ঈদে টিনএজারদের পোশাকের রং ও কাট
এখন যারা কিশোর-কিশোরী, তারা কেউ জেনারেশন জির শেষভাগের, কেউ আলফার শুরুর দিকের সদস্য। এক প্রজন্ম আগের কিশোর-কিশোরীরা ঈদের পোশাক বেশ যত্নে লুকিয়ে রাখত। কেউ যদি আগেভাগে দেখে ফেলত, মনে হতো ঈদের আনন্দটাই মাটি! কিন্তু সময় বদলেছে। এখনকার কিশোর–কিশোরীদের মধ্যে দেখা যায় ঠিক উল্টো প্রবণতা। শুধু ঈদের পোশাক দেখানোই নয়, আগে থেকেই ঈদের পুরো লুক নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করে তারা। কোন পোশাকে কীভাবে সাজবে, কোন অনুষঙ্গ মানাবে—সবই থাকে তাদের পরিকল্পনায়।
টিনএজারদের পোশাকের রং ও কাট
কিশোর-কিশোরীরা সব সময়ই নতুন কিছু করতে চায়। নিজেদের পরীক্ষামূলকভাবে নানা রঙে সাজাতে পছন্দ করা এই ছেলেমেয়েদের তাই নির্দিষ্ট কোনো ধাঁচে ফেলা কঠিন। তারা যেমন পরছে লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ ও নীলের মতো উজ্জ্বল রং, তেমনি মিন্ট, আকাশি, ল্যাভেন্ডারের শেডও তাদের মধ্যে জনপ্রিয়।
বাজার ঘুরে দেখা গেল, বরাবরের মতোই টিনএজারদের পোশাকে আরামকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সুতি, লিনেন, ভিসকস, জ্যাকার্ড ও সফট কটনের ব্যবহার এবার বেশি হয়েছে। ২০০০ সালের শুরুর দিককার টিনএজ ফ্যাশনের ধারা নতুনভাবে এবার ফিরে এসেছে বলে জানান কে ক্র্যাফটের অন্যতম উদ্যোক্তা খালিদ মাহমুদ খান। কিশোর-কিশোরীদের পোশাকে ঢিলেঢালা কাট এখন চোখে পড়ার মতো।
কিশোরীদের পোশাকে হাতা ও কলার নিয়ে এবার ঈদে দেখা গেছে বেশ কিছু নিরীক্ষাধর্মী কাজ। ফিউশনধর্মী পোশাক টিনএজারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। শার্টের পেছনে বো যুক্ত করতে দেখা যাচ্ছে এবার। জমকালো পোশাকে এমব্রয়ডারি, জারদৌসি ও মিরর ওয়ার্কের ব্যবহার চোখে পড়ছে। ছেলেদের পাঞ্জাবিতেও রয়েছে এমব্রয়ডারির কাজ। পাশাপাশি টি-শার্টে নকশিকাঁথা ও স্ক্রিনপ্রিন্টের কাজও দেখা গেছে এবার।
সকালে ও দুপুরে
শুধু একটি বিশেষ পোশাক নয়, টিনএজাররা এখন ঈদের একেক বেলার জন্য বেছে নেয় একেক ধরনের সাজ। ঈদের সকালে পরিবারের বড়-ছোটদের সঙ্গে ঈদগাহে যাবে বাড়ির কিশোরেরা। এ সময় তাদের সাধারণত পাঞ্জাবিতেই দেখা যায়। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গেলেও এই পোশাকই হয়ে ওঠে তাদের সঙ্গী।
অন্যদিকে ঈদের সকালে কিশোরীদের কিছুটা জাঁকজমক পোশাকে দেখা যায়। লম্বা কামিজ ও শর্ট কামিজের সঙ্গে ফারসি সালোয়ার, কাফতান কিংবা শারারা হতে পারে তাদের ঈদের সকালের পোশাক।
বিকেলে ও সন্ধ্যায়
ঈদের দিন বিকেল বা সন্ধ্যায় বন্ধুবান্ধব কিংবা কাজিনদের সঙ্গে বের হতে পছন্দ করে এই বয়সীরা। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি আর দৌড়ঝাঁপের জন্য তাদের প্রথম পছন্দ আরামদায়ক পোশাক।
কিশোরীরা পরতে পারে কো-অর্ড, টপ, ক্রপ টপ, স্কার্ট কিংবা জাম্পস্যুট।
কিশোরেরা এ বেলায় ড্রপ শোল্ডার টি-শার্ট, পোলো শার্ট, টি-শার্ট কিংবা শার্ট পরতে পারো। সঙ্গে থাকুক গ্যাবার্ডিন, জিনস অথবা কার্গো প্যান্ট। ব্লুচিজের ফ্যাশন ডিজাইনার সাবরিনা সানজিদা বলেন, টিনএজ ছেলেদের জন্য ডিজাইনে এবার ঢিলেঢালা ফিটের প্যান্ট ও পায়জামা বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ফ্লেয়ার্ড প্যাটার্নের প্যান্ট এবার বেশ জনপ্রিয় হবে।
ঈদের অনুষঙ্গ
কিশোর-কিশোরীরা অন্য সময়ে খুব বেশি অনুষঙ্গ ব্যবহার করে না। তবে ঈদের সাজ সম্পূর্ণ করতে অনুষঙ্গের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিশোরীরা পরতে পারে হালকা ঝুমকা, ছোট হুপ ইয়াররিং বা মুক্তার গয়না। হাতে থাকতে পারে ব্রেসলেট বা ঘড়ি।
চুলের সাজ নিয়ে টিনএজ মেয়েরা বেশ সচেতন। খোলা চুল, পনিটেল, হাফ পনিটেল, দুই পাশে খোঁপা কিংবা এক পাশে টুইস্ট করা চুলে মানিয়ে যাবে। চুলে ব্যবহার করতে পারে নানা ধরনের ক্লিপ। ত্বক এমনিতেই সতেজ থাকায় খুব বেশি মেকআপের প্রয়োজন হয় না। তারপরও ঈদের দিন হালকা বেজ, টিন্টেড লিপবাম আর সামান্য মাসকারা দিয়েই সম্পূর্ণ হতে পারে সাজ।
কিশোরেরা ঘড়ি, স্মার্ট ঘড়ি কিংবা সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারে। জুতার ক্ষেত্রে কেডস, স্নিকার্স বা লেদারের স্যান্ডেল ভালো হবে। একটু বোহো লুকে থাকতে চাইলে মিনিমাল চেইন বা ব্রেসলেট পরতে পারো।