শামার ডিজাইনে পরিবেশ সুরক্ষাই প্রধান
শামা কুন। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফ্যাশন ডিজাইনার। ফ্যাশনে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ছাত্রাবস্থা থেকেই। বাংলাদেশে নানা মেয়াদে কাজ করেছেন প্রায় ১২ বছর। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে টানা দুই বছর থেকে কিছুদিন আগে ফিরে গেছেন লন্ডনে। যাওয়ার আগে সৃজন, দর্শন, টেকসই ফ্যাশন আর বাংলাদেশের ফ্যাশনশিল্প নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা বলেছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন শেখ সাইফুর রহমান।
‘ফ্যাশন ডিজাইনার নয়, আমি হতে চেয়েছিলাম ফ্যাশন ফটোগ্রাফার। কারণ, ম্যাগাজিন স্ট্যান্ডে ফ্যাশনের চাকচিক্যময় সাময়িকীর ছবি আমাকে আকর্ষণ করত। “ভোগ”, “এল”, “হারপার’স বাজার” ইত্যাদির চমৎকার সব ছবি আমাকে অনুপ্রাণিত করত। কিন্তু স্কুল শেষ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় দিশাবদল হলো,’ একনাগাড়ে কথাগুলো বলে থামলেন শামা। তারপর যোগ করলেন, ‘কলেজে ভর্তির আগে ওপেন ডেতে ওরিয়েন্টেশন হয়। সেখানে ফ্যাশন ডিজাইনের বিষয়টি আমাকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিই ফ্যাশন ডিজাইন পড়ার।’
‘অবশ্য বিষয়টা হয়তো আমার অবচেতনে ছিল। কারণ, ছোটবেলা থেকে আমার মা ও বোনদের দেখেছি সেলাই করতে। কাপড় কেটে আমাদের ফ্রক বানাতে। বিশেষ করে ঈদের সময়। ফলে একটা আকর্ষণ তখন থেকেই বোধ করতাম।’ বললেন শামা।
আজও তাঁরা আমার এই পেশাকে পছন্দ করেন না। বরং আমার চাচাতো–মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে তুলনা করেন। কারণ, এরই মধ্যে তাদের বাড়ি-গাড়ি সবই হয়েছে। কিন্তু আমার তো এখনো তেমন কোনো অর্থনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়নি। অবশ্য আমি এসব তখনো পাত্তা দিতাম না, এখনো দিই না। আমি নিজের ইচ্ছা আর কাজকেই প্রাধান্য দিই।
কিন্তু ফ্যাশন ডিজাইন পড়ার জন্য পরিবারের সম্মতি ছিল কি? কিছুটা হতাশার সুরে শামা বললেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। কারণ, মা–বাবা চেয়েছিলেন আমি ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং—কিছু একটা পড়ি। আর্ট বা ফ্যাশন ডিজাইনে তাঁদের মত মোটেও ছিল না। সে জন্য আমার ভর্তির ফরমেও তাঁরা সই করেননি। কিন্তু আমি অবিচল ছিলাম। তাই ফ্যাশন ডিজাইনেই ভর্তি হই এবং তখন থেকে আমি আমার পড়ার খরচের ব্যবস্থাও নিজে করেছি। আজও তাঁরা আমার এই পেশাকে পছন্দ করেন না। বরং আমার চাচাতো–মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে তুলনা করেন। কারণ, এরই মধ্যে তাদের বাড়ি-গাড়ি সবই হয়েছে। কিন্তু আমার তো এখনো তেমন কোনো অর্থনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়নি। অবশ্য আমি এসব তখনো পাত্তা দিতাম না, এখনো দিই না। আমি নিজের ইচ্ছা আর কাজকেই প্রাধান্য দিই।’
শামা জানিয়ে রাখলেন, তাঁর জন্ম সিলেটে। বয়স যখন ১১ বছর, তাঁর বাবা গোটা পরিবার নিয়ে দেশান্তরি হন। তাঁর বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা সবই হয়েছে যুক্তরাজ্যের কেন্টে। তিনি কেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন আর ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ আর্টসে পড়েছেন।
জানতে চাই, ফ্যাশন ডিজাইন পড়তে গিয়ে টেকসই আর মূল্যবোধের ফ্যাশনে কেন আগ্রহী হয়ে ওঠা? তখন এই বিষয় নিয়ে কতটাই–বা আলোচনা ছিল?
এমন প্রশ্নে চটজলদি উত্তর শামার, ‘আসলে তখন এসব বিষয় নিয়ে তেমন আলোচনা ছিল না। একটা গ্রুপ হয়তো এর চর্চা করত। তবে আমার আগ্রহের বিষয়টা বলি, ডিগ্রি কোর্স করতে হলে একটা সেমিস্টারে একটি হাইস্ট্রিট ব্র্যান্ডকে নিয়ে গবেষণা করতে হয়। এতে কোম্পানির যাবতীয় বিষয় থাকতে হয়। এমনকি তারা কোথায় কীভাবে পোশাক তৈরি করে, সেটাও। আমি গ্যাপকে বেছে নিই। এই ব্র্যান্ডকে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি তাদের দোকানে যাই তথ্য সংগ্রহ করতে। আর এভাবেই আমি বিবিসির একটি তথ্যচিত্র পেয়ে যাই। যেটাতে দেখা যায়, মুম্বাইয়ের বস্তিতে মানবেতর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে পোশাক। যেখানে কাজ করছে শিশুরাও।
‘এই তথ্যচিত্র আমাকে নাড়া দেয়। কারণ, এভাবে তো আমি কাজ করতে চাই না। শোষণ করতে চাই না। তবে ফ্যাশন ডিজাইন করতে চাই। ফ্যাশন তো সুন্দর বিষয়। তাই যাঁরা তৈরি করছেন, তাঁদের খেয়াল রাখাও প্রয়োজন। এ জন্য আমি ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার ব্যাপারে মনস্থির করি। সেই সময়ই আমি এথিক্যাল ফ্যাশন ফোরামের সঙ্গে পরিচিত হই। পরিচয় হয় প্রতিষ্ঠাতা তামসিন লিউয়িনের সঙ্গে। তিনি বাংলাদেশে এসেও কাজ করেছেন আড়ংয়ের সঙ্গে। আমি ওদের সদস্য হয়ে যাই।
‘এথিকাল ফ্যাশন ফোরামের বর্তমান নাম হয়েছে “কমন অবজেকটিভ”। তখন আমাদের কার্যক্রম খুব বড় ছিল না। ছোট ছোট কর্মশালা আর সেমিনার করতাম। বিভিন্ন ডিজাইনারকে নিয়ে আলোচনা করা হতো কীভাবে একটি পোশাক কারও কোনো ক্ষতি না করে তৈরি করা যায়। অন্যদিকে পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি না করে এবং সামাজিক ন্যায়নীতি বজায় রেখে কীভাবে পোশাক তৈরি করা যায়, এটিই আমার মাথায় ঘুরত সব সময়। বলা যায়, গ্যাপ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে পেয়ে যাওয়া বিবিসির ওই তথ্যচিত্রই আমাকে আমূল বদলে দেয়। ফলে এথিক্যাল ফ্যাশন নিয়েই কাজ করার জন্য আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হই। এরপর এথিক্যাল ফ্যাশন ফোরাম থেকেই আমার যোগযোগ হয় পিপল ট্রির সঙ্গে।’
আমার বাবা ছিলেন সেখানকার মসজিদের ইমাম। তিনি কখনোই ট্রাউজার বা অন্য পোশাক পরতেন না। আমি দেখেছি, তিনি সব সময় লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরতেন। সঙ্গে থাকত গামছা। এই গামছা আমাকে দারুণ উৎসাহিত করেছে ফ্যাশন ডিজাইনে।
শিক্ষক ও সতীর্থদের মনোভাব ইতিবাচক ছিল কি না? শামা বললেন, ‘শিক্ষকেরা আমার এই ভাবনাকে খুব উৎসাহ দিয়েছেন। নানাভাবে সাহায্য করেছেন। তাঁরা স্কটল্যান্ডের কিছু বয়নশিল্পীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই বয়নশিল্পীরা অনেক আগে থেকেই টেকসই ফ্যাশনের চর্চা করছেন। তাঁরা কাপড়ে রাসায়নিক নয়, প্রাকৃতিক রংই ব্যবহার করেন। আমি তাঁদের কাছ থেকে টেকসই বিষয়ে আরও ভালোভাবে জানতে পারি।
‘তবে আমি যখন এসব নিয়ে ভাবছি, কাজ করছি, আমার সতীর্থরা তখন ব্যস্ত “গ্র্যাজুয়েট কালেকশন” তৈরিতে, র্যাম্প বা রানওয়ের জন্য। আমি তখন অন্য ভাবনা নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছি। এর হয়তো একটা কারণ হতে পারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প। আমার তো একটা যোগসূত্র ছিলই। ওদের সেটা নেই। তা ছাড়া সেই সময় আমার কলেজে ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগে আমি ছিলাম একমাত্র এশীয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুজন ভারতীয়কে পেয়েছিলাম।
‘এসবের পাশপাশি আরেকটা বিষয় আমাকে বেশ উৎসাহ দিয়েছে। তা হলো গামছা। আমার বাবা ছিলেন সেখানকার মসজিদের ইমাম। তিনি কখনোই ট্রাউজার বা অন্য পোশাক পরতেন না। আমি দেখেছি, তিনি সব সময় লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরতেন। সঙ্গে থাকত গামছা। এই গামছা আমাকে দারুণ উৎসাহিত করেছে ফ্যাশন ডিজাইনে। কলেজে আমি স্কার্ফের পরিবর্তে গলায় গামছা পেঁচিয়ে রাখতাম। চমৎকার, রঙিন এই গামছা দেখে সবাই আগ্রহ দেখাত। জিজ্ঞাসা করত, কোথায় এটা পাওয়া যায়? আমি বলতাম, এটা বাংলাদেশের একধরনের তোয়ালে।’
‘এরপর আমি টেকসই (সাসটেইনেবল) ও এথিক্যাল ফ্যাশন নিয়ে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠলে দেখলাম বাংলাদেশে গামছার মতো অনেক কিছুই রয়েছে, যেগুলো নিয়ে অনেক কাজ করার সুযোগ আছে। ফলে আমার সব কাজ বাংলাদেশি উপকরণ দিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিই। তবে সেগুলো হতে হবে হাতে তৈরি, যাতে পরিবেশ ও মানুষের কোনো ক্ষতি না হয়। আর এই ভাবনায় আমি এতটাই মিশে গেছি যে এখন আমার পক্ষে অন্য কোনো কিছু নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়,’ মন্তব্য শামার।
তাহলে আপনার গ্র্যাজুয়েশন ফ্যাশন উইকের কালেকশন কি বাংলাদেশি কাপড় দিয়ে করা? ঝটপট জবাব শামার, ‘না, সেটা সম্ভব হয়নি। ২০০৬ সালের কথা। আমি আমার গ্র্যাজুয়েশন সংগ্রহ তৈরি করি পুরোনো ডেনিম দিয়ে। গ্র্যাজুয়েশন ফ্যাশন উইকগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মূলত শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু তৈরি করতে বা আগে হয়নি, এমন কোনো ডিজাইন করতে উৎসাহ দেন। অনেকটা সেখান থেকেই উৎসাহিত হয়ে আমি পুরোনো ডেনিম বেছে নেই আমার সংগ্রহ তৈরিতে। সেই সময়ে ইচ্ছা থাকলেও আমি বাংলাদেশি উপকরণ দিয়ে কাজ করতে পারিনি। কারণ, তখন আমার পক্ষে একা বাংলাদেশে আসা সম্ভব ছিল না। রক্ষণশীল পরিবার বলে আমাকে একা ছাড়তে চায়নি। এর আগে যখন আমি ইন্টার্নশিপ করতে বাংলাদেশে আসি, তখন পুরো এক মাস আমার ভাই আমার সঙ্গে ছিল। আমি ইন্টার্ন করেছিলাম বিবি রাসেলের সঙ্গে। এখানেও আমার কাজের বিষয় ছিল টেকসই ও হাতে তৈরি কাপড়।’
সেই সংগ্রহ দারুণ সাড়া ফেলেছিল বলে জানান শামা। তিনি বললেন, ‘সেই ২০০৬ সালে আমি পুরোনো কাপড় নিয়ে কাজ করে সবার দৃষ্টি কাড়তে পেরেছি। আমি পরে কাজ করেছিলাম পাট দিয়ে। সেটার প্রশংসা পেয়েছি। ওটা ছিল ওত্ কতুর। সাউথব্যাংকের আলকেমি উৎসবেও ছিল সেটা। ওখানে আমি দুবার অংশ নিয়েছি। আর ২০১৩ সালে লন্ডন ফ্যাশন উইকে আমি প্রদর্শনীতে অংশ নিই।
‘২০১৩ সালের রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরের বছর ঢাকায় আমরা প্রথম ফ্যাশন বিপ্লবের একটা আয়োজন করি। আমাদের তখন উদ্দেশ্য ছিল কারিগরদের সামনে নিয়ে আসা। আমাদের স্লোগানও ছিল, “জানুন কে তৈরি করেছে আপনার পোশাক?”’
প্রসঙ্গান্তরে শামা জানিয়েছেন তাঁর প্রিয় এক ডিজাইনার লুই ডি গামার কথা। পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ফ্যাশন ডিজাইনার। তাঁর কাছে শিক্ষানবিশি করেছেন তিনি। ডি গামার কাজের ধরন তাকে আকৃষ্ট করেছে। এ ছাড়া ভিভয়েন ওয়েস্টউড ও ইজে মিয়াকিও রয়েছে তাঁর পছন্দের তালিকায়।
তবে তাঁর সহপাঠীরা যখন পাস করে জারা, এইচঅ্যান্ডএমের মতো শীর্ষ সারির ব্র্যান্ডে যোগ দিয়েছেন, শামা ফিরেছেন শিকড়ের টানে বাংলাদেশে। সেই সময় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পরিচয় হয় আনুশেহ আনাদিলের সঙ্গে। এর সূত্র ধরেই তিনি যোগ দেন যাত্রায়। বাংলাদেশের হস্তশিল্প তাঁকে সবচেয়ে বেশি প্রাণিত করে। এর সঙ্গে শিল্পীদের জীবনও।
শামা বললেন, ‘আমার চেষ্টা থাকে কাজের মাধ্যমে তাঁদের উপকার করতে, অনিষ্ট নয়। মাথায় রাখি পরিবেশের সুরক্ষার বিষয়টি। কোনো ডিজাইন করার আগে এগুলো আমি ভাবি। যেভাবে আমি আমার পাটের কাজটা করেছি। এর জন্য আমি গবেষণায় সময় নিয়েছিলাম তিন বছর।’
বাংলাদেশে প্রায় ১২ বছর কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর। বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদী শামা চান এখানকার ফ্যাশনশিল্প সত্যিকার অর্থেই আত্মপ্রকাশ করুক। কারণ, তিনি মনে করেন এখানে সম্ভাবনা বিপুল। অভাব রিসোর্সেরও। কাজে লাগাতে পারলেই অসম্ভবকে সম্ভব করা যাবে। আর তখন বাংলাদেশের ডিজাইনাররা তাঁদের সংগ্রহ নিয়ে হাজির হতে পারবে প্যারিস বা মিলান, লন্ডন বা নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে।
পরবর্তী প্রজন্মের ডিজাইনারদের নিয়ে আশাবাদী শামা। তিনি মনে করেন, তাঁরাও টেকসই ফ্যাশনের ব্যাপারে আগ্রহী। অনেকেই নতুন নতুন প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে কাজ করতে চান। সন্ধান পেতে চান।
বাংলাদেশে প্রায় ১২ বছর কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর। বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদী শামা চান এখানকার ফ্যাশনশিল্প সত্যিকার অর্থেই আত্মপ্রকাশ করুক। কারণ, তিনি মনে করেন এখানে সম্ভাবনা বিপুল। অভাব রিসোর্সেরও। কাজে লাগাতে পারলেই অসম্ভবকে সম্ভব করা যাবে। আর তখনই বাংলাদেশের ডিজাইনাররা তাঁদের সংগ্রহ নিয়ে হাজির হতে পারবে প্যারিস বা মিলান, লন্ডন বা নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকে।
এসবের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। নইলে উন্নতি সম্ভব নয় বলেই মনে করেন শামা কুন। তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমি বিইউএফটির সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম। কথাও হয়েছিল। কিন্তু বেতন যা চেয়েছিলাম, দিতে চায়নি বলে কাজ করা হয়নি। অথচ আমার ইচ্ছা ছিল ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে কীভাবে আন্তর্জাতিক বাজার উপযোগী পোশাকে রূপান্তর করা যায়, সেটা দেখানো। ঠিক এটাই এখন করছেন ভারতীয় ডিজাইনাররা। তাঁরা নিজেদের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে সেসব উপকরণ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। অথচ আমরা আমাদের জামদানি নিয়ে তেমন কিছুই করতে পারছি না। অন্যদিকে ভারতের রাহুল মিশ্র জামদানি দিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করছেন।’
আমার আরেকটা নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হলো, এখানে মধ্যমানের কাজ নিয়ে বেশি মাতামাতি হয়। ফলে মানুষ জানে না ভালো কাজ কী। আমরা আমাদের জামদানি নিয়ে তেমন কিছুই করতে পারছি না। অন্যদিকে ভারতের রাহুল মিশ্র জামদানি দিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করছেন।
অবশ্য রাহুল এখন যা করছেন, সেটা অনেক আগেই শামা করেছিলেন বলে জানালেন। তিনি বলেন, ‘আড়ংয়ের সঙ্গে কাজটা হওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু এখানেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটে–বলে মেলেনি।
‘আমার আরেকটা নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হলো, এখানে মধ্যমানের কাজ নিয়ে বেশি মাতামাতি হয়। ফলে মানুষ জানে না ভালো কাজ কী। উপরন্তু কিছু ঘটেও না, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উৎসাহিত করবে। বলা যেতে পারে, কিছুদিনের জন্য চলে যাওয়ার এটাও একটা কারণ। আমি গিয়ে একটু চাঙা হয়ে আসতে চাই। দেখতে চাই আমার বন্ধুরা হাইস্ট্রিটের জন্য কী সৃজনশীলতা দেখাচ্ছে। কী কী ঘটছে স্বচক্ষে দেখতে চাই।
‘আরও একটা কারণ অবশ্য আছে। এত দিন, মানে টানা দুই বছর আমি থাকিনি এর আগে। ফলে বাড়ির জন্যও মন কেমন করছে। যেহেতু আম্মার অনেক বয়স হয়েছে। তাঁর শরীরও ভালো না, তাঁকে দেখতে চাই। আমি আবার ভাইবোনদের মধ্যে সবার ছোট। আব্বা তো নেই।’
আর তখন ফ্যাশন ডিজাইনারের পরিচয় ছাপিয়ে শামাকে কিছুটা ঘরকুনো আর স্মৃতিভারাক্রান্ত মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, ফেরার জন্য তিনি কত উদ্গ্রীব।
ছবি: শামা কুনের সৌজন্যে