অলংকরণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী
অলংকরণ: সব্যসাচী মিস্ত্রী

আদিকাল থেকেই মানুষ সৌন্দর্যপ্রেমী। যুগে যুগে রূপচর্চার বিভিন্ন উপকরণের আবিষ্কার বারবারই মানুষের সৌন্দর্যসচেতন চিত্তের পরিচয় দেয়। আর প্রাকৃতিক উপায়ে রূপচর্চা বলতে প্রথমেই যেন ডিমের ব্যবহার এবং এর উপকারিতার প্রসঙ্গটি উঠে আসে।

default-image

রূপচর্চা নিয়ে যাঁরা সচেতন, তাঁরা অনেকেই রাসায়নিক উপাদানযুক্ত সৌন্দর্যসামগ্রী ব্যবহার করেন। তবে দাম আর উপকারিতার কথা চিন্তা করে অনেকেই প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি সৌন্দর্যসামগ্রী বেছে নিয়ে থাকেন। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, এসব ক্ষেত্রে আমাদের হাতের কাছে প্রাকৃতিকভাবে যা পাওয়া যায়, তা-ই যথেষ্ট। প্রোটিনের অন্যতম উৎস ডিম যে শুধু শরীরে প্রোটিনের চাহিদাই পূরণ করে তা নয়, বরং সৌন্দর্যচর্চায়ও রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ত্বক ও চুল পরিচর্যায় ডিমের উপকারিতা এতটাই ব্যাপক যে দেশি-বিদেশি জনপ্রিয় সেলিব্রেটিদের রূপচর্চার প্রিয় উপাদান ডিম।চলুন না এবার আলোচনা করা যাক ডিম দিয়ে ত্বক ও কেশ পরিচর্যার নান দিক নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

ত্বকের যত্নে ডিম

default-image

• ডিমের কুসুম শুষ্ক ত্বক ময়েশ্চারাইজ ও ত্বক নরম-কোমল করতে বিশেষ সহায়ক। এর জন্য সাধারণত একটি ডিমের কুসুম এবং এক চা-চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতিতে পরিষ্কার ত্বকে প্যাকটি লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
• ত্বকে রক্ত চলাচল বজায় রাখতে ডিমের কুসুম একটি অপরিহার্য উপাদান। এ ক্ষেত্রে একটি ডিমের কুসুমের সঙ্গে এক টেবিল চামচ ঘন ক্রিম এবং এক টেবিল চামচ তাজা গাজরের রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা হয়। মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিট ব্যবহারেই এটি ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত করে তোলে।
• ইদানীং ত্বকের ভাঁজ পড়া এবং কালচে ভাব একটি সাধারণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ সমস্যা দূর করতে মটর ডাল বাটা, বাঙ্গির খোসা, ডিমের কুসুম, কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধুর মিশ্রণ বেশ উপকারী।

default-image

• ব্ল্যাকহেডসের সমস্যার দারুণ সমাধান দেবে ডিমের কুসুম। একটি ব্রাশে ডিমের কুসুম মাখিয়ে সেটি নাকে লাগিয়ে একটি কাগজ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এভাবে প্রথম লেয়ারটি শুকিয়ে গেলে আরেকটি লেয়ার লাগিয়ে নিতে হবে। তারপর তা শুকিয়ে গেলে ম্যাসাজ করে কুসুমগরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
• আজকাল এসব সমস্যার চেয়েও প্রকটভাবে যেটিতে বিশেষ করে তরুণ সমাজ ভুগছে তা হলো ব্রণ। এর জন্য প্রয়োজন একটি ডিমের কুসুম, এক চা-চামচ মধু এবং এক চা-চামচ বাদাম তেল। এসব উপাদান একটি পাত্রে এমনভাবে মেশাতে হবে যেন ফেনা ওঠে। এরপর প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর কুসুমগরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে এ সমস্যা থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব। তবে ফেসপ্যাক লাগানোর পর শুকিয়ে এলে তা প্রথমে পানি দিয়ে এবং পরে ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে এবং তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে হবে। তা ছাড়া ত্বকে কোনো ধরনের এলার্জি থাকলে ডিমের প্যাক লাগানোর আগে হাতের কবজিতে অল্প করে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। এভাবে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

চুলের যত্নে ডিম

default-image

আজকাল চুলের যত্নেও ডিমের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ থাকে, যা চুলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গবেষণা বলছে, চুলের হারানো স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে কিংবা ঝলমলে চুল পেতে ডিমের কোনো বিকল্প নেই।
• ডিমের উচ্চ প্রোটিন চুলের ফলিকল স্ট্রেইট করে থাকে। তাই নরম ও মসৃণ চুলের জন্য শুধু কাঁচা ডিম খুব ভালো প্যাক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চুলের দৈর্ঘ্য, ঘনত্ব ও ধরন অনুযায়ী একটি বা দুটি ডিম পুরো মাথায় ত্বক থেকে চুলের ডগা পর্যন্ত ভালোভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। এর ঠিক ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেললে চুল নরম ও মসৃণ হবে।

default-image

• অনেকে আবার তিনটি ডিমের কুসুমের সঙ্গে তিন টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে তাতে আধা কাপ হালকা গরম পানি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে থাকেন। এই মিশ্রণ ভেজা চুলে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেললে চুল সহজেই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, চুলে কাঁচা ডিমের প্যাক লাগালে কখনো গরম পানি দিয়ে ধোয়া যাবে না। এতে চুলে দুর্গন্ধ হতে পারে। আবার চুলে ডিমের প্যাক লাগালে তা কখনো ৩০ মিনিটের বেশি রাখাও উচিত নয়। কারণ ডিমের প্রোটিন চুলের জন্য উপকারী হলেও বেশিক্ষণ রাখলে সেটি চুলের ক্ষতি করে থাকে। সে ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। মনে রাখতে হবে, চুলে ডিমের প্যাক লাগালে অবশ্যই শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে হবে এবং সপ্তাহে একবারের বেশি ডিমের প্যাকের ব্যবহার চুলের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নখের যত্নে ডিম

default-image

• নখের ভঙ্গুরতা দূর করতে আজকাল ডিমের কুসুম এবং মধুর মিশ্রণ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ মিশ্রণে ১৫ মিনিট নখ ভিজিয়ে রেখে পরবর্তী সময়ে তা কুসুমগরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে বেশ উপকার পাওয়া যায়।
খেয়াল করলেই দেখা যায়, প্রাকৃতিক উপায়ে পরিচর্যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাজার থেকে কেনা মূল্যবান প্রসাধনসামগ্রীর চেয়েও ভালো কাজ করে। আর এসব প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে ডিম যেন রাজত্ব করে চলেছে যুগ যুগ ধরে। তাই বলাই যায় রূপচর্চায় ডিম অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

মন্তব্য পড়ুন 0