বিজ্ঞাপন

শজনেপাতা

default-image

শজনেডাঁটার মতো এর পাতাও বিভিন্ন রকম ওষধি গুণাগুণে ভরপুর। এ পাতায় রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন বি ৬, আয়রন, ভিটামিন এ, সি, ম্যাগনেশিয়াম এবং প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। ত্বকের বলিরেখা, ব্রণ এবং দাগছোপ দূর করতে এটি বেশ কার্যকর।

এক চামচ শজনেপাতার গুঁড়ার সঙ্গে আধা চামচ মধু, আধা চামচ গোলাপজল এবং আধা চামচ লেবুর রস যোগ করে ঘন ও মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি ১০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

শজনেপাতার অ্যান্টি–ব্যাকটেরিয়াল উপাদান চুলের খুশকি দূর করতে পারে। এর জন্য নারকেল তেলের সঙ্গে শজনেপাতা পেস্ট মিশিয়ে মাথার ত্বকে এক ঘণ্টা লাগিয়ে অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে খুশকি দূর হওয়ার পাশাপাশি স্ক্যাল্পের শুষ্কভাব দূর হবে।

পানপাতা

default-image

পানপাতা মুখের স্বাদ বাড়ানো বা খাবার হজম করার পাশাপাশি ত্বক ও চুলের নানা সমস্যা সমাধান করতে বেশ সহায়ক। ত্বকে ব্রণ বা অ্যালার্জির সমস্যা দূর করতে ৭-৮টা পানপাতা পানিতে জ্বাল দিয়ে সেই পানি দিয়ে মুখ ধুতে কিংবা গোসল করতে পারেন। এ ছাড়া পানপাতা হলুদের সঙ্গে মিশিয়ে বেটে মুখে লাগালে ব্রণ বা ফুসকুড়ি দ্রুত সেরে যাবে।

পানপাতা ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস। এ জন্য চুল পড়ার হার কমাতে নারকেল তেলের সঙ্গে পানপাতা পেস্ট মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে তিন থেকে চারবার এই মিশ্রণ ব্যবহার করলে চুল ঝরার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং নতুন চুলও গজাবে।

পেয়ারাপাতা

default-image

অনেক দেশে অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন অসুখের চিকিৎসায় পেয়ারাপাতার ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে আছে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি–ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। এর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ধ্বংস করে ত্বকের বার্ধক্য রোধ করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ব্ল্যাকহেডস, ব্রণ কমাতে পেয়ারাপাতা ব্যবহার করা যায়।

২ টেবিল চামচ পেয়ারাপাতার সঙ্গে, আধা চামচ তুলসীপাতা, আধা চামচ গোলাপজল, সামান্য হলুদ ও এক চামচ দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। পরিষ্কার ত্বকে প্যাকটি ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক হবে উজ্জ্বল এবং টান টান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পেয়ারাপাতায় থাকা ভিটামিন বি চুলের গোড়া মজবুত করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এ জন্য কয়েকটি পেয়ারাপাতা পানিতে ২০ মিনিট জ্বাল দিয়ে সেই পানি চুলে ঘণ্টাখানেক লাগিয়ে ধুয়ে ফেললেই হবে।

পেঁপেপাতা

default-image

পেঁপেপাতায় থাকা কার্পাইন ত্বকের স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এ ছাড়া পাতাটিতে বিদ্যমান ভিটামিন আর খনিজ উপাদান যেমন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম আর আয়রন ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে ত্বক ফরসা করে থাকে।
স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক পেতে ২ টেবিল চামচ পেঁপেপাতা বাটার সঙ্গে ১ চা–চামচ চন্দনগুঁড়া মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এ ছাড়া ত্বকের কোনো সংক্রমণ সারাতে, ২ টেবিল চামচ পেঁপেপাতার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ হলুদ বা নিম পাউডার মিশিয়ে মিশ্রণটি সংক্রমিত স্থানে লাগালে উপকার পাওয়া যাবে।

তেজপাতা

default-image

রান্নায় বিশেষ মসলা হিসেবে তেজপাতার জনপ্রিয়তা আছে। কিন্তু এই পাতা ত্বক ও চুলের যত্নেও যে ব্যবহার করা যায়, তা আমরা অনেকেই হয়তো জানি না। তেজপাতা ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করে ব্রণ প্রতিরোধ করতে পারে। ত্বকের সতেজতা বাড়াতে প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে তেজপাতা বেশ কার্যকর।

এক কাপ পানিতে চারটা তেজপাতা দিয়ে জ্বাল দিন। এ পানি ঠান্ডা করে ২ চা–চামচ গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগান। এই পানির সঙ্গে আবার মুলতানি মাটি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। প্যাকটি ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন এই প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক ব্রণমুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া খুশকি ও উকুনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তেজপাতা জ্বাল দেওয়া পানি দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন।

রূপচর্চা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন