দম্পতি হিসেবে যেভাবে ধনী হবেন

বিয়ের পর নতুন জীবন, নতুন দায়িত্ব। নতুন সংসারের ব্যয় আর স্বপ্ন—সব মিলিয়ে এ সময় অনেক নবদম্পতির খরচ বেড়ে যায়। এ ছাড়া আধুনিক জীবনযাপন, প্রযুক্তিনির্ভর অভ্যাস ও সামাজিক চাপের কারণে অনেকে অজান্তেই সঞ্চয়ের চেয়ে ব্যয়ের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের মতে, খরুচে জীবনযাপন সমস্যা নয়; বরং সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন এই অতিরিক্ত ব্যয়ের অভ্যাস ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে উপেক্ষা করে গড়ে ওঠে। এই সমস্যা মিলেনিয়াল দম্পতিদের মধ্যে অধিক লক্ষ করা যাচ্ছে।

যাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে সম্পদ তৈরি করেছেন, তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে অর্থ ব্যয় করে থাকেনছবি: পেক্সেলস

আর্থিক নিরাপত্তায় কেন পরিকল্পনা জরুরি

বেশির ভাগ মানুষই চান আগের বছরের চেয়ে এ বছর বেশি আয় করবেন। সাধারণত তা হয়েও থাকে। বছর শেষে বেতনে যোগ হয় ইনক্রিমেন্ট বা বার্ষিক বৃদ্ধি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অতিরিক্ত অর্থ কি জমা থাকছে? গবেষণা বলে, আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় চাওয়া বা মর্জির পেছনে, প্রয়োজনের পেছনে নয়।

অন্যদিকে যাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে সম্পদ তৈরি করেছেন, তাঁদের কাছে টাকার মানে ইচ্ছেমতো দামি জিনিস কেনা নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে অর্থ ব্যয় করা। মার্কিন লেখক ও ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ সুজ অরম্যান একবার বলেছিলেন, ‘যাঁদের আপনি পছন্দ করেন না, তাঁদের প্রভাবিত করতে কোনো জিনিস কিনবেন না। সেসবের আদতে কোনো প্রয়োজন নেই।’
এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা দম্পতিদের জন্য ৫টি বিষয় তুলে ধরেছেন, যেসব মাথায় রাখলে অর্থ ব্যবস্থাপনার অনেক দিক সম্পর্কে অবগত থাকা যায়।

সঞ্চয় বা বিনিয়োগ শুরু করার আগে প্রয়োজন ঋণ শোধের একটি স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা
ছবি: পেক্সেলস

১. আমরা এক

দম্পতি হিসেবে সম্পদ গড়তে চাইলে প্রথমেই নিজেদের এক হিসেবে ধরতে হবে—তোমার টাকা মানেই আমার টাকা। কিন্তু আমার টাকা মানে আমার টাকা—এই চিন্তা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। নিজের জন্য কিছু টাকা আলাদা করে দুজনই রাখতে পারেন। কিন্তু বড় অংশটা কাজে লাগাতে হবে মিলিতভাবেই।  

২. ঋণ ব্যবস্থাপনা

আর্থিক নিরাপত্তায় ঋণ ব্যবস্থাপনা বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। সংসার সামলানো, উচ্চশিক্ষার খরচ, বিদেশে পড়াশোনা কিংবা পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য নেওয়া ঋণ অনেকের জীবনেই এখন বাস্তবতা। কিন্তু সঞ্চয় বা বিনিয়োগ শুরু করার আগে প্রথম কাজ হওয়া উচিত ঋণ শোধের একটি স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা।
ক্রেডিট কার্ড বিল, ব্যক্তিগত ঋণ—এমনকি বিদেশ ভ্রমণের জন্য নেওয়া ঋণ হলেও তা দ্রুততার সঙ্গে শোধ করতে হবে। নয়তো এই লোনই একটা সময় ভবিষ্যতের আর্থিক স্বাধীনতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন

৩. সঞ্চয় ও বিনিয়োগ

সঞ্চয় নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন হলো, সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য কী? হঠাৎ চাকরি হারানো, অসুস্থতা বা আয়ের অনিশ্চয়তা—এসব কারণেই জরুরি তহবিল অপরিহার্য। বলতে গেলে, এটি হওয়া উচিত অন্তত ১০ মাসের ন্যূনতম খরচের সমান। এই জরুরি তহবিল আপনাকে শুধু আর্থিক নয়, মানসিক স্থিরতাও দেবে।

এই টাকা রাখুন এমন জায়গায়, যেখান থেকে প্রয়োজনে দ্রুত তোলা যায়। তবে ব্যাংকের এই অর্থ কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সম্পদ গড়তে পারে না। কর ও মুদ্রাস্ফীতির পর এর প্রকৃত রিটার্ন অনেক সময়ই বেশ কম। তাই সঞ্চয়ের চেয়ে বিনিয়োগই অনেক সময় ভালো বিকল্প। ধরুন, পাঁচ বছর পর আপনি একটি গাড়ি কিনতে চান। পুরো টাকা ঋণ না নিয়ে, আগে থেকেই বিনিয়োগ শুরু করলে বড় একটি অংশ গাড়ি কেনার সময় এককালীন পরিশোধ করা সম্ভব। এতে সুদের চাপও কমে, লাভও হয়।

তহবিল আপনাকে শুধু আর্থিক নয়, মানসিক স্থিরতাও দেবে
পোশাক: সারা লাইফ স্টাইল, স্থান কৃতজ্ঞতা: হাওয়া রেস্টুরেন্ট, ছবি: কবির হোসেন

৪. অবসরের পরিকল্পনা

ভবিষ্যৎকে ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেবেন না। অনেকেই ধরে নেন, একটা সময় সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু অবসরজীবন কখনোই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নয়। যৌবনেই অবসরজীবনের জন্য অল্প অল্প করে জমাতে শুরু করুন। ভালো ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করুন। একটা সময় এই অর্থ আপনারই কাজে আসবে। তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসে পরিকল্পনা করা। কারণ, অবসরজীবনের স্বপ্নও তো দুজনের।

আরও পড়ুন

৫. ধারাবাহিকতা

বিনিয়োগ শুরু করা হয়তো কঠিন, কিন্তু তা চালিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থের বাজার উঠবে-নামবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ধারাবাহিকতা ও নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা আপনাকে বিচলিত হতে দেবে না। একসঙ্গে মিলে পরিকল্পনা করলে, তা বাস্তবায়িত হতে দেখলে নিজেদের ভেতরেই ভালো লাগার অনুভূতি কাজ করবে।


সূত্র: মিডিয়াম

আরও পড়ুন