কেউ খোঁজ দিতে পারবেন?

এই বিভাগে পাঠক তার মনের কথা লিখে পাঠাতে পারেন। নির্বাচিত লেখা ছাপা হবে বুধবারের প্র অধুনাতে। এখানে থাকছে একগুচ্ছ নানা স্বাদের পাঠকের লেখা

মনের বাক্স

তুমি কি হারিয়ে যাবে, অনিন্দিতা

ছুটির দিনগুলোতে আজকাল নিজেকে বড় নিঃসঙ্গ মনে হয়। মনে হয়, একজন কেউ থাকলে মন্দ হতো না। একগাল হেসে রোজ অন্তত তিনবার জিজ্ঞাসা তো করত, কী খবর, মন ভালো, সব ভালো? তোমার ডাক্তারি বিদ্যায় এ অবস্থাকে কী বলে জানি না। আচ্ছা, আমার কথা কি তোমার মনে পড়ে? জানো, কাউকে সুগভীর ভালোবাসলে মানুষ কতটা নিঃস্ব হয়ে যায়।

নিজের ঢোল পেটাতে পারি না, এটা আমার সমস্যা। তাই বলে অনেকের মতো তুমিও কি তুল্যমূল্য মনে করো? সেই সংশয় থেকেই কি অপেক্ষায় রেখেছ! ভাবা যায়, তিন বছর ধরে আজও ফেসবুকে রিকোয়েস্টটা ঝুলে আছে!

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে লেখাপড়ার পাশাপাশি নানা সংগঠন করেছি। তাই কে কী বলতে চায়, সহজেই অনুভব করতে পারি। আর তুমি তো সেই মানুষ যাকে ভালোবাসি, তোমাকে বুঝব না!

শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে বলেন, আমার জন্য বড় লেখক হওয়া কঠিন। আমি না হয় ছোট লেখকই রইলাম। ব্যক্তিজীবনে অন্য কিছু হলাম। নেম-ফেম, কিছুই না হয় হলো না। আমি তো এসব কিছুই চাইনি। তোমাকে চেয়েছি। পাব কি? নাকি তুমিও হারিয়ে যাবে অনিন্দিতা, যেভাবে হারিয়ে যায় অতিথি পাখিরা?

সৌমেন্দ্র গোস্বামী, মতিঝিল, ঢাকা

আমার কোনো বন্ধু নেই

আমি বাংলাদেশের নামকরা একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। প্রকৃতপক্ষে আমার কোনো বন্ধু নেই। সাদাত হোসেনের কবিতার মতো—‘বন্ধু বলে জেনেছি যাদের, তারা কেবল পথ চলতে সঙ্গী ছিল’। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো জায়গাতেই আমি কাউকে প্রকৃত বন্ধু বলে গ্রহণ করতে পারিনি। পারিনি বললে ভুল হবে, আমাকে কেউ বন্ধু বলে ওভাবে গ্রহণ করেনি। ক্লাসের সবার সঙ্গেই আমার এক হৃদ্যতার সম্পর্ক ছিল, এখনো আছে। ভিন্ন ভিন্ন বন্ধু সার্কেলের সঙ্গে আমি স্বাভাবিকভাবেই কথা বলতে পারি, কিন্তু যখন একসঙ্গে খাওয়া বা ঘুরতে যাওয়ার প্রসঙ্গ আসে, কেউ আমাকে জানায় না। এমনকি বন্ধুদের বিয়ের অনুষ্ঠানেও আমি দাওয়াত পাই না, কেউ কেউ বললেও এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন আমি না গেলেই তাদের জন্য ভালো। জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমি আসলেই প্রকৃত বন্ধুর অভাব উপলব্ধি করছি। নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলতেও পারছি না। আমার মতো কারও জীবন যেন না হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

আমি যাদের প্রেমে পড়েছি

কে বলেছে আমি এখনো প্রেমে পড়িনি! বারবার চায়ের প্রেমে পড়েছি। তার চেয়ে দ্বিগুণ প্রেমে পড়েছি শেখ সাদি আর নজরুলের কবিতার। রবীন্দ্রনাথের ব্রহ্মভাবনাগুলো আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়। অতীত আমাকে অনেক ভুল ধরিয়ে দিয়েছে। মাঝেমধ্যে আমি অতীতেরও প্রেমে পড়েছি।

আমি অমাবস্যার থমথমে রাতে ঝিঁঝি পোকার শব্দের প্রেমে পড়েছি। ভ্যানে চড়ে কোথাও যাওয়ার সময় শোঁ শোঁ বাতাসের ক্লান্তিহীন মূহূর্তের প্রেমে পড়েছি। একবার নয়, শত-সহস্রবার এসবের প্রেমে পড়েছি। এরপরও কেউ যদি বলে আমি প্রেমে পড়িনি, তাহলে সে প্রেমের মানে জানে না। আমরা প্রেমকে ভিলেন বানিয়ে ফেলেছি, তাই নিজেদের বদলে ফেলা উচিত। প্রেম ছাড়া কি বেঁচে থাকা যায়?

মারিয়ানা, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

কেউ খোঁজ দিতে পারবেন?

আমরা দুই পরিবার মোবাইল যুগের আগে পাশাপাশি ছিলাম। পরে তারা বদলি হয়ে চলে যায়। আমি সেই লিপি আপুকে খুঁজছি। জানি না আপনি এ লেখা পড়বেন কি না। হতে পারে আপনাকে খুঁজে পাওয়ার এটা এক বৃথা চেষ্টা। আপনার আব্বু চট্টগ্রামে পুলিশে চাকরি করত, আপনি ছিলেন মা–বাবার একমাত্র মেয়ে। মনে আছে, ফাহিমকে আপনি ভাই হিসেবে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। আম্মুও আপনাকে খোঁজার কথা বলছিল। তাই ভাবলাম, এখানে লিখে দেখি। আপনারা কেমন আছেন? আপনার আব্বু-আম্মু বেঁচে আছেন? আপনাদের কথা খুব মনে পড়ে। লেখাটা চোখে পড়লে এই ই-মেইলে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইল: [email protected]

ফাহিম

লেখা পাঠানোর ঠিকানা

মনের বাক্সে পাঠানো যাবে ই–মেইলে, ডাকে এবং প্র অধুনার ফেসবুক পেজের ইনবক্সে।

ই–মেইল ঠিকানা: [email protected] (সাবজেক্ট হিসেবে লিখুন ‘মনের বাক্স’)

ডাক ঠিকানা: প্র অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫। (খামের ওপর লিখুন ‘মনের বাক্স’)

ফেসবুক পেজ: fb.com/Adhuna.PA