আরামদায়ক আর সহজে ফিটফাট থাকার জন্য কাফতান পোশাক হিসেবে অনেকের পছন্দ। ইতিহাস বলে, কাফতান আভিজাত্যের প্রতীক। আর বর্তমান বাস্তবতা বলছে, নিজের পছন্দে নিজেই কাফতান বানিয়ে হুট করেই বাসায় বসে যেতে পারেন অফিসের ভিডিও কলে।
default-image

মেসোপটেমিয়ার সভ্যতার সময়কালে আবির্ভাব। নকশায় আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতানদের গায়েও। সময়ের সঙ্গে বদলেছে কাপড়ের নকশা। পাশ্চাত্যেও গেছে এই পোশাক, রুশ সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট দ্বিতীয় নিকোলাসের স্ত্রী আলেকজান্দ্রা ফিওদরভনার কল্যাণে। আমরা যে পোশাকটিকে কাফতান বলে জানি, নানা স্থানে, নানা ধাঁচে, নানা কাটে ও পরিচয়ে রয়েছে সেটির অস্তিত্ব।

default-image

ঘরের বাইরে ফ্যাশনেবল আর স্বস্তিদায়ক পোশাক হিসেবে স্বীকৃত কাফতান, তবে পরা যেতে পারে ঘরেও। আরামদায়ক কাপড়ের ঢিলেঢালা পোশাকটি এ দেশের আবহাওয়ায় ঘরে-বাইরে সমানভাবেই ব্যবহারোপযোগী। করোনাকালে বাসা থেকেই অফিসের কাজ করতে হচ্ছে অনেকের। মিটিং বা যেকোনো প্রয়োজনে ভিডিও কলে সহকর্মীদের সঙ্গে দেখাও করতে হয় অনেক ক্ষেত্রে। ফিটফাট হয়ে ভিডিও কলের জন্য ক্যামেরার সামনে বসার সময় না-ও থাকতে পারে, আবার এই অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে বাসায় সারা দিন ফিটফাট হয়ে বসে থাকাও সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমন সমস্যার দারুণ সমাধান হতে পারে কাফতান। ইস্তিরি করার ঝামেলা ছাড়াই কাফতান পরে আনুষ্ঠানিক ভিডিও কলে যোগ দিতে পারবেন, কাজ শেষে আরাম করে ঘুমাতেও পারবেন একই পোশাকে। এমনটাই জানা গেল ফ্যাশন ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে। পছন্দসই কাফতান যেমন কিনতে পারেন দোকান থেকে, তেমনি ঘরেও তৈরি করতে পারেন সহজে। আবার ফরমাশ দিয়ে নিজের পছন্দের নকশার কাফতান বানিয়েও নেওয়া যেতে পারে।

default-image

অনলাইন উদ্যোগ হেনা বাই রিফাত রেজার ডিজাইনার রিফাত রেজা বলেন, ‘কাফতান এমন একটি পোশাক, যাতে সব বয়সীরাই আরাম বোধ করেন। করোনা পরিস্থিতিতে বাইরে গিয়ে বাছাই করে কেনাকাটার সুযোগ কম; তাই বাসাতেই অনায়াসে তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে ভিন্ন কাটের কাফতান। হাতের অংশের আকারও ছোট করে আনা যায় সুবিধামতো।’

কাফতানে আরাম, কাফতানে স্বস্তি

ফ্যাশন হাউস অরণ্যর জ্যেষ্ঠ ডিজাইনার সৈয়দা ফারজানা হোসেন জানালেন, প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি বিশুদ্ধ কাপড়ে প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করে আরামদায়ক কাফতান এনেছে অরণ্য। রঙের উপকরণ হলো গাঁদা ফুল, ইন্ডিগো, হরীতকী, গর্জন, মাদার, ডালিমের খোসা প্রভৃতি। পোশাক তৈরির বিভিন্ন ধাপে কাপড় ধোয়ার ফলে ক্রেতার হাতে পৌঁছে আরামদায়ক, নরম কাপড়। রাসায়নিক না থাকায় ত্বকে বিরূপ প্রভাব ফেলে না তাঁদের কাপড়। সুতি, লিনেন, খাদি বা সিল্ক কাপড়ে হতে পারে কাফতান। বেছে নিতে পারেন পছন্দমতো। উষ্ণ আবহাওয়ায় হালকা রঙের কাফতান চোখকে আরাম দেবে, শরীরও থাকবে স্বস্তিতে। হালকা বাঙ্গি, হালকা হলুদ, হালকা নীল, গাঢ় নীল, জলপাই, ধূসর প্রভৃতি রং বেছে নিতে পারেন। লম্বা, মাঝারি (হাঁটুর নিচ অবধি) আর খাটো (টপ কাফতান) আকারের কাফতান রয়েছে। খাটো কাফতান সাধারণত উঠতি বয়সীরা পছন্দ করেন। নানা মোটিফের নকশিকাঁথার কাজ করা কাফতানও বেছে নিতে পারেন।

default-image

কাফতানে বৈচিত্র্য

বাড়িতে খুব সহজভাবে কাফতানের নিচের অংশে কিংবা গলার দিকটার কাটে বৈচিত্র্য আনা যেতে পারে। ভি গলা, গোল গলা কিংবা বোট নেক হতে পারে বলে জানালেন অনলাইন দোকান ওয়্যারহাউসের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার তাসনিম ফেরদৌস। কাফতানের নিচের দিকটা প্রায় গোলাকার (সেমি সার্কুলার) হলে কেপের মতো দেখায়। গলার দিকে একটু ফাড়া থাকতে পারে, টার্সেল বা ফিতা থাকতে পারে।

বাড়ির পোশাক, বাড়িতেই তৈরি

ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কাফতান বানাতে দুই থেকে সাড়ে তিন গজ কাপড় লাগে। বিষয়টি নির্ভর করে ব্যবহারকারীর চাহিদার ওপর। সেলাই ছাড়া কাপড়, পুরোনো সুতি শাড়ি, এমনকি বড় ওড়না দিয়েও তৈরি করতে পারেন কাফতান। হাতের জন্য আরামদায়ক ফাঁকা জায়গা রেখে সোজাভাবে দুপাশ সেলাই করে নিলেই হলো। এ ছাড়া বৈচিত্র্যও আনতে পারবেন ইচ্ছেমতো।

*পছন্দের লকেট লাগিয়ে নিতে পারেন কাফতানের গলার কাছে।

default-image

*কাফতানের সামনের দিকে (মাঝে বা দুপাশেই) টার্সেল বসিয়ে দিতে পারেন। সুতা দিয়ে টার্সেল বানিয়ে নেওয়া যায়।

*গলা ইংরেজি ‘ইউ’ আকৃতিরও হতে পারে। গোল গলার সঙ্গে বোতামও থাকতে পারে।

*কোমরের কাছে টার্সেল বা ফিতা টানার ব্যবস্থা থাকতে পারে, যাতে শরীরে কিছুটা ‘ফিট’ করে কাফতান।

*কাফতানের নিচের দিকে অসমান কাট আনতে পারেন। জিগজ্যাগ প্যাটার্ন হতে পারে কিংবা এক পাশ বড়, অন্য পাশ ছোট করতে পারেন। আবার নিচের দিকটা একটু গোল করে কেটে ডিম্বাকৃতিও করতে পারেন।

*হাতের অংশ কেটে সুবিধামতো ছোট করে নিতে পারেন। ভাঁজ করে করে সেলাই করলেও (পিন্টেক সেলাই) হাতের অংশ ছোট হয়ে আসবে, নকশাতেও ভিন্নতা আসবে।

default-image

*কাফতানের নিচের অংশে, গলার দিকে বা হাতের অংশে ফ্রিল বা লেস যোগ করতে পারেন। চলতি ধারার নকশা আসবে। এ ছাড়া গলার ‘ভি’ আকৃতি বরাবর লেস বা পাইপিং বসিয়ে দিতে পারেন। চওড়া বা চিকন হতে পারে পাইপিং। চাইলে চওড়া পাইপিংয়ের ওপর সহজ ও হালকা নকশায় হাতের কাজ করা যায়। শাড়ির পাড় কেটে ফেলে ওই জায়গায় লেস বা চিকন পাইপিং দিতে পারেন।

*কাফতানের হাতের অংশ কেটে (হাতা কাটার চেয়ে একটু বড় বা বাড়তি রেখে) নিয়ে নিচ দিয়ে একই কাপড়ের আলাদা হাতা (ফুলহাতা) লাগিয়ে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ছোট অংশটিতে পাইপিং রাখলেন, বড়টিতে রাখলেন না।

*শিশুদের জন্য টপ কাফতান বানালে পাইপিং ও পমপম বল ব্যবহার করতে পারেন।

শাড়ির বাহার কাফতানে

শাড়ি কেটে কাফতান বানানোর সময় আঁচলটা ব্যবহার করতে পারেন কাফতানের সামনের অংশের নিচের দিকটায়, এর দুপাশে পাড়ও থাকতে পারে। এ ছাড়া নানাভাবে শাড়ির পাড় কাজে লাগানোর উপায় জানালেন রিফাত রেজা—সাধারণভাবে পাড় থাকতে পারে পোশাকটির দুপাশে। হাতের অংশে ভাঁজ ভাঁজ সেলাই করলে (পিন্টেক সেলাই) হাতের অংশের আকারও ছোট হবে, শাড়ির পাড়টাও থাকবে। পাড় কেটে মাঝে বসিয়ে দিলে আড়ম্বর ভাব আসবে পোশাকটিতে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0