বিষয়ভিত্তিক উৎসব সংগ্রহ রঙ বাংলাদেশের

পোশাকের নকশায় দেশীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য, দেশজ উপকরণ আর উজ্জ্বল রং—এসব বিষয় প্রাধান্য দিয়ে দেশীয় ফ্যাশন শিল্পকে প্রতিনিয়ত রাঙিয়ে তুলছে রঙ বাংলাদেশ। উৎসবের পোশাকে যা পায় নতুন মাত্রা। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে এই ফ্যাশন হাউস বৈশিষ্ট্যের ধারাবাহিকতায় অনন্য সম্ভারে সাজিয়েছে ঈদ সংগ্রহ। কেননা, ধর্মীয় বা সামাজিক, যেকোনো উৎসব উদ্‌যাপন নতুন পোশাক ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না।

default-image

বিষয়ভিত্তিক ফ্যাশন রঙ বাংলাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ব্র্যান্ডটি সচেতনভাবেই দেশীয় পোশাক–সংস্কৃতিকে বিবেচনায় রেখে তাদের প্রতিটি কালেকশন তৈরি করে। এ বিষয়ে রঙ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও সৌমিক দাস বলেন, বছর ঘুরে আবার আসছে সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ। সাধারণত রোজা শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ঈদ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। সেই ধারাবাহিকতায় রঙ বাংলাদেশও এরই মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছে।  প্রতিবারের মতো এবারও থিমনির্ভর কালেকশন তৈরি করা হয়েছে। তিনটি বিশেষ থিমে তৈরি হয়েছে পোশাক। ইসলামিক নকশা, ফ্লোরাল ও ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল—এই তিনটি থিমই হয়েছে এবারের উৎসব সংগ্রহের নকশা উপাদান।

বিজ্ঞাপন

পুরো কালেকশনের পোশাক নকশায় অবশ্যই গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় আবহ। পাশাপাশি সময়, প্রকৃতি, আবহাওয়া আর আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডও। এবারের ঈদ কালেকশন তৈরি করা হয়েছে আরামদায়ক কাপড়ে। রয়েছে কাপল ও ফ্যামিলি ড্রেস। এ ছাড়া আরও রয়েছে জুয়েলারি, মেয়েদের ব্যাগ, পার্স, লেডিস জুতা, মানিব্যাগ, বেডকাভার, পিলোকাভার, টেবিল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট, শোপিস। উপহার সামগ্রী হিসেবে রয়েছে নানা ডিজাইনের মগ, জানালেন তিনি।

default-image

ঈদ কালেকশনে প্রাধান্য পেয়েছে লাল, মেজেন্টা, নীল, কমলা, ক্রিম, ফিরোজা ইত্যাদি। এ ছাড়া টিয়া, লেমন, ব্রাউন ব্যবহার করা হয়েছে কিছু কিছু পোশাকের নকশায়। পথচলার শুরু থেকেই রঙ বাংলাদেশ পোশাক তৈরিতে দেশীয় উপাদানকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। এ কারণে এবারের ফেস্টিভ কালকেশনে তাঁতে বোনা সুতি, হাফ সিল্ক কাপড় বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। আর ফেস্টিভ মুডের জমকালো ড্রেস তৈরিতে লিলেন, মসলিন, সিল্কও ব্যবহৃত হয়েছে। কালেকশনটির নকশাবিন্যাসে ভ্যালু অ্যাডেড মিডিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক প্রিন্ট, হ্যান্ডওয়ার্ক, কারচুপি, প্যাচওয়ার্ক ইত্যাদি। যেখানে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, স্কার্ট-টপ, পালাজ্জো, আনস্টিচড থ্রি–পিস, ওড়না, ব্লাউজ পিস, তৈরি ব্লাউজ রয়েছে মেয়েদের সম্ভারে। ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, শার্ট, কাতুয়া, টি-শার্ট, পায়জামা, গেঞ্জি, লুঙ্গি, টুপি ইত্যাদি।

সৌমিক দাস জানান, ‘করোনা অতিমারির প্রভাবে উৎসবগুলো যেন ফিকে হয়ে আসছে দিন দিন। আর কত দিন এভাবে চলবে, আমরা জানি না। মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও নাজুক হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। আমরা আমাদের ক্রেতাদের দিকে বিশেষ নজর রেখে, পুরো কালেকশনটি তৈরি করতে চেয়েছি সাশ্রয়ী মূল্যে। যেহেতু উৎসব, তাই সব পোশাকের ক্ষেত্রে এ ধারণাটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এ জন্য রেগুলার প্রাইসের ড্রেসের পাশাপাশি আমরা রেখেছি সাশ্রয়ী মূল্যের পোশাকও। এই পোশাকগুলো মূলত সিঙ্গেল পিস। তবে কেউ চাইলেই টপ আর বটম মিলিয়ে নিতে পারবেন সহজেই।’

default-image

সময় এবং চাহিদার প্রয়োজনে রঙ বাংলাদেশও কয়েক বছর আগে তাদের বাহু প্রসারিত করেছে কো-ব্র্যান্ডের কনসেপ্টে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের প্রতিটি ট্রেন্ড নিমেষেই জেনে নিতে পারে যে কেউ। তরুণেরা এদিক থেকে আরও এগিয়ে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরিতে তাঁদের চাই ট্রেন্ডি আউটফিট। এ ধারণা থেকেই ওয়েস্ট রঙ। সৌমিক দাস এ প্রসঙ্গে যোগ করেন, রঙ বাংলাদেশ সব সময় দেশীয় ঐতিহ্য ও ধারাকে লালন ও অনুসরণ করে।

বিজ্ঞাপন

সেই জায়গা থেকে তরুণদের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ট্রেন্ডকে তুলে ধরা একটু কঠিন। তাই আমরা ২০১২ সালে ওয়েস্ট রঙ শুরু করি। তবে ওয়েস্ট রঙে দেশীয় উপাদানেই পোশাক তৈরি হয়। নকশা ও আঙ্গিকে থাকে ভিন্নতা। এবারের ঈদেও ওয়েস্ট রঙে থাকছে ইউনিক কালেকশন। এ ছাড়া রঙ জুনিয়রে ছোটদের জন্য যেমন থাকছে সালোয়ার-কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, ফ্রক, স্কার্ট-টপস সেট, টপস, পালাজ্জো, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট। এ ছাড়া রঙ বাংলাদেশের আরেকটি কো-ব্র্যান্ড শ্রদ্ধাঞ্জলীতে বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য থাকছে ক্ল্যাসিক কালেকশন।

default-image

মহামারি মোকাবিলায় পুরো বিশ্ব যুদ্ধ করে যাচ্ছে অদৃশ্য করোনাভাইরাসের সঙ্গে। বাংলাদেশেও তখন চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। আর এই পরিস্থিতিতে শপিং মল আর শোরুমগুলো যখন তালাবদ্ধ, তখন অনলাইন কেনাবেচাই একমাত্র ভরসা। এ বিষয়েও সৌমিক দাস তুলে ধরেন তাঁর একান্ত পর্যবেক্ষণ। তাঁর মতে, ‘আমাদের দেশের মানুষ এখনো অলনাইন কেনাকাটায় পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই আরও কিছুটা প্রস্তুতি এবং সময় প্রয়োজন। ক্রেতারা পোশাক কেনার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে তা যদি হয় উৎসবের পোশাক, তবে তা সশরীরে আউটলেটে উপস্থিত থেকে কিনতে আগ্রহী। যদিও অনলাইন কেনাবেচার জন্য আমার বেশ বড় পরিসরে আয়োজন রেখেছি। আমাদের নিজস্ব ই-কমার্স সাইট রয়েছে। পাশাপাশি যেসব জায়গায় আমাদের আউটলেট রয়েছে, সেই সব জায়গার নামে রঙ বাংলাদেশের আলাদা আলাদা ফেসবুক পেইজ ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে ক্রেতারা চাইলে লাইভে সরাসরি পোশাক দেখে নিতে পারবেন।’

ছবি: রঙ বাংলাদেশ

ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন