বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শরতের রং

default-image

শরতের প্রকৃতি যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা জীবন্ত ক্যানভাস। প্রকৃতির এই ক্যানভাসের অংশ হতে পোশাকের রং হওয়া চাই মানানসই।

শরতের আছে নিজস্ব বর্ণ আর গন্ধ। দেশীয় পোশাক নকশাকারেরা সাধারণত শরতের জন্য বেছে নেন চারটি রং—সাদা, নীল, সবুজ আর সোনালি। নীল আকাশ, সাদা কাশফুল, সোনালি সূর্য আর সবুজ ফসল। শরত এলেই দল বেঁধে কাশবনে ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই সময়ে পোশাকে যদি থাকে শরতের আবহ, তাহলে কেমন হয়? তাই তো ফ্যাশন হাউসগুলো নীল-সাদার সমন্বয়ে তৈরি করে রকমফের পোশাক। শুধু শাড়ি বা কামিজে নয়, শরতের অন্যান্য পোশাকেও প্রাধান্য পায় শুভ্র সাদা আর আকাশের নীলাভ রং। গাঢ় নীল, হালকা নীল, আসমানি নীল, ময়ূরকণ্ঠী নীল, রয়েল ব্লু, নেভি ব্লু আরও কত শত রং ফুটিয়ে তুলেছে পোশাকের জমিনে। সঙ্গে সাদা কিংবা অফ হোয়াইটের মিশেল ও নকশার বৈচিত্র্য—এভাবেই অনেক ফ্যাশন হাউস সাজিয়েছে শরৎ–সংগ্রহ। এর বাইরেও পোশাকে ব্যবহার হয়েছে ফিরোজা, ছাই, সোনালি, খয়েরি, সবুজ, হলুদ, কমলা,বেগুনি, গোলাপি রঙের মিশেলে সব নান্দনিক ডিজাইন। আবার শরৎ মানেই কিন্তু শারদীয় আমেজের একটা ব্যাপার থাকে। চারপাশে চলছে শারদ উৎসবের আয়োজন। আর পূজা মানেই লালের প্রাধান্য তো থাকেই।

তন্তু

ভাদ্র-আশ্বিন এই দুই মাস মিলিয়ে শরৎকাল। তবে আশ্বিনের তুলনায় ভাদ্রে গরমের মাত্রা একটু বেশি হলেও রাতের দিকে তাপমাত্রা কমতে থাকে। শরতে বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির খেলায় আমাদের পোশাকও হতে হবে বৈচিত্র্যময়। এ সময় সুতি, ভয়েল, অ্যান্ডি কটনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কোটা ও ধুতি কাপড়ও রয়েছে তালিকায়। সুতি, লিনেন আর তাঁতে বোনা ফেব্রিকে অনায়াসেই আরাম খুঁজে পাবেন এই সময়ে। মসৃণ ফেব্রিক এ সময়ে শরীরে দেবে স্বস্তি।

default-image

পোশাকের নকশা

ফুলেল নকশা এ সময়ে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি নিয়ে যাবে পোশাককে। ফুল নিজেই এক সৌন্দর্য, আর তা যখন রংতুলি অথবা সুইসুতার মাধ্যমে পোশাকের ক্যানভাসে ফুটে ওঠে, তাতে তৈরি হয় নান্দনিকতা। বেশির ভাগ শরতের পোশাকের নকশায় ঠাঁই পায় ফুলেল ও জ্যামিতিক মোটিফ। ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, টাইডাই, হালকা এমব্রয়ডারি থাকতে পারে পোশাকগুলোয়। প্রধানত সুতি ও অ্যান্ডি কাপড়ে তৈরি পোশাকগুলোতে ব্লক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, হাতের কাজ ও এমব্রয়ডারি করা হয়। আরও করা যেতে পারে ব্লক, কারচুপি, ভরাট অ্যাপলিকসহ হরেকরকম হাতের কাজ। এ ছাড়াও জ্যামিতিক নকশার সঠিক ব্যবহার পোশাকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ।

পোশাকের ধরন

default-image

এই ঋতুতে বেশির ভাগ মেয়েরা বেছে নেয় শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ। যেটাই বেছে নেন না কেন, তা যেন আরামদায়ক ও হালকা রঙের হয়। শাড়ি পরতে চাইলে হালকা রঙের শাড়ির মধ্যে বেছে নিন ফিকে নীল শাড়িতে জরির পাড় দেওয়া, সাদা জমিনে বুটি তোলা জামদানি শাড়ি ও এর সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ। ব্লাউজের হাতা থ্রি কোয়ার্টার হলে ভালো মানাবে। এই আবহাওয়ায় মানাবে নতুন প্যাটার্নের পোশাক। পোশাকের স্লিভে থাকতে পারে বেল স্লিভ। কনুই অব্দি নয়, বরং কনুইয়ের একটু নিচ পর্যন্ত কাটিং রাখতে পারেন ফ্যাশনে। কুর্তির ক্ষেত্রে নেক লাইনে করতে পারেন নতুন কিছু নকশার নিরীক্ষা। পোশাকে নতুনত্ব নিয়ে আসা যেতে পারে মুন শেইপ, ওভাল শেইপ আবার কখনো বা পেছনের অংশের ঝুল রাখা যেতে পারে বেশি। সমান করে নয়, বরং বড় বা ছোট করে প্যাটার্নের চল চলছে এখন। পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন হাতা কাটা, ছোট হাতা এমনকি ম্যাগি হাতা কুর্তি-কামিজ। লম্বা কাটের কুর্তি-কামিজের পাশাপাশি চলছে মাঝারি কাটিংয়ের কুর্তি-কামিজ। অফিস কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য কুর্তি ও সালোয়ার-কামিজ বেছে নিতে পারেন। কুর্তির সঙ্গে পরতে পারেন প্যান্ট অথবা পালাজ্জো। জিন্সও মানিয়ে যাবে বেশ। সঙ্গে রাখতে পারেন স্কার্ফ। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে অথবা পোশাকের বিপরীত রঙের স্কার্ফ বেছে নিতে পারেন অনায়াসে। জিন্সের সঙ্গে মানানসই পোশাকগুলো হতে পারে বিকালের জন্য আদর্শ। ঢিলেঢালা কাটের পোশাকও জড়িয়ে নিচ্ছে তরুণীরা। দিনের বেলা তো বটেই, রাতের আয়োজনে নিজের পোশাকে ভিন্নতা আনতে এমন পোশাক দারুণ।

সবচেয়ে বেশি ভেরিয়েশন রয়েছে টি-শার্টে। স্ক্রিন প্রিন্ট কিংবা স্কেচ করা বিভিন্ন ডিজাইন ক্রেতাদের সহজেই আকৃষ্ট করবে। তরুণ প্রজন্ম টি-শার্টের বেশ ভক্ত।
এ ছাড়া শরতে সিল্ক কিংবা জর্জেট পরার উপযুক্ত সময়। আরামদায়ক হবে লিনেন, ধুপিয়ান, ভয়েল, মসলিন, তাঁতের কাপড়ও। জর্জেট, জয়সিল্ক, সিল্ক কাপড়ের লং কামিজ, গাউন ধাঁচের পোশাক এই সময়ের উৎসবের জন্য ফ্যাশনেবল ও আরামদায়ক।

ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন