যেভাবে বুয়েট থেকে সরাসরি পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সুযোগ পেলেন আলফাজ
পিএইচডিকে বলা হয় সর্বোচ্চ একাডেমিক ডিগ্রি। শিক্ষার্থীরা সাধারণত অনার্স, মাস্টার্স শেষে পিএইচডির প্রস্তুতি নেন। তবে মাস্টার্সের আগেও কিন্তু চাইলে পিএইচডির ট্রেনে চড়ে বসা যায়। বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থীই স্নাতক শেষে পিএইচডি শুরু করছেন। তাঁদের একজনের গল্প শোনাচ্ছেন ফুয়াদ পাবলো।
‘আমি কখনোই আলাদাভাবে মাস্টার্সের পরিকল্পনা করিনি। শুরু থেকেই জানতাম, যদি গবেষণার প্রতি আগ্রহ থাকে, স্নাতক শেষ করেই পিএইচডিতে আবেদন করা সম্ভব,’ বলছিলেন বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র আলফাজ উদ্দিন আহমেদ। প্রথম বর্ষ থেকেই আলফাজ ঠিক করে রেখেছিলেন, একটি গবেষণামুখী প্রোফাইল তৈরি করবেন। বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর সিনিয়র ভাইবোন ও শিক্ষকদের পরামর্শ, বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তাঁকে আন্তর্জাতিক একাডেমিক কাঠামো সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে। এখান থেকেই তিনি জানতে পারেন, কঠোর পরিশ্রম আর পরিকল্পনা থাকলে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি পিএইচডির সুযোগ আসতে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন আলফাজ।
গবেষণার প্রতি আগ্রহ জন্মেছিল স্নাতকের থিসিস ও একাডেমিক প্রজেক্ট থেকে। সমস্যার সমাধান, ডেটা বিশ্লেষণ, নতুন ফলাফল খুঁজতে গিয়ে টের পেয়েছিলেন, কাজগুলো তিনি উপভোগ করছেন। আলফাজ বলেন, ‘থিসিসের বিষয় নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি এমন একটা বিষয় বেছে নিয়েছি, যেটা সময়োপযোগী, গবেষণাভিত্তিক এবং ভবিষ্যতের পিএইচডির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই কৌশলে এগোলে সবার জন্যই অফার পাওয়াটা সহজ হতে পারে। আমি মনে করি, এ সিদ্ধান্ত আমার প্রোফাইলকে শক্তিশালী করেছে।’
সিজিপিএ গুরুত্বপূর্ণ বলে মানলেও আলফাজ মনে করেন সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে গবেষণার অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা ও অধ্যাপকদের দেওয়া শক্তিশালী সুপারিশপত্র। এ ছাড়া আবেদনের সময় তিনি সম্ভাব্য সুপারভাইজারের কাজ খুঁটিয়ে দেখতেন। কাস্টমাইজড (বিশেষায়িত) ই–মেইল পাঠাতেন। আলফাজ বলেন, ‘হাজার হাজার আবেদনকারীর ভিড়ে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরতে হলে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে, আপনি কেন এই গবেষণার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। আমি তাই সব সময় বেশ ভালোভাবে রিসার্চ করে সেই অনুযায়ী মেইল করতাম।’
তবে সবকিছু এতটাও সহজ ছিল না। আলফাজ বলেন, ‘পুরো জার্নিতে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল তীব্র প্রতিযোগিতা। প্রতি ইনটেকে প্রফেসররা হাজার হাজার ই–মেইল পান। সেই ভিড়ে নিজের প্রোফাইলকে আলাদা করে তুলে ধরা খুবই চ্যালেঞ্জিং। পাশাপাশি আমি ফুলটাইম চাকরি করছিলাম। সবকিছু একসঙ্গে ম্যানেজ করা মানসিক ও শারীরিকভাবে কঠিন ছিল। তবু পরিকল্পিতভাবে সময় ভাগাভাগি করে, নিজের কাজ কৌশলগতভাবে (স্ট্র্যাটেজিক্যালি) উপস্থাপন করে এই বাধা অতিক্রম করেছি।’
ছোটদের জন্য আলফাজের পরামর্শ, ‘শুরুটা যত দ্রুত সম্ভব করুন। প্রথম বর্ষ থেকে গোছানো প্রস্তুতি নিতে পারলে পুরো জার্নিটা সহজ হতে পারে। তাই প্রতিটি প্রজেক্ট, থিসিস বা গবেষণাকাজ আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত হলে ভালো। নিজের প্রোফাইল এমনভাবে তৈরি করুন, যেন সেটা আপনার গল্প বলে।’