স্রেফ একটা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মারুফ যদি সে সময় সহায়তা চাইতে পারতেন, তাহলে কেমন হতো? এ রকম একটা ভাবনা উপস্থাপন করেই বিশ্বব্যাংক আয়োজিত ‘আইডিয়াবাজ’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ পুরস্কার জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দল ‘সোমোরিটান’। এই দলের সদস্যরা হলেন রাফি বিন দস্তগীর, সৈয়দ তৌসিফ ইসলাম এবং মিশফাকুর রহমান। দলের সদস্যরা জানান, এই অ্যাপের কাজ শুধু জরুরি অবস্থায় মানুষের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়াই নয়; ড্রোনের মতো মনুষ্যবিহীন আকাশযানের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আটকে পড়া মানুষ শনাক্ত করা, স্পিডবোট অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাঁদের উদ্ধার করা—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। দুর্যোগ মোকাবিলায়, উদ্ধার কাজে এবং দুর্গম এলাকায় দুস্থ মানুষের কাছে ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দিতে অ্যাপটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কীভাবে দেশের পরিবেশ–সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো বুদ্ধিদীপ্ত উপায়ে মোকাবিলা করা যায়, এই ছিল ‘আইডিয়াবাজ চ্যাম্পিয়নশিপ’–এর বিষয়। জলবায়ুসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে তরুণদের ভাবনা ও ‘আইডিয়া’ জানতে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করেছিল বিশ্বব্যাংক।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির দল ‘টিম সিওটু কিলারস’। দলটি তাদের প্রস্তাবে বলেছে—দেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের একটি বড় ক্ষেত্র হলো কৃষি। অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন বেড়েছে, তেমনি উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ কৃষি উৎপাদন সেই অর্থে বাড়েনি। ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তির সহায়তায় ‘অ্যাগ্রিসেবা’ নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে এ সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছে ‘টিম সিওটু কিলারস’। ইরিনা আনজুম, সুমাইত তাসনিম এবং মোহাম্মদ এহসানুল হক—এই তিন শিক্ষার্থীর দলটি বলছে, সেন্সরের সহায়তায় মাটির তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং অন্যান্য উপাদানের মান সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষক এবং কৃষিক্ষেত্রে জড়িত পেশাজীবীদের এ অ্যাপ পরবর্তী করণীয় সম্বন্ধে জানিয়ে দেবে। এতে করে পরিকল্পিত পানি এবং কীটনাশক ব্যবহার যেমন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ কমবে। কৃষি উৎপাদনও বাড়বে।

পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে পানি সাশ্রয় করা যায়, সে বিষয়ে দারুণ এক আইডিয়া দিয়ে প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম গো গ্রে’। এ দলের সদস্য ছিলেন বুশরা শাকিল, ফাইয়াজ ঐশিক এবং যুষ্টিতা মুশরাত।

বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের সম্পর্ক উদ্‌যাপনের অংশ হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা মেহরিন আহমেদ। প্রতিযোগিতায় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। চারজন বিচারকের একটি প্যানেল সেরা তিন বিজয়ীকে বেছে নেয়। আর্থিক পুরস্কার, ক্রেস্ট এবং সনদ ছাড়াও চ্যাম্পিয়ন দল বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে তাঁদের আইডিয়া উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। গত ৩১ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর দানদান চেন ও রিজিওনাল ডিরেক্টর জন রুম।