তোমার জীবনেও এমন কেউ আসুক, বলুক, চলো বৃষ্টিতে ভিজি
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে লেখা আহ্বান করেছিল প্রথম আলোর শনিবারের ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভালোবাসার টক–ঝাল–মিষ্টি গল্প লিখে পাঠিয়েছেন পাঠক। কেউ লিখেছেন দুরন্ত প্রেমের গল্প, কেউবা শুনিয়েছেন দূর থেকে ভালোবেসে যাওয়ার অনুভূতি। তেমনই একটি লেখা পড়ুন এখানে।
দীপা আমাদের বান্ধবী। আমরা দীপু বলে ডাকি। ওকে নিয়ে বন্ধুমহলে বেশ কথা হতো একসময়। ওর কথাবার্তাই বলে দিত, ও খুব বাস্তববাদী। কিন্তু ওকে নিয়ে অনেকেই অবাস্তব কল্পনায় ডুবে থাকত। ওর সঙ্গে কথা বলার নানা অজুহাত খুঁজত। কেউ কেউ হয়তো কথা বলার সুযোগও পেয়ে যেত। তারপর নানা রকম গল্প বানিয়ে বানিয়ে আমাদের শোনাত।
আমাকে কিন্তু তেমন অজুহাত খুঁজতে হলো না। আমার স্বভাবের কারণেই কি না, জানি না, আমার সঙ্গে একদিন কথা বলতে এগিয়ে এল দীপু। আমার মনে ফাগুন দিনের মতো ফুল ফুটতে লাগল। বন্ধুরা আমার পিছু ছাড়ল না। তাদের বানিয়ে তোলা গল্প শুনতে শুনতে আমিও কেমন যেন হয়ে উঠলাম। কথায় বলে, ‘দশচক্রে ভগবান ভূত।’ আমাকেও ভূতে পেয়ে বসল। দীপু তখন আমার ভেতরে-বাইরে আলাদা একটা সেতু তৈরি করল। ভাবছিলাম কথাটা বলেই ফেলব।
এর মধ্যেই এক তুমুল বৃষ্টির দিনে দীপু আমাকে ফোন করে, ‘কোথায়?’
‘হলে। একটু পর ক্যাম্পাসে যাব।’
দীপু বলল, ‘আমাকে একটা ছাতা জোগাড় করে দিতে পারবে? বৃষ্টিতে ক্যাম্পাসে আটকা পড়েছি।’
একটা ছাতা জোগাড় করে হাঁটতে হাঁটতে ক্যাম্পাসের দিকে যেতে থাকি। এইটুকু পথেই কত গল্প জমা হয় মনে!
ছাতাটি দীপুর হাতে দিতেই তার সে কী উচ্ছ্বাস! একফাঁকে বলল, ‘তোমাকে বলাই হয়নি, আমার বন্ধু আনাম এসেছে। ওকেই রিসিভ করতে যাচ্ছি। ওর সঙ্গে আমার তিন বছরের অ্যাফেয়ার।’
আমি কিছু বলতে পারি না।
‘তোমার জীবনেও এমন কেউ আসুক, বলুক, চলো বৃষ্টিতে ভিজি,’ হেসে এই কথা বলে চলে গেল দীপু।
আমি ভিজলাম। চোখের কোণে কয়েক ফোঁটা অশ্রু আড়াল করল এই বৃষ্টি। চার্লি চ্যাপলিনের কথা মনে পড়ল, ‘আমি বৃষ্টিতে হাঁটি, যাতে কেউ আমার অশ্রু দেখতে না পারে।’
আমিও হাঁটলাম। মনে হলো, এ পথ ফুরানোর নয়।
তারপর বন্ধুরা কত দিন জানতে চেয়েছে, সেদিন দীপু আসলে কী বলতে এসেছিল। আমি কিছুই বলতে পারি না। আমি বলতে পারব না। নোটের মতো সামান্য জিনিসের কথা কি বলা যায়!