নিত্য বর্ষায় বাড়ির নিতান্ত ‘গার্হস্থ্য’ একটি সমস্যার কথা ভাবা যাক। কাপড় ধুয়ে মেলে দেওয়া যাঁর দায়িত্ব, তাঁকে প্রায়ই রোদবৃষ্টির অকস্মাৎ পালাবদলে ধন্দে পড়তে হয়। ছাদে কাপড় মেলবেন কি না, এই নিয়েই দ্বিধায় ভোগেন তিনি। তা বৃষ্টিরও তো সময় মেপে আসার কোনো কারণ নেই। মেঘ সাজে, বৃষ্টি নামে। শহরের তাবৎ সৃষ্টি কিংবা অনাসৃষ্টির ওপর নেমে আসে বৃষ্টি—অঝোর ধারায়, সঙ্গে হয়তো ভিজে যায় ‘প্রায় শুকিয়ে আসা’ কাপড়গুলো। কষ্ট করে যিনি কাপড়গুলো ধুয়ে মেলে দেন, তিনি তো বৃষ্টির ভাবনা ভাববেনই।

মেঘের থেকে বৃষ্টিকণা নেমে এসে পৃথিবী ছোঁয়ার আগে রোজ যদি চলে এই দৌড়ঝাঁপ, কাঁহাতক আর ভালো লাগে বলুন? তবে কাপড় তো ধুতেই হয় বর্ষা-প্লাবনেও। শুকিয়ে নিয়ে আবার ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতেও হয়। করোনাকালে বাইরে গেলে তো ঘরে ফিরেই শুরু হয় সাবান ঘষে কাপড় জীবাণুমুক্ত করার পালা। বর্ষায় কাপড় শুকানোর ঝক্কির কাজটাকে একটু সহজ করে আনার পরামর্শ দিলেন ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত।

যেখানে কাপড় মেলতে পারেন

ছাদে বড় ছাউনি বা ‘শেড’ থাকলে সেখানে কাপড় মেলতে পারেন। এমন ব্যবস্থা না থাকলে ছাদে কাপড় ভিজে যাওয়ার ঝুঁকি থাকেই। সে ক্ষেত্রে বারান্দায় কাপড় শুকানোর জন্য একটা অস্থায়ী ‘শেড’ করে নিতে পারেন, যাতে বৃষ্টির ছাট বারান্দায় না আসে।

· ছাদ-বারান্দা কোথাও সমাধান করা না গেলে অগত্যা ভেজা কাপড় ঘরেই শুকানোর ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু ভেজা কাপড়ের সোঁদা ভাব অন্দরের জন্য ভালো নয় মোটেই। তাই চেষ্টা করুন অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও বাইরের হাওয়ায় কাপড়টা রাখতে, আধাআধি শুকিয়ে এরপর ঘরে আনার কথা ভাবতে পারেন। পারিবারিক কক্ষ, যেখানে আসবাব কম, সাময়িকভাবে মানুষও কম, সেখানে কাপড় মেলতে পারেন। কিংবা মেলে দিন শুকনা বাথরুমে।

আরও যা

ফ্যান ঘুরিয়ে বা চুলার জ্বালানি পুড়িয়ে কাপড় শুকানো উচিত নয়। চুলার ওপর মেলে দেওয়া কাপড় থেকে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

· কাপড় মেলে দেওয়ার জন্য বিশেষ ধরনের দড়ি (তার) কিনতে পাওয়া যায়। এগুলোর নির্দিষ্ট আংটায় হ্যাঙ্গার ঝুলিয়ে দিয়ে সেখানে কাপড় দিতে পারেন। কাপড় শুকানোর ‘স্ট্যান্ড’ও ব্যবহার করা যায়।

· দেয়াল বরাবর কিংবা আসবাবের ওপর দিয়ে ভেজা কাপড় মেলবেন না।

· যেসব কাপড় রোদে-বাতাসে ভালোমতো শুকানোর সুযোগ পাওয়া যায়নি, সেগুলো কিন্তু কড়া রোদ পেলেই রোদে দিয়ে রাখতে হবে আবার।