ঈদের আগে–পরে হাতের যত্নে যা করবেন

কোরবানির ঈদে মাংস কাটাকাটি আর বারবার পানি ছানাছানির কারণে আমাদের হাতের ওপরই সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। ফলে ঈদের পর দেখা দেয় হাতের শুষ্কতা, রুক্ষতা, নখ ভেঙে যাওয়া কিংবা কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যা। তাই ঈদের আগে ও পরে দুই সময়েই প্রয়োজন হাতের যত্নে চর্চা।

কোরবানির ঈদের আগে এবং পরে ম্যানিকিউর করিয়ে নেওয়া যায়ছবি: প্রথম আলো

ঈদের আগে হাতের যত্ন

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, ঈদের অন্তত তিন দিন আগে থেকেই হাতের যত্ন শুরু করা ভালো। রাতে ঘুমানোর আগে ভালো কোনো হ্যান্ড ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। যাঁদের হাত খুব দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়, তাঁরা গ্লিসারিন, অ্যালোভেরা জেল ও ময়েশ্চারাইজার একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো উপকার পাবেন।

হাত ধোয়ার পর গ্লিসারিন, অ্যালোভেরা জেল ও ময়েশ্চারাইজার একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো উপকার পাবেন
ছবি: প্রথম আলো

ঈদের আগে সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করে হাতের মৃত কোষ পরিষ্কার করলে হাত হবে মসৃণ। শারমিন কচি পরামর্শ দেন, ঈদের আগে অতিরিক্ত লম্বা নখ না রাখাই ভালো। কারণ, মাংস কাটাকাটি বা রান্নার কাজে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় দীর্ঘ নখ। নখ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। এ ছাড়া লম্বা নখ থেকে হতে পারে ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন, যেহেতু এই সময়টায় কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে আসে হাত।

আরও পড়ুন

ঈদের কত দিন আগে ম্যানিকিউর করা উচিত

কোরবানির ঈদের আগে ম্যানিকিউর করাতে পারেন। কারণ, ঈদের দিন থেকেই প্রচুর কাজ করতে হয়। তাই ঈদের তিন থেকে চার দিন আগে ম্যানিকিউর করানো সবচেয়ে ভালো, বলছিলেন শারমিন কচি। এতে হাত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন দেখাবে।

ঈদের পর রিপেয়ার বা হাইড্রেটিং ম্যানিকিউর করিয়ে নেওয়া যায়। এটি নতুন করে হাতের শুষ্কতা, রুক্ষতা ও ক্ষতিগ্রস্ত কিউটিকল সারাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাঁরা রান্না বা মাংস প্রসেসিংয়ের কাজে বেশি সময় দেন, তাঁদের জন্য ঈদের পরের ম্যানিকিউরটি বেশ উপকারী।

আরও পড়ুন

এই সময় নখের পরিচর্যা

কোরবানির সময় নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে কাজ করতে সুবিধা হয়, আবার স্বাস্থ্যবিধিও বজায় থাকে। নিয়মিত নখ পরিষ্কার করা এবং নখের নিচে ময়লা জমতে না দেওয়া জরুরি, বলছিলেন শারমিন কচি। নখ শক্ত রাখতে কিউটিকল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। চাইলে রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য নারকেল তেল বা বাদাম তেল নখে ও কিউটিকলে মালিশ করতে পারেন। এতে নখ কম ভাঙে ও শুষ্কতাও কমে। এ সময় খুব ভারী নেইল আর্ট বা জেল পলিশ এড়িয়ে যান। কারণ, দীর্ঘ সময় পানি ও কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে থাকলে পলিশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এ সময় খুব ভারী নেইল আর্ট বা জেল পলিশ এড়িয়ে যান
ছবি: সুমন ইউসুফ

হাতের শুষ্কতা রোধে কী করবেন

কোরবানির সময় সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো হাত অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া। সারা দিন পানি, সাবান ও ডিটারজেন্ট ব্যবহারের কারণে হাতের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমে যায়। তাই প্রতিবার হাত ধোয়ার পরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার অভ্যাস করতে হবে। খুব কড়া সাবানের বদলে মাইল্ড হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা ভালো। বাসন ধোয়া বা মাংস পরিষ্কারের সময় গ্লাভস ব্যবহার করলে হাত অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে।

আরও পড়ুন