ঢাকার এই অভিজাত হোটেলে খাবার খেতে খেতে পড়া যাবে বই
রাজধানীর গুলশানে বইপড়ুয়াদের জন্য নতুন উদ্যোগ চালু করেছে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান হোটেল। হোটেলটির ‘দ্য ডেলি’ লবি ক্যাফেতে শুরু হয়েছে ফ্লোর (ফর লাভ অব রিডিং) নামের পাঠপরিসর। ১২ আগস্ট বুধবার এর উদ্বোধন করা হয়।
একই আয়োজনে ক্যাফের নতুন খাবারের মেনুও উন্মোচন করা হয়েছে। ফলে এক উষ্ণ ও প্রাণবন্ত আয়োজনে সাহিত্য, রসনা ও সংস্কৃতি মিলেছে একই ছাদের নিচে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ‘প্রথম আলো’র নির্বাহী সম্পাদক ও কবি সাজ্জাদ শরিফ। ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকের সঙ্গে তিনি ‘ফ্লোর’-এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে লেখক, প্রকাশক, গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্লোরে নেতৃত্ব, কথাসাহিত্য ও সমকালীন বাংলাদেশের সাহিত্যসহ সাতটি বিভাগে বাছাই করা বই রাখা হয়েছে। দ্য ডেলিতে বসে অতিথিরা কফি বা খাবারের সঙ্গে এসব বই পড়তে পারবেন। বই বাছাইয়ে একটু অনুপ্রেরণা চাইলে প্রতিদিনের ‘বুক পিক অব দ্য ডে’ থেকে বেছে নেওয়া যাবে একটি নির্বাচিত বই।
ফ্লোরের মাধ্যমে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান শুধু বই পড়ার একটি জায়গা তৈরি করতে চায়নি। তাদের লক্ষ্য এমন একটি পরিসর তৈরি করা, যেখানে মানুষ ব্যস্ততাকে কিছু সময়ের জন্য পাশ কাটিয়ে নিজেকে সময় দিতে পারবে, নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পারবে, ভাবনা বিনিময় করতে পারবে এবং বইয়ের চিরন্তন জগতের সঙ্গে আবারও নিবিড় সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে বলেন, ‘আমাদের জীবনের অনেকটা সময় যখন ডিজিটাল পর্দার দখলে, ফ্লোরের মাধ্যমে আমরা মানুষকে একটু থামার, বই হাতে নিয়ে পড়ার সহজ আনন্দ উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা চাই, এটি এমন একটি জায়গা হয়ে উঠুক, যেখানে মানুষ একটু স্থির হবে, নতুন ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হবে এবং সংযোগ তৈরি করবে—একটি বইয়ের সঙ্গে, কথোপকথনের সঙ্গে কিংবা একেবারে নিজের সঙ্গেই।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ধীরে ধীরে বই থেকে দূরে সরে গেছি; আর বই থেকে দূরে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। আমাদের ইতিহাস, জ্ঞান ও মানব-অভিজ্ঞতার বিপুল অংশ বইয়ের পাতায় সংরক্ষিত; অথচ আমরা ক্রমেই সেই বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।’
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের অবস্থান গুলশান–২ গোলচত্বরের বাঁয়ে। ফ্লোর খোলা থাকবে সপ্তাহের প্রতিদিন, যেতে পারেন যেকোনো সময়।