বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘আমি বিশ্বাস করি, নান্দনিকতার বাইরেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মুখপাত্র হতে পারে ফ্যাশন। আমি নিজেকে একজন ফ্যাশন অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে গণ্য করি। ফলে আমি যে কাজই করি না কেন, সেই সৃজনের মধ্যে থাকে একটা উদ্দেশ্য। ফলে এসব সৃষ্টি সমসাময়িক নানা বিষয়ের ভাষ্য হয়ে ওঠে; যেগুলো মূলত নারীসম্পর্কিত।

default-image

আমার সর্বশেষ ফ্যাশন লাইনটির নাম দিয়েছি ক্রিমসন প্রাইড। বাংলা করলে দাঁড়ায় আরক্ত অহংকার। এই সংগ্রহের মধ্য দিয়ে আমি নারীর ঋতুস্রাবের জৈবিক বিষয়টি প্রতিভাত করতে চেয়েছি। এর পেছনে একটি বিশেষ কারণও রয়েছে। আমাদের সমাজে দীর্ঘকাল ধরে এটিকে নিষিদ্ধ বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এমনকি এ নিয়ে আলোচনা করাও নিষেধ। তাই তো নারীরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ফিসফিস করে। এটা যেন একটা কানাঘুষার বিষয়। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, বিষয়টির গুরুত্বকে উপেক্ষা আর অবহেলা করা হয়, হয়ে আসছেও।

অথচ আমি বিশ্বাস করি, ঋতুস্রাবের বিষয়টি আড়াল করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেই অর্গল ভেঙে ফেলা উচিত। অন্যদিকে, উচিত এটা নিয়ে গর্ব করা, গর্বিত হওয়া। কারণ, এটি কোনো গোপন বিষয় নয়; বরং নারী হয়ে ওঠার অনন্য অভিযাত্রা। এর মধ্য দিয়ে হয় নারীত্বের পূর্ণতা অর্জন। এটি বস্তুত নারীত্বের উদ্‌যাপন।

default-image

চলমান এই অতিমারি আমাদের দিয়েছে দম বন্ধ হয়ে আসার অভিজ্ঞতা। অথচ জীবনভর আমাদের মেয়েরা অবিকল অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। সেই আবেগই আমি ধরার চেষ্টা করেছি আমার আর্টওয়ার্কে। সেসব ব্যবহার করা হয়েছে আমার এই পোশাক সংগ্রহে। সংগ্রহটির আরও একটা কারণে বিশেষত্ব রয়েছে। এই প্রথম আমি আমার ড্রয়িং আমার ফ্যাশন লাইনে ব্যবহার করেছি।

ক্রিমসন প্রাইড। এই ফ্যাশন লাইনে নকশা ফুটিয়ে তুলতে আমি মূলত ব্যবহার করেছি কালো এবং সাদা রং। কারণ, এই দুই রংই লিঙ্গনিরপেক্ষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাল। লাল ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো, এই সংগ্রহের মূল থিম ফুটিয়ে তোলা। ঋতুস্রাব, আমি মনে করি নারীর অহংকার। পোশাকের প্যাটার্ন ও লাল রঙের উপস্থিতির মধ্য দিয়েই সেটা প্রতীয়মান হয়েছে।

default-image

ক্রিমসন প্রাইড। আরক্ত অহংকার। এই ফ্যাশন লাইনের প্রতিটি পোশাক তৈরি করা হয়েছে সুতি কাপড়ে। জমিনের অলঙ্করণে ব্যবহৃত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী হাতের কাজ আর ব্লক প্রিন্ট।’

ছবি: লেখক

ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন