পড়াশোনার পাশাপাশি গানের রেওয়াজটাও নিয়মিত করে যাওয়া কতটা কঠিন? সাদমান সাজিদ বলেন, ‘সত্যি বলতে গান কখনো আমার পড়াশোনার জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। কারণ, নিয়মিত রুটিন মেনে একটা নির্দিষ্ট সময় গানের জন্য রাখতাম। এটা জীবনে একধরনের শৃঙ্খলা এনেছে। আমি বলব গান বরং আমার পড়াশোনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। কারণ, গানের মাধ্যমে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, মনের ওপর চাপ কমে যায়।’ বোঝা গেল, প্রকৌশলের জটিল হিসাব–নিকাশ যখন সাদমানকে ক্লান্ত করে, তখন গানের কাছেই তিনি দুদণ্ড শান্তি খুঁজে পান।

অর্জনে অনন্য

সংগীতের ভুবনে সাদমান সাজিদের অর্জনের তালিকা বেশ লম্বা। সংগীত বিভাগে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছেন ১৩ বার। শুধু গান নয়, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন বিভাগেও জাতীয় পুরস্কার আছে সাদমানের ঝুলিতে। প্রথম আলো আয়োজিত ভাষা প্রতিযোগে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত টানা তিন বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বর্ণপদক নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সামনে মঞ্চে গান করেছেন, এটাও তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি।

২০২২ সালে আরটিভি আয়োজিত রিয়েলিটি শো টফি স্টার সার্চে দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন তিনি। বিটিভি, আরটিভি, মাছরাঙা, এটিএন নিউজ, মাই টিভিসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেলে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে যুক্ত আছেন এই তরুণ। এসবের পাশাপাশি নিজের মৌলিক গানের কাজও করছেন সাদমান। বলছিলেন, ‘আমার প্রথম মৌলিক গান প্রকাশিত হয়েছে। “আকাশ দিলাম” শিরোনামের গানটি জি সিরিজ থেকে বের হওয়ার পর বেশ ভালো সাড়াও পেয়েছি।’

স্বপ্ন বহুদূর

একটা সময় পর্যন্ত গান সাদমানের জীবনে স্রেফ শখ হিসেবেই ছিল। পরিবারের সমর্থন পেয়ে এখন নিজেকে তিনি পেশাদার সংগীতশিল্পী ভাবতেই পছন্দ করেন। সব মিলিয়ে নিজের গণ্ডির বাইরে একটা পরিচিতি তৈরি হচ্ছে, ব্যাপারটা উপভোগ করেন তিনি। যদিও সংগীতকেই পুরোপুরি পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবছেন না তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘আসলে গানের প্রতি আমার ভালোবাসাটা একটু বিশেষ। তবে একাডেমিক দিকটাতে আমি একটু বেশি ফোকাস করতে চাই। আপাতত আমি পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ভাবছি। যে দেশেই যাই, যে বিষয়েই পড়ালেখা করি, গানের কাছাকাছি থাকব সব সময়।’