বাবার থেকে নেওয়া ১০ হাজার টাকায় শুরু, ১০ বছরে কতটা এগোল নিশাতের ‘আরাম বাংলাদেশ’

বৈচিত্রময় ব্লকপ্রিন্টের নকশা করা পোশাকের দেখা মেলে নিশাত আনজুমের ‘আরাম বাংলাদেশ’–এছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

ব্লকপ্রিন্টের পোশাক নিয়ে কাজ করছে অরাম বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় বাবার কাছ থেকে নেওয়া ১০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসাটি শুরু করেন নিশাত আনজুম।

বাবা ভেবেছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার জন্যই হয়তো টাকাটা নিয়েছে মেয়ে। সেই টাকায় বানানো ৭০–৮০টি পোশাক নিয়ে একটি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন নিশাত। প্রথম দিনেই বিক্রি হয়ে যায় বেশির ভাগ পণ্য।

পোশাকে ব্লকপ্রিন্টের নকশা
ছবি: প্রথম আলো

এরপর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় অরামের কার্যক্রম। ২০১৭ সালে বাড্ডায় চালু করেন নিজস্ব কারখানা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কর্মীর সংখ্যাও।

নিশাত আনজুম বলেন, ‘শুরুর দিকে অনেক কিছুই ছিল নতুন। কোথা থেকে কাপড় সংগ্রহ করব, কীভাবে উৎপাদনের কাজ এগিয়ে নেব, কাজ করতে করতেই সব শিখতে হয়েছে। তবে ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া আমাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছে।’

শাড়ির নকশা দেখছেন নিশাত
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

বর্তমানে শাহজাদপুরে অরামের নিজস্ব কারখানা রয়েছে। অরাম বাংলাদেশে সব মিলিয়ে কাজ করছেন মোট ২৭ জন। ২০১৯ সালে বনানী ও জেনেটিক প্লাজায় দুটি বিক্রয়কেন্দ্র ছিল।

করোনার সময় জেনেটিক প্লাজার দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়। এখন বনানীতে প্রতিষ্ঠানটির দোকান ও অফিস। দেশীয় কাপড় ব্যবহার করে তৈরি করা হয় অরামের পোশাক।

এখানে পাওয়া যায় শাড়ি, থ্রি-পিস, কুর্তা, কো-অর্ড সেটসহ বিভিন্ন পোশাক। পঞ্চগড়, রাজশাহী, নরসিংদী ও ইসলামপুর থেকে সংগ্রহ করা হয় কাপড়।

আরাম বাংলাদেশের পোশাক
ছবি: প্রথম আলো

আইন পেশায় যুক্ত নিশাত আনজুম বলেন, উদ্যোক্তা হিসেবে পথচলা সব সময় সহজ ছিল না। নিজের নকশার অনুকরণে তৈরি পোশাক অন্য প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হতে দেখেছেন তিনি।

বিষয়টি হতাশাজনক হলেও সেটিকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখেননি। বরং নতুন নকশা তৈরির দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। দেশীয় পোশাককে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে অরাম। নিশাতের বিশ্বাস, মৌলিক নকশা ও মানসম্পন্ন পণ্যই একটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ মেয়াদে টিকিয়ে রাখতে পারে।

আরও পড়ুন