default-image

এই গাবুরার এক প্রান্তে রুহুল আমিন শেখ ও ফাতেমা খাতুনের সংসার। ক্যামেরা কাঁধে চলতে চলতেই তাঁদের সঙ্গে পরিচয়। দুজনের সন্তানেরা এখন বড় হয়েছে। আলাদা সংসার তাঁদের। ফাতেমা-রুহুল একাই থাকেন।

জোয়ারের পানি আসে ফাতেমা খাতুন ও রুহুল আমিনের উঠান পর্যন্ত। গোলপাতার ছাউনি দেওয়া তাঁদের কুঁড়েঘর। ঝড়ের বাতাস লাগলে দোলে। তখন ঘরের ভিতসহ অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে দুজন মানুষের। সিডর-আইলার ভয়, কখন না আবার সব লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও জলবায়ুর পরিবর্তন দেখছি। কীভাবে ঘটছে, ক্যামেরায় তা তুলেও রাখছি। ফাতেমা খাতুন, রুহুল আমিনেরা জানেন না, জলবায়ু পরিবর্তন কী? জানেন না, কেন প্রতিবছর বড় ঝড় এসে মিঠাপানির নদী ছাপিয়ে সমুদ্রের নোনাপানি সবকিছু ভাসিয়ে নোনতা করে দেয়।

করোনা মহামারির সময় লকডাউন ও বিধিনিষেধে রুহুল আমিনের মতো বনজীবীদের সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি। এদিকে দীর্ঘদিনের নোনাধরা মাটি ও বাতাসে না হয় কোনো ফসল, না হয় শাকসবজি। গত বছর যেমন তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দেখি, ঘরে সামান্য কিছু চাল (এক কেজিরও কম) আর কিছু আলু-পেঁয়াজ আছে, যা দিয়ে দুজন হয়তো দুবেলা খেতে পারবেন। তারপর?

তারপর কী হবে, তাঁরাও জানেন না। ফাতেমা খাতুন আর রুহুল আমিনের মতো গাবুরার অধিকাংশ মানুষের গল্পই এই। উপকূলীয় বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে যেন ক্ষুধা আর পানীয় জলের হাহাকার। শুধু গাবুরা থেকেই হাজার হাজার মানুষ জীবিকার আশায় ছুটে এসেছে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যের সঙ্গে সুখ—ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে গাবুরাবাসীর জীবন থেকে। সেদিন ছবি দুটি তুলেছিলাম এই জনপদের মানুষদের কথা ভেবে।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন