ঘরেও কেন স্যান্ডেল পরে থাকবেন

বাড়ির স্যান্ডেল হিসেবে হাওয়াই চপ্পল জনপ্রিয়। ছেলেমেয়ে সবার ব্যবহারের উপযোগী চটিগুলো পানিতে ভিজে গেলেও শুকায় তাড়াতাড়ি। এখন আবার ফিতায় ফুল, নকশা, চুমকি বসিয়ে চপ্পলকে দেওয়া হচ্ছে নতুন রূপ।

মডেল: নাহিদা
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

ঘরে পরার জুতা সাধারণত খোলামেলা এবং হালকাই ভালো। পা খোলা এসব স্যান্ডেলে আরাম ও স্বস্তি, দুই–ই মিলবে। দুই ফিতার কিংবা সামনে চওড়া স্ট্র্যাপ বা ফিতা দেওয়া স্যান্ডেল ঘরে পরার উপযোগী। আর অবশ্যই স্যান্ডেলের নিচে কোনো হিল থাকবে না। একদম হালকা এবং ফ্ল্যাট হওয়ায় সারা দিন পরে থাকলেও কোনো অস্বস্তি হয় না।

আবার ঘরে যে জুতা পরতেই হবে—এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। তবে বাড়িতে স্যান্ডেল পরার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে

অসুখ থেকে রক্ষা করে

ঘরে স্লিপার না পরে থাকলে আপনার শরীরের তাপ পা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়। শরীর উষ্ণতা হারানোর কারণে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। সেই কারণে সর্দি কাশির মতো নানা অসুখে ভুগতে পারেন আপনি। ঘরেও পায়ে স্লিপার বা চটি পরে থাকলে আপনার পা দুটি সুরক্ষিত থাকবে। শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকবে, শরীরের তাপমাত্রা বজায় থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে।

স্যান্ডেল কেনার আগে

জুতা কিনতে গিয়ে অবশ্যই পরে হেঁটে দেখে নেবেন। ঘরে পরার হোক আর বাইরে, জুতাজোড়া পায়ে গলিয়ে হেঁটে দেখার সময়ে আপনার পায়ের অনুভূতি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, বাকি সব তার পরে। কোথাও ব্যথা লাগছে কিনা, খেয়াল রাখতে হবে। এক জুতা দীর্ঘদিন পরাও ঠিক নয়। জুতা ক্ষয়ে গেলে বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত।

ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে

আমরা মনে করি আমাদের ঘরের মেঝে একদম পরিষ্কার। ঘরের মেঝে আপাতদৃষ্টিতে পরিষ্কার হলেও সেখানে অনেক ধরনের জীবাণু লুকিয়ে থাকে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। পায়ে চটি পরে থাকলে সেগুলো পায়ের তলা দিয়ে আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে পারবে না।

ঠান্ডা মেঝের জন্য

সামনেই আসছে শীত। বাড়িতে পরার জন্য সামনের দিকে পা ঢাকা জুতা কিনতে পারেন। সাধারণত সুতি কাপড় বা পশম জাতীয় কাপড় দিয়ে তৈরি হয় এসব জুতা। সহজেই ধুয়ে ফেলা যায়। ছেলে, মেয়ে এবং শিশু সবার জন্য পাওয়া যায় এ ধরনের জুতা।

ফোলা পায়ে থাকুক চটি

দুই ফিতার স্যান্ডেল

শরীরের রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো না হলে পায়ের পাতা ফুলে যেতে পারে। সেই কারণে পায়ের পাতা ফুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে পায়ে অবশ্যই চটি পরে থাকা উচিত। অনেক বহুমূত্র রোগের রোগীকেই বাড়িতে জুতা পরার পরামর্শ দেন ডাক্তার। আরামদায়ক এবং নরম সোলের চপ্পল পরলে পা ভালো থাকবে।

ঢাকার যেকোনো মার্কেটে পাওয়া যায় ঘরে পরার স্যান্ডেল। ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের চৌরঙ্গীর একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী জামান জানান, চায়না থেকে স্যান্ডেল আসে। অনেক আবার দেশেই বানানো হয়। আরেক ধরনের রাবারের তৈরি চপ্পল রয়েছে, যেগুলোকে বলে বার্মিজ স্যান্ডেল।

ফুটপাত থেকে ব্র্যান্ড—যেকোনো জুতার দোকানেই পাওয়া যাবে ঘরে পরার চটি জুতা। দামও নাগালের মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন রং এবং নকশার জুতা থেকে আপনার পছন্দের জুতা বেছে নিতে পারবেন। শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন কার্টুন, স্পাইডার–ম্যান, সুপারম্যানসহ নানা ধরনের স্যান্ডেল পাওয়া যায়।