আমি নিলু। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করো। সেদিনই আমরা চারজনকে পেয়ে যাই। আম্মার এত খুশি দেখে আমার চোখে পানি চলে আসে,’ বলেন প্রত্যাশা।

সেদিন প্রথম দিলখোশ বেগমের কথা হয় ঝুমা আবদুল্লাহর সঙ্গে। দিলখোশ বেগম বলেন, ‘ঝুমাকে বললাম, বল তো আমি কে? ও আমাকে পুতুল বলে ডাকল। ওই নামেই স্কুলে ডাকত। মনের অজান্তেই সেই স্কুলের দুরন্ত বালিকা হয়ে গেলাম। আমাদের মধ্যে মান–অভিমান চলল (হাসি)। কেন আগে কেউ খবর নিইনি। ঝুমা বলল, সে–ও তিন বছর আগে এই একই ছবি পোস্ট করে আমাদের খুঁজেছে। তখন কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়েছে। এখন ভালো লাগছে। হারানো সম্পদ ফিরে পেয়েছি। এক দিনের মধ্যেই চার বান্ধবীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন আমরা শুধুই কথাই বলছি।’

আরও দুই বান্ধবীর খোঁজে আছেন এখন পাঁচ বান্ধবী। চলতি সপ্তাহে তাঁদের দেখা হওয়ার কথা। ঝুমা আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করি, ৪৭ বছর পরে দেখা হবে, দেখা হলে কী করবেন? প্রশ্ন শুনেই হেসে বললেন, ‘সেদিন কী হয় এখনই বলতে পারছি না। সেই অনুভূতি সেদিনই বলব।’

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন