বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মডেল সামিরা খান মাহিকে সাজাতে তিনি মাত্র ৪৫ মিনিট সময় নিয়েছেন বলে জানান ফারনাজ। বলেন, কত অল্প সময়ে পূর্ণাঙ্গ বউয়ের সাজ শেষ করা যায়, সেটিই দেখানোর চেষ্টা ছিল। ইচ্ছা করেই লাল কাতান শাড়ি পরাননি। ফারনাজ আরও বলেন, ‘অনেক ধরনের বউয়ের সাজ হয়—ট্র্যাডিশনাল, ট্রেন্ডি, ফিউশন। আমি ঠিক বাঙালিয়ানা বউ করিনি। অনেকে আবার বিয়েতে পুরোপুরি সাদা পরে। ফুল হোয়াইট লেহেঙ্গা, রুপালি বা ব্রোঞ্জ বেইজড মেকওভার, আমি সেগুলো কিছুই করিনি। আমি ঐতিহ্যবাহী বউয়ের লুকেই একটু ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছি। অর্নামেন্টও মিনিমাল রেখেছি।’

default-image
default-image

এই মেকওভার হয়েছে প্রায় কোনো কারণ ছাড়াই। কারণ বলতে গেলে চলে যেতে হবে ফারনাজ আলমের নিজের বিয়ের সময়টায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। তাঁর বিয়ে হয়েছিল বেশ কয়েকটি ধাপে। তিনি চট্টগ্রামের বউ, সেখানে মেজবান অনুষ্ঠানে এ রকম করে সেজেছিলেন ফারনাজ। তাঁকে সাজিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর মা। লাল কাতানের শাড়িটাও ছিল তাঁর মায়ের। খোঁপায় অনেক ফুল পরেছিলেন। তাঁর সেই সাজ আর এই মডেলের সাজে অনেক মিল। তবে তাঁর সাজপোশাকে ছিল বাঙালিয়ানার ছাপ। হাতে আলপনা করেছিলেন। অনেকটা সে রকম করেই মিনিমালিস্টিক মেকআপে সাজিয়েছেন তাঁর মডেলকে।

বিয়েতে এখন নতুন ধরনের নানা সাজপোশাকের চল আসছে। এখন কেবল শাড়ি নয়; সালোয়ার কামিজ, লেহেঙ্গা, লেহেঙ্গা স্টাইলের শাড়ি, গাউন, সারারা, ঘারারা, ঘাগরাসহ নানা কিছু পরা হয় বিয়েতে। তবে এই মেকআপ শিল্পী মনে করেন, এগুলোর কোনোটাই নতুন নয়। ঘুরেফিরে ‘মডিফায়েড’ হয়ে আসছে। একটু এদিক–সেদিক করে নানা দেশের নানা সংস্কৃতির বিয়ের পোশাক স্থান করে নিয়েছে বাঙালির বিয়েতে। উদাহরণস্বরূপ তিনি বললেন পশ্চিমা বিয়ের সাদা গাউনের কথা। অনেকেই সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের বিয়েতে পুরোপুরি সাদা পরেন। সাদার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাগ, পার্স বা বটুয়া, উঁচু জুতা, মানানসই কার্লি চুল, চুলে স্টোনের বা অল্প কিছু ফুলের মুকুট আর ব্রাউন বা সিলভার বেজড চোখ, ন্যুড বা স্কারলেট রেড লিপস্টিক পরেন।

default-image

অনেক সময় দেখা যায়, সবাই অপেক্ষা করছেন। বউয়ের আর খোঁজ নেই। পারলারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ফুল আনতে পাঠানো হয়েছে একজনকে। ফুল নিয়ে আসার পর দেখা গেল, যে ফুল আনা হয়েছে, তা ঠিক মানাচ্ছে না। মনের ভেতর একটা খুঁতখুঁতানি রয়েই গেল। সেই অস্বস্তি বিয়ের দিনজুড়ে রইল। তাই হবু বউদের উদ্দেশে ফারনাজ বলেন, ‘বিয়েতে কে কী বলল, তার চেয়ে নিজে নিজেকে কীভাবে দেখতে চান, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। চোখ বন্ধ করুন। নিজেকে দেখুন। ডিটেইলস ঠিক করে ফেলুন। আগে থেকে সব পরিকল্পনা করা থাকলে দেরি হওয়ার কোনো কারণ নেই। যে বিয়ের সাজেই সাজুন না কেন, দুই ঘণ্টার বেশি লাগবে না কিছুতেই।’

এই মেকআপশিল্পী আরও বলেন, একটা মেয়ে নারী হওয়ার পর থেকেই বিয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে কল্পনা করেন। ফারনাজ আলমের বয়স তখন ১২। তিনি তাঁর বাবার সঙ্গে হাঁটছিলেন তুরস্কের বাজারে। হঠাৎ একটা কাপড় দেখে থমকে দাঁড়ান তিনি ও তাঁর বাবা। কাপড়টা কেনেন। সেই কাপড়েই হয়েছে তাঁর গায়েহলুদের উজ্জ্বল গোল্ডেন গাউন। যদিও ডিজাইনাররা নিজেদের কাপড় ছাড়া জামা বানান না। ফারনাজের ডিজাইনার বানিয়েছিলেন।

ফারনাজ বলেন, সারা জীবন নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান রোমন্থন করার মতো স্মৃতি তৈরি করা সবচেয়ে জরুরি। তাই পারলারে দেরি হওয়া মানে দিনটাতে স্মৃতি তৈরির সময় খুইয়ে ফেলা। সারাটা দিনের ওপর একটা চাপ পড়ে। তাই বিয়েতে বেজটা হালকা রেখে সারা দিন আনন্দে কাটানো, সুন্দর ছবি তোলা জরুরি, যাতে পরে সেসব ছবি দেখে নিজের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে।

ফ্যাশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন