এই গরমে তরমুজে ত্বক তাজা রাখবেন যেভাবে
শুধু তরমুজের ভেতরের অংশ নয়, পুরো ফলই ত্বকের জন্য উপকারী; কেবল জানতে হবে ব্যবহারের পদ্ধতি। অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও প্রচুর পরিমাণ পানিতে ভরপুর সুস্বাদু এই ফল দিয়ে ত্বকচর্চার উপায় জানালেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।
এই গ্রীষ্মে বাইরে থেকে ঘরে ফিরে ঠান্ডা ঠান্ডা তরমুজ খেতে তো আমরা সবাই পছন্দ করি। তবে জানেন কি, রোদে পোড়া ত্বককে ক্লান্তি দূর করে সতেজ করতে গ্রীষ্মকালীন এই ফলের জুড়ি মেলা ভার। তরমুজের লাল অংশ, হালকা সবুজ অংশ, এমনকি খোসার কাছের স্তরটিও পুষ্টিগুণে ভরপুর।
তরমুজ ত্বকের জন্য কেন এত কার্যকর
ত্বক যখন পানিশূন্য হয়ে পড়ে, তখনই দেখা যায় রুক্ষতা, ক্লান্তি ও নিস্তেজ ভাব। তরমুজ ব্যবহার করলে তা ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র করে, আর বাইরে এনে দেয় স্বাভাবিক সতেজতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় তরমুজে থাকা ভিটামিন এ, সি, ই। এগুলো একসঙ্গে ত্বকের কোষকে নতুন করে গড়ে তোলে, কোলাজেন বাড়ায়, ত্বককে রাখে মসৃণ ও টান টান। বিশেষ করে খোসার কাছাকাছি অংশে থাকা ভিটামিন ই ত্বকের ক্ষতি সারিয়ে একে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে (স্কিন রিপেয়ারিং) সাহায্য করে। তরমুজে আছে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যার মধ্যে লাইকোপিন উল্লেখযোগ্য। এটি ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিছুটা রক্ষা করে এবং ত্বকের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। শারমিন কচি বলেন, এই অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ত্বককে শুধু মেরামতই করে না, বরং ভেতর থেকে একটি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা এনে দেয়।
সব ত্বকের জন্যই কি তরমুজ মানানসই
শারমিন কচি বলেন, তরমুজ খুব সহজেই প্রায় সব ধরনের ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে যায়, যেহেতু এখানে তীব্র রাসায়নিক কোনো উপাদান থাকে না। এটি আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনে শুষ্ক ত্বককে নরম করে। তৈলাক্ত ত্বকেও আঠালো ভাব দূর করে এনে দেয় হালকা ও সতেজ অনুভূতি। আর মিশ্র ত্বকের ক্ষেত্রে এটি ত্বকের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, শুধু ত্বকে লাগিয়ে নয়, তরমুজ খাওয়ার মাধ্যমেও কাজ করে। বরং তা অধিক কার্যকর। কারণ, ভেতর থেকে আর্দ্রতা বজায় রাখাই আসলে ত্বকের জন্য বেশি উপকারী।
তরমুজ দিয়ে ঘরোয়া টোটকা
তরমুজ দিয়ে ত্বকচর্চা খুব জটিল কিছু নয়। শুধু খোসা বা রসালো অংশই নয়, ত্বকচর্চায় দারুণ কার্যকর তরমুজের বীজ, জানান শারমিন কচি। এগুলো শুকিয়ে গুঁড়া করে ঘরেই সহজে বানিয়ে নিতে পারবেন প্রাকৃতিক স্ক্রাব, ত্বককে যা আলতোভাবে পরিষ্কার করবে ও ত্বকের মৃত কোষ দূর করবে।
ত্বকে তরমুজ ব্যবহারের আরও কিছু পদ্ধতি হলো—
হাইড্রেটিং প্যাক
তরমুজের রস বা পেস্টের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। সমপরিমাণে দুটি উপাদান মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে লাগালে ত্বক হবে কোমল। মধুর আর্দ্রতার গুণ আর তরমুজের পানি একসঙ্গে ত্বককে গভীরভাবে হাইড্রেট করতে সাহায্য করে।
উজ্জ্বলতার জন্য লেবু
যদি ত্বকে একটু বাড়তি উজ্জ্বলতা চান, তবে তরমুজ পেস্টের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস যোগ করতে পারেন। নিয়মিত লাগালে এটি ধীরে ধীরে ত্বকের দাগ ও রোদপোড়া ভাব কমাতে সাহায্য করবে।
তৈলাক্ত ত্বকে তরমুজের রস
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তরমুজের পেস্ট নয়, বরং রস বেশি কার্যকর। তরমুজের রস মুলতানি মাটি বা যেকোনো শুকনা ফেসপ্যাকের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ত্বকের রোমকূপ কম দৃশ্যমান হয়।
তরমুজের রসের বরফ
তরমুজের রস ছেঁকে নিয়ে ফ্রিজে ছোট ছোট বক্সে রেখে দিতে পারেন। বাইরের গরম থেকে ফিরে এটি মুখে ঘষলে আরামের পাশাপাশি ত্বকের ক্লান্তি ও রোদপোড়া ভাব দূর হতে সাহায্য করবে।
তবে খেয়াল রাখা জরুরি, তরমুজ দিয়ে তৈরি প্যাক, পেস্ট বা রস সব সময় তাজা অবস্থায় ব্যবহার করতে হবে। প্যাক বানিয়ে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ, এতে প্রাকৃতিক উপাদান দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। প্রাকৃতিক উপাদান হলেও সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা উচিত। চোখের আশপাশের নরম ত্বকে এটি ব্যবহার না করাই ভালো।