দেশাল নতুন রূপে

নতুন পোশাকের সম্ভার পাওয়া যাবে দেশালের ফ্ল্যাগশিপ স্টোরেছবি: কবির হোসেন

বনানী ১১ নম্বর সড়কের ব্রিজে উঠতেই পাওয়া গেল উৎসবের আমেজ। ব্রিজ থেকে নামতেই রাস্তায় রং-বেরঙের আলপনায় চোখ আটকে যাচ্ছিল। আলপনাই আমাকে পথ চিনিয়ে নিয়ে গেল ১২ নম্বর সড়কের ২৭ নম্বর বাড়ির সামনে। দেশালের লাল রঙের লোগোটি দ্বিতীয় তলায় স্বাগত জানায়। ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বনানীর ১২ নম্বর সড়কে দেশালের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্টোর উদ্বোধন করা হয়। জায়গাটি সাজানো হয়েছে ফ্ল্যাগশিপ স্টোর উদ্বোধন উপলক্ষেই।

ব্যাগসহ অন্যান্য অনুষঙ্গও আছে দেশালের নতুন শাখায়
ছবি: কবির হোসেন

দেশালের কর্ণধার ও ডিজাইনার কনক আদিত্য বলেন, ‘দুই দশক ধরে দেশের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল জগতের সঙ্গে শিল্পী ও শিল্পের যোগসূত্রের মাধ্যমেই এগিয়ে চলেছে দেশাল। এরই ধারাবাহিকতায় দেশাল বনানীতে এ ফ্ল্যাগশিপ স্টোরের যাত্রা শুরু করল। বনানীতেই দেশালের দ্বিতীয় শোরুম চালু করা হয়েছিল। ব্যবসায় কিছুটা নতুনত্ব আনতে দেশালের প্রথম ফ্ল্যাগশিপ একই এলাকায় নবযাত্রা করল। দেশালের নতুন এ ফ্ল্যাগশিপ স্টোরের আয়তন ছয় হাজার বর্গফুট।’

দেশালের এ ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে প্রথমবারের মতো পাওয়া যাবে ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ি। রয়েছে সিল্কের কাপড়। ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে পাওয়া যাবে ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ। এ ছাড়া বরাবরের মতো দেশালে আছে শাড়ি, থ্রি–পিস, টু–পিস, সিঙ্গেল কামিজ, ওড়না, পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও কুর্তা। ছেলেদের জন্য আছে পাঞ্জাবি, পায়জামা, শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়াসহ ছোটদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক।

শিশুদের জন্য দেশালের সুতির পোশাক
ছবি: কবির হোসেন

দেশালের একেকটি ডিজাইন, পোশাক ও পণ্য যেন একেকটি ভ্রাম্যমাণ শিল্পকর্ম। একজন শিল্পীর সৃষ্টিকে প্রদর্শনীর দেয়াল থেকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত করার এই প্রচেষ্টা দেশালকে নিয়ে গেছে ভিন্ন এক উচ্চতায়। এই প্রচেষ্টাকেই আরও একটু এগিয়ে নিতে দেশাল হাজির হচ্ছে তার প্রথম ফ্ল্যাগশিপ স্টোর নিয়ে। বনানীর এই ফ্ল্যাগশিপ স্টোর উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশাল পৌঁছাতে চায় ক্রেতাদের আরও কাছাকাছি, জানান কনক আদিত্য।

ইশরাত জাহান, সবুজ সিদ্দিকী ও কনক আদিত্য—তিন বন্ধুর হাত ধরে ২০০৫ সালের ১০ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে দেশাল। শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে একমাত্র শাখা দিয়ে শুরু করা দেশাল আজ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকার বাইরে সিলেট ও চট্টগ্রামেও। বনানীর নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্টোরসহ মোট ছয়টি আউটলেট এবং অনলাইন স্টোর নিয়ে দেশাল এগিয়ে চলেছে।

আছে জামদানি শাড়ির সম্ভার
ছবি: কবির হোসেন

প্রথম থেকেই ডিজাইন ও সুতার বুননে দেশাল তুলে ধরতে চেয়েছে স্থানীয় ও আদি সংস্কৃতিকে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি, শিল্প ও তাদের সাহিত্য দেশালের প্রেরণা হয়ে কাজ করেছে। পোশাক, গয়না ও ঘরসজ্জার নানা পণ্য তৈরিতে দেশাল প্রাধান্য দিয়েছে হাতের তাঁত, হাতের কাজ এবং নির্মাতার শিল্পীসত্তাকে। এবার এগুলোর সঙ্গেই আধুনিকতার মিশ্রণ ঘটাতে আরও বিশ্বমানের নানা ধরনের উপকরণ, পাওয়ারলুমের ব্যবহার এবং সাম্প্রতিক নকশা নিয়ে হাজির হয়েছে দেশাল।