শনিবারে ফুটবলার, রোববারে রেফারি: স্তেফানি ফ্রাপা

স্তেফানি ফ্রাপার বয়স এখন ৩৮ বছর। ফ্রান্সের হার্বলে-সার-সেইনে বেড়ে উঠেছেন এই নারী। সবাই যখন ফুটবল শেখেন, সেই সময় থেকে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ফ্রাপা। দ্য আটলান্টিককে ফ্রাপা জানান, ১৩ বছর বয়স থেকে প্রতি শনিবারে ফুটবল খেলি আর রোববারে রেফারির কাজ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পরে পড়াশোনার বিষয় হিসেবে খেলাধুলাকেই বেছে নিই।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে অনুর্ধ্ব–১৯ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্তেফানি। এখন তো ফুটবল মাঠের রীতিমতো তারকা। সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে এই রেফারি জানান, ‘খেলার সময় স্টেডিয়ামে যখন ছুটে বেড়াই, আমার উদ্দেশ্য চিৎকার করতে থাকেন দর্শক। মাঠ থেকে তাঁদের দিকে তাকালে দেখতে পাই, আমার উদ্দেশে তাঁরা হাত নাড়ছেন, শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।'

নিজেকে সাধারণ ভাবতে ভালোবাসেন ফ্রাপা, তিনি বলেন ‘আমি মনে করি না আমি প্রথা ভাঙছি বা ইতিহাস তৈরি করছি; আমি শুধু আমার কাজটাই করে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’ কাউকে অনুসরণ করেন না বলে তিনি জানান, ‘আমার কাছে কোনো ব্যক্তি–আদর্শ রোল মডেল নন। আমি মনে করি, সবাই আলাদা। নিজেকে নিজের মতো করে গড়তে হবে। অনেকেই এখন রাস্তায় দেখলে আমাকে চিনতে পারেন, এটাই আমার কাছে একমাত্র পার্থক্য মনে হয়।’

কৈশোরে মিডফিল্ডে খেলতেন ফ্রাপা। ফুটবলকে ভীষণ ভালোবাসেন জানিয়ে ফ্রাপা বলেন, ‘একজন নারী হিসেবে অনেক কিছু প্রমাণ করতে হয় আমাদের। ফুটবল মাঠেও কমবেশি নিজেকে প্রমাণ করতে হচ্ছে।’ তারকা রেফারি হিসেবে ইউরোপিয়ান ফুটবল ইউনিয়ন উয়েফার চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্রাপা উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে প্রতি ম্যাচে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ৮০০ ইউরো আয় করেন তিনি। নিজের কাজ নিয়ে মাঠে বেশ সমীহ পান ফ্রাপা। লিভারপুল ক্লাবের কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ উয়েফা সুপারকাপ ফাইনালের পরে তিনি বলেন, 'আপনি ফ্রাপার চেয়ে ভালো খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না।’ ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাব ফুটবল মাচে পর্তুগিজ ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থেকে শুরু করে ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পের পায়ের বল নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ফ্রাপা।