বিজ্ঞাপন

বিশ্বের যেকোনো জায়গার সমুদ্রসৈকতে ছোট ছোট গয়নার দোকান চোখে পড়বেই। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এসব দোকানে রাখা হয় মৃত শামুক, ঝিনুক, মাছ বা মাছের খোলসে তৈরি নানা ধরনের গয়না। মালা, চুড়ি, টায়রা, আংটি, হেয়ার ব্যান্ড সবই পাওয়া যায় সমুদ্রতটের বিপণিতে। মজার বিষয় হচ্ছে, ঝিনুক, শামুক ও নানা উপাদানে এসব গয়না তৈরি করা হয় ক্রেতার সামনেই। একসময় শুধু সমুদ্রদর্শনে গেলেই এ ধরনের গয়না পরে নিতেন পর্যটকেরা। কিন্তু এবার তা জায়গা করে নিয়েছে ফ্যাশন ট্রেন্ডে।

default-image

ডিজাইনাররা এর নামকরণ করেছেন শেল জুয়েলারি। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রায় প্রতিটি ফ্যাশন শোতে নজরে পড়েছে এ ধরনের জুয়েলারি। ‘দ্য ওশান ইজ কলিং’ নামে নতুন গয়না সংগ্রহ উপস্থাপন করেছে জুলেয়ারি ব্র্যান্ড আলমাসিকা। অন্যদিকে ‘লাইফ’স আ বিচ’ শিরোনামের রানওয়েতে শেল জুয়েলারি ‍উপস্থাপন করে তিন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ক্রিশ্চিয়ান দিওর, ভারসাচি ও এট্রো। এ ছাড়া আরও কিছু ব্র্যান্ড তাদের রিসোর্ট ওয়্যারে যোগ করেছে এ ধরনের গয়না। তরুণদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সমুদ্র থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি গয়নার। বলা যায়, এর জোয়ার চলছে হাল ফ্যাশনে।

ফ্যাশনে এখন মিনিমালিস্টিক ধারা চলমান। পোশাক থেকে শুরু করে গয়নার ট্রেন্ডটাও সেদিকেই। ফলে অনেক বেশি গর্জিয়াস বা জবরজং জুয়েলারি ক্রেতার পছন্দের তলানিতে। এর জায়গা দখল করেছে পরিশীলিত ও সাধারণ নকশার গয়না। সি শেল এমনিতেই প্রকৃতির নান্দনিক সৃষ্টি। সুতরাং, এর থেকে তৈরি গয়নায় খুব একটা কারুকাজ প্রয়োজন হয় না। এ জন্য শেলের গয়নায় মিসম্যাচ নেই বললেই চলে। একধরনের ম্যাটেরিয়াল দিয়েই তৈরি হয় গয়নাগুলো। এতে বাড়তি রঙের ব্যবহারের চেয়ে এর প্রাকৃতিক রংই ক্রেতার পছন্দের শীর্ষে।

default-image

এ ছাড়া রয়েছে হলিউড সিনেমরা প্রভাব। ২০১৮ সালে রিলিজ পাওয়া ‘দ্য লিটল মারমেইড’–এর প্রধান চরিত্র এরিয়েলকে শেলের গয়নায় দেখা যায়। এ ছাড়া একই শিরোনামে রয়েছে জনপ্রিয় একটি অ্যানিমেশন সিরিজ, যেখানেও এর প্রধান চরিত্রকে দেখা যায় শেল জুয়েলারিতে।

default-image

আবার বিভিন্ন ব্র্যান্ড মেটাল দিয়ে তৈরি করছে শেল স্টাকচারের নানা ধরনের জুয়েলারি। গোল্ড আর রোজ গোল্ড ব্যবহারে নকশায় আনা হচ্ছে পরিবর্তন। রুপাও তৈরি হচ্ছে এগুলো।

শেলের গয়না বেছে নিলে পোশাকের দিকেও একটু নজর দিতে হবে। গয়নাকে প্রধান্য দিতে চাইলে একরঙা পোশাকই বেছে নিতে হবে। পোশাক এক রঙের এবং বিপরীত হলে তা দেখতে আকর্ষণীয় হয়। তবে রং নির্বাচনে কোনো বাধাধরা নিয়ম নেই। উজ্জ্বল যেমন মানিয়ে যাবে, তেমনি শান্ত ও কোমল রংও মানাবে।

default-image

নীল, সাদা, হলুদ, গোলাপি কিংবা সবুজ রং বা এর যেকোনো শেডই বেছে নেওয়া যায়। চওড়া এবং লো কাট নেকলাইন বেছে নেওয়া উচিত। শেল ব্রেসলেট পরার সময় স্লিভ কনুইয়ের একটু নিচ পর্যন্ত হতে পারে। স্লিভলেসও মানাবে। পায়েও যদি শেলের গয়না পরতে হয়, তবে খয়াল রাখতে হবে জুতা নির্বাচনে।

ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন