আশাবাদীরা কি অন্যদের তুলনায় বেশি আয় করেন
গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদী ব্যক্তি সাধারণত বেশি সুস্থ থাকেন ও দীর্ঘজীবী হন। তবে এর মানে এই নয় যে শুধু বসে বসে ইতিবাচক চিন্তা করলেই আপনি দীর্ঘজীবী হয়ে যাবেন। বরং সবচেয়ে উপকারী হলো ‘সক্রিয় আশাবাদী’ হওয়া। অর্থাৎ ভালো ভবিষ্যতের আশা করা ও সেই লক্ষ্য পূরণে ক্রমাগত কাজ করে যাওয়া। কখনোই আশা না ছাড়া।
গবেষণায় এ-ও পাওয়া গেছে, হতাশাবাদীরা আশাবাদীদের তুলনায় কম আয় করেন। কেননা নেতিবাচক চিন্তা, দুশ্চিন্তা ও হতাশা কর্মক্ষমতা এবং কর্মদক্ষতা কমায়। যাঁরা আশাবাদী ও সক্রিয়ভাবে লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করেন, তাঁরা কর্মক্ষেত্রে সাধারণত বেশি সফল হন। ফলে তাঁদের আয়ও তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
কেন আশাবাদীরা বেশি আয় করেন
গবেষকদের মতে কয়েকটি কারণ আছে—
১. আত্মবিশ্বাস বেশি
আশাবাদী মানুষ নিজের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখেন। তাই তাঁরা নতুন সুযোগ নিতে ভয় পান না।
২. ঝুঁকি নিতে সাহসী
ভালো ভবিষ্যতের আশা থাকায় আশাবাদীরা উদ্যমী হন। নতুন কাজ, ব্যবসা বা দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হন। ফলে আশাবাদীরা সহজেই উদ্যোক্তা হতে পারেন।
৩. সমস্যা সমাধানে সক্রিয়
হতাশাবাদীরা অনেক সময় কোনো কাজ শুরুর আগেই সমস্যার ভয়ে পিছিয়ে যান। কিন্তু আশাবাদীরা শুরু করেন আর যেখানে আটকে যান, সেখানে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন।
৪. কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব
ইতিবাচক মনোভাব সহকর্মীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ক্যারিয়ারের জন্য সহায়ক।
৫. গড় আয়ু বেশি
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত হতাশাবাদী বা সব সময় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তিরা গড়ে আশাবাদী মানুষের তুলনায় কম বাঁচেন। কেননা দুশ্চিন্তা বা হতাশা মস্তিষ্ক ও হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করে। ফলে মস্তিষ্ক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষ করে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। আশাবাদীরা বেশি দিন বাঁচেন ও কর্মক্ষম থাকেন। তাই তাঁরা হতাশাবাদীদের তুলনায় বেশি সময় ধরে আয় করতে পারেন।
আশাবাদ কেন উপকারী
গবেষণায় দেখা যায়, আশাবাদী ব্যক্তিরা সাধারণত ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচকভাবে ভাবেন। নিজের সক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখেন। লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। সুযোগ খোঁজেন ও প্রতিনিয়ত নিজের ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যান। কখনোই হাল ছাড়েন না।
সফলতা বা ব্যর্থতার চেয়েও নিজের ক্রমাগত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন বেশি। ‘অ্যাকটিভ অপটিমিজম’ বা সক্রিয় আশাবাদ তাই ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, গড় আয়ু এবং বেশি আয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
সূত্র: সায়েন্স ফোকাস