২০১১ সাল থেকে শখের বশে মেহেদিচিত্র আঁকতে শুরু করেন নুসরাত। তখন ভাবেননি, এই শখই একদিন হয়ে উঠবে পেশা। হেনা আর্টিস্ট বা মেহেদিশিল্পী হিসেবে তিনি নারী-পুরুষের মনোযোগ আর ভালোবাসা কাড়বেন, একদল মেয়ের কর্মসংস্থান করতে পারবেন—এসবও ছিল তাঁর স্বপ্নের অতীত। সবে স্নাতক শেষ করেছেন, এরমধ্যেই মানুষের হাতে মেহেদি এঁকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন নুসরাত।

default-image

পাঁচ বোন এক ভাই নুসরাতরা। বড় বোনদের দেখে তিনি মেহেদি আঁকা শিখেছেন। এখন ২০ জনের একটি দল নিয়ে নানা অনুষ্ঠানে যান মেয়েদের হাত রাঙাতে। শিল্পীসম্মানী নেন অনুষ্ঠান ভেদে। কনেসহ ৩০ থেকে ৫০ জনের হাত রাঙাতে নেন ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। নুসরাত কনের হাতে নকশা আঁকেন, দলের মেয়েরা আঁকেন বাড়ির অন্যদের হাতে। ‘কনের হাত ধরলেই মনের ভেতর নকশা জেগে ওঠে,’ বললেন নুসরাত। এ কারণে তার প্রতিটি নকশা হয় ব্যতিক্রম। কাজটি কেমন লাগে? নুসরাত বলেন, ‘মানুষ এখন অনেক সম্মান করে। কারও বাড়িতে গেলে আপ্যায়ন ও সমাদরের সীমা থাকে না। একবার গুলশান ২–এ একটি ইভেন্টে গেলাম। সেখানে এক বিদেশি পরিবারের সঙ্গে পরিচয় হল। আমার কাজ ও আমাকে তারা এত পছন্দ করল যে, তাদের একটা কুকুর আমাকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিল।’

default-image

ব্যতিক্রমী এ কাজকে পেশা হিসেবে নেওয়াটা নুসরাতের জন্য সহজ ছিল না। শুরুর দিকে কাজে গিয়ে কোথাও কোথাও অবহেলার শিকারও হয়েছেন নুসরাত। ২০১৭ সালের একটি ঘটনার কথা বললেন, ‘এক বাসায় গিয়ে তাদের বলতে শুনলাম “মেহেদিওয়ালি আসছে। বসতে দাও।” ডাইনিং রুমে গরমের মধ্যে বসিয়ে রাখল, ফ্যানটাও ছাড়ল না। নুসরাত জানান, তাঁর দলের সবাই শিক্ষিত। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করছেন।

মেহেদি অনুষ্ঠান শুরু হয় রাতে। কাজ শেষ করতে করতে ১২টা-১টা বেজে যায়। তাঁর ও দলের সদস্যদের অভিভাবকেরা মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেন। নুসরাত জানালেন, কাজ শেষে গাড়িতে করে মেয়েদের বাড়ি পৌঁছে দেন তিনি। নয়তো নিয়ে আসেন নিজের বাসায়। কারও কারও সঙ্গে কাজের জায়গাগুলোতে অভিভাবকেরাও যান। গাজীপুর, সাভার থেকেও অনেক তরুণী নুসরাতের দলে কাজ করতে আসেন। তিনি বলেন, ‘ওরা সঙ্গে ছিল বলেই আজ আমি এই অবস্থানে পৌঁছেছি। আমি ওদের আমার মতো দক্ষ করে তুলছি। আমার বিয়েতে ওরা আমার হাতে মেহেদি পরাবে।’

default-image

মানুষের ত্বকের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাড়িতে বানানো অরগানিক মেহেদি ব্যবহার করেন নুসরাতেরা। তাঁদের ছোট পরিসরের উদ্যোগটি ক্রমশ বড় হচ্ছে। পাকিস্তান, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রে হেনা পাউডার ও হেনা অয়েল বিক্রি করেন তিনি। অনলাইন ও অফলাইনে হেনা আর্টের ওপর ক্লাসও করান।

রূপচর্চা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন