ভর্তি পরীক্ষার পরামর্শ
পড়াগুলো ‘সর্বোচ্চ’, ‘মাঝারি’ ও ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’—এভাবে ভাগ করতাম
দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এখনো হাতে আছে বেশ খানিকটা সময়। আগামী এক-দুই মাসের গোছানো প্রস্তুতি আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে স্বপ্নের ক্যাম্পাসে। ফুয়াদ পাবলোকে প্রস্তুতির দরকারি কিছু টোটকা দিয়েছেন ২০২৩-২৪ ভর্তি সেশনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা কয়েকজন। এখানে পড়ুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র মো. অপু শাজীর পরামর্শ
১. স্বপ্নপূরণের সংগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির যাত্রাপথটা সহজ না। প্রতিটি ধাপেই আছে কষ্ট, ত্যাগ ও চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলোকে শক্তিতে পরিণত করে নিজেকে প্রস্তুত করেছি। সঠিক পরিকল্পনা ও ধৈর্য্য ধরে এগিয়ে যাওয়ায় সফলতার দরজা খুলে গেছে।
২. প্রশ্নব্যাংক বিশ্লেষণ
আমার প্রস্তুতির মূল ভিত্তি ছিল প্রশ্নব্যাংক বিশ্লেষণ। বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে কোন বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, চিহ্নিত করতাম। পড়াগুলো ‘সর্বোচ্চ’, ‘মাঝারি’ ও ‘কম গুরুত্বপূর্ণ’—এভাবে ভাগ করতাম। জানা বিষয় এড়িয়ে দুর্বল অংশে বারবার মনোযোগ দিতাম। এতে করে সময় বাঁচে, কমে পড়ার চাপ। প্রতিদিন ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা পূরণে মনোযোগ দিতাম।
৩. রিভিশন
আমার সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি ছিল রিভিশন। নতুন কিছু শেখার চেয়ে পুরোনো বিষয়গুলো বারবার রিভিশন দিয়েছি। মডেল টেস্ট সমাধান করে সময় ব্যবস্থাপনা এবং অ্যাকুরেসির মাত্রা উন্নত করেছি। পরীক্ষার পর প্রতিটি ভুল বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত করতাম। নিশ্চিত করতাম, পরে যেন ভুল না হয়। ভুলগুলো লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে রাখতাম, বারবার পড়তাম।
৪. অফলাইন পরীক্ষা ও অনুশীলন
অফলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ প্রস্তুতিকে দৃঢ় করেছে। এটি পরীক্ষার হলে সময় ব্যবহারের কৌশল এবং মানসিক চাপ সামলানোর দক্ষতা গড়ে তোলে। প্রতিটি পরীক্ষার ভুল বিশ্লেষণ করতাম এবং সেগুলো সংশোধন করতাম। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ত, দূর হতো পরীক্ষাভীতি।
৫. মানসিক চাপ
যখন হতাশা বা চাপ বোধ করেছি, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। তারা আশ্বস্ত করত, সাহস জোগাত। বড় ভাইয়েরা বলতেন, ‘তোমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা কোরো, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’ এই সাপোর্ট আমাকে নতুন উদ্যমে সামনে এগোতে সাহায্য করেছে।