তিরিশে সুন্দর থাকা কঠিন কিছু নয়

জন্মদিনের কেকের ওপর বেড়ে চলেছে মোমবাতির সংখ্যা। সেই সঙ্গে স্পষ্ট হচ্ছে কপালের দুশ্চিন্তার রেখা। কুড়িতে বেশ ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব দেখিয়ে পার পেয়েছেন। কিন্তু তিরিশ তো তা মানবে না। শরীরের ফুরফুরে মেজাজ আর ত্বকের উজ্জ্বলতা বয়সের সঙ্গে কমে আসতেই পারে। সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং সেটাই স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে যোগ দিয়েছে অ্যাজিং স্পট, বলিরেখা, লোমকূপের গর্ত, ব্লেমিশ, পিগমেন্টেশনসহ আরও কত কি! এই নেতিবাচক পরিবর্তনকে তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই দিনের কিছুটা সময় তুলে রাখতে হবে নিজের যত্নের জন্য। সমাধান তো আছেই। সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তিরিশের কোটায় কীভাবে জুতসই থাকবেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
তিরিশে সুন্দর থাকা কঠিন কিছু নয়
ছবি: প্রথম আলো

জীবনের সব ধাপেই আমাদের চাহিদা, রুচি, পছন্দ ও জীবনধারা বদলে যায়। বদলায় ত্বক আর সুন্দর থাকার চাহিদাও। বিষয়টি সবার আগে মাথায় রাখুন। তিরিশেও যেন ত্বক স্বাভাবিক থাকে, সেদিকে নজর দিন। প্রত্যেকের ত্বকের ধরন পৃথক। তাই যত্নের কায়দাকানুনও পৃথক হওয়া উচিত। এ বিষয়ে রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতা বলেন, ‘বয়সের পরিবর্তনটা আসবেই। সুতরাং মেনে নিয়ে চলতে শিখুন। কিছু অভ্যাস আর রূপচর্চার ধরন বদলে নিলেই সুন্দর থাকা কঠিন কিছু নয়। সব সময় চেষ্টা করবেন সক্রিয় থাকার। প্রচুর পানি বা পানি-জাতীয় খাদ্য বেছে নিন।’ তবে সব রকম ত্বকের জন্যই বেসিক রূপরুটিন আছে। কী করবেন আর কী করবেন না, আসুন সেগুলো জেনে নিই ।

সকালে ঘুম ভেঙেছে, আয়নায় দাঁড়িয়ে মুখটা দেখতে বেশ তরতাজা লাগলেও গল্পটা ভিন্ন। সারা রাত আমাদের ত্বক এক রকম ‘নবায়ন প্রক্রিয়া’র ভেতর দিয়ে যায়। যাকে ‘টক্সিন ফ্লাশ আউট’ও বলা যায়। এতে শরীরের টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ ত্বকের উপরিভাগে এসে জমা হয়৷ ফলে ঘুম ভেঙে গা ছাড়া না হয়ে বরং ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। সঙ্গে নিতে পারেন ত্বকের ধরন বুঝে ফেসওয়াশ।

তিরিশের কোটায় ঝলমলে থাকতে বাঁধা কোথায়!
ছবি: পেক্সেলস ডটকম

তিরিশে ত্বকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টানটান ভাব ধরে রাখা। যাকে বলা হয় ‘টোনড স্কিন’। মুখ ধুয়ে প্রতিদিন ব্যবহার করুন টোনার। গোলাপজল টোনার হিসেবে দারুণ দাওয়াই। টোনার কেবল ত্বক টানটান রাখে না, সঙ্গে বলিরেখাগুলোও মিলিয়ে দেয় সযত্নে। চেষ্টা করুন অ্যান্টি-অক্সিডেন্টযুক্ত টোনার বেছে নিতে। বাজারে গিয়ে পণ্যের গায়ে লেখা উপাদান তালিকায় চোখ রাখতে ভুলবেন না। হোক টোনার, ফেসওয়াশ বা অন্য কিছু।

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার বিষয়টি আসে এরপর। বয়স বেড়ে গিয়ে এই কাজও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই ময়েশ্চারাইজার লাগবেই। শীত চলে গেছে বলেই রূপরুটিন থেকে জিনিসটি ভুলেও বাদ দেবেন না; বরং ওয়াটার বেসড ময়েশ্চারাইজার মানে হালকা-জাতীয় কিছু বেছে নিন। পাশাপাশি ব্যবহার করুন সিরাম। ইদানীং বাজারে অনেক রকম সিরাম পাওয়া যায়। ময়েশ্চারাইজার ত্বককে বাইরে থেকে আর্দ্রতার জোগান দেয় আর সিরাম ভেতর থেকে ত্বককে সজীব রাখে। ভিটামিন সি, হায়ালুরনিক বা অ্যাসিড সিরাম বেছে নিন নিজের জন্য। আর্দ্র রাখার পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখবে এরা। তবে ময়েশ্চারাইজারের আগে সিরাম, মানে হালকা থেকে ভারী, বিষয়টি ভুলবেন না যেন!


কুড়িতে ত্বকের জন্য যেসব বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করতেন, তাতে কিছু বদল আনুন। সময়ের সঙ্গে ত্বকের চাহিদা বদলায়। ভালো থাকার জন্য খাদ্যতালিকাও কাটছাঁট করে নিন এবার। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল-সবজি খান। গাজর, শসা, তাজা ফল আপনার খাদ্যতালিকায় জায়গা দিন। ফাস্ট ফুড এড়িয়ে যান। হালকা শরীরচর্চা বা যোগব্যায়াম শুরু করুন। শুধু মেদ ঝরাতেই নয়, বরং স্কিন ফ্রেশ রাখতেও হালকা ঘাম ঝরানো জরুরি। তিরিশের এই বদলকে নেতিবাচকভাবে না নিয়ে চেষ্টা করুন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে। মনে রাখবেন, প্রতিটি বয়সের সৌন্দর্য আলাদা। আর আপনি এখন বালিকা বয়স পেরিয়ে সম্পূর্ণ এক নারী। নিজের খেয়ালটা এবার নিজেই নিন!

নিজের যত্ন নেওয়া জরুরি
ছবি: পেক্সেলস ডটকম

সানস্ক্রিনের বিকল্প নেই। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের জন্য। আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষ যাঁরা দিনে বাইরে কাজ করেন বা হোমমেকার সবার জন্যই সানস্ক্রিন জরুরি। কোনোভাবেই বাদ দেবেন না। ঘরের জন্য বেছে নিন মৃদু, আর বাইরে বের হলে উচ্চ এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন লোশন বা পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। এতে সানবার্ন আর মেছতার জেদি দাগ থেকে মুক্তি পাবেন। সঙ্গে রাখুন ছাতা, স্কার্ফ আর সানগ্লাস।

কী করবেন, কী করবেন না

ঘরে বসে যত্ন নিলেও শহরের ধুলাবালু আর দূষণে ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। তাই মাসে দুইবার বিউটি স্যালনে যেতে পারেন। হালকা কোনো ফেশিয়াল বা স্কিন ট্রিটমেন্ট রিলাক্সও করে ত্বককে।

বাইরে বেরোলে বিশেষ জরুরি না হলে এই গরমে মেকআপ নেবেন না। আর নিলেও ঘরে ফিরেই মেকআপ তুলতে কেমিক্যাল ওয়াইপস ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বকের ওপর টান পড়ে তাতে বরং ক্ষতিই হবে। বরং তুলায় করে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল নিতে পারেন।

প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখুন নিজের যত্নের জন্য
ছবি: পেক্সেলস ডটকম

রাতে সব কাজ শেষ করে কিছুটা সময় নিজের জন্য বরাদ্দ রাখুন। ক্লান্ত লাগলে গোসল করে নিন। তবে চুল শুকিয়ে তবেই বিছানায় যাবেন। নয়তো চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দিন। সকালের মতো ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। সপ্তাহে দু-একবার এক্সফোলিয়েট (ত্বকের মৃতকোষ বের করার পদ্ধতি) করাটাও জরুরি। আর পিল অফ মাস্কও ত্বকের যত্নে বেশ উপকারী সমাধান। রাতে শুতে যাওয়ার আগে পরিষ্কার ত্বকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নাইট ক্রিম বুলিয়ে নিন। হ্যাঁ নাইট ক্রিমই। দিনে ব্যবহার করা সাধারণ ক্রিম নয়। সারা রাত ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে কাজ করবে। চোখের নিচে কালো দাগ ২৫ পেরোলেই গাঢ় হয়। সে জন্য ব্যবহার করুন ভালো মানের আন্ডার আইক্রিম, হালকা হাতে ম্যাসাজ করে নিন। শুধু মুখ নয়, হাত, পা, গলা, ঘাড়, পিঠের জন্যও ওয়াটার বেজড লোশন বা হাা ধাঁচের তেল ব্যবহার করতে পারেন। শীত বিদায় হলেও ঠোঁট ফাটার সমস্যা যায় না অনেকের। সুতরাং, লিপবাম ব্যবহার করা ছাড়বেন না। স্ক্রাব করতে পারেন সপ্তাহান্তে।