মাস দেড়েক পরই আসে প্রথম আলোর ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে প্রথম আলো। সে বছরের ‘অধিনায়ক ও নায়কেরা’ নামে প্রামাণ্যচিত্রটিতে এসএ গেমসে সোনাজয়ী মাবিয়া আক্তার, ঝালকাঠির সাহসী কিশোরী শারমিন, দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো ফুটবলার আবদুল্লার সঙ্গে আমিও জায়গা পেলাম। জীবনের নায়ক হিসেবে আমাদের উপস্থাপন করা হয়েছে। আর সবার নায়ক হয়ে আমাদের সঙ্গে প্রামাণ্যচিত্রে ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা।

প্রামাণ্যচিত্রটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিখ্যাত মানুষদের সঙ্গে আমার অজ্ঞাত রোগীদের সেবার কথা মানুষ জানতে পারে। এত মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমি কিছুটা চাপেও পড়ে যাই। বাড়তি এক দায়িত্ব অনুভব করি। তখনো নিজের মতো করে কাজ করি। বলা যায় বিচ্ছিন্নভাবে। কিন্তু ছুটির দিনে প্রকাশিত ফিচার আর প্রামাণ্যচিত্র আমার দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয়।

এরপর কিছুটা গুছিয়ে কাজ শুরু করি। যেসব সমস্যায় পড়তাম, সেসব সমাধান করার চেষ্টা করলাম। অনেকে পাশে দাঁড়ালেন। কেউ এলেন অর্থ নিয়ে, কেউ দিলেন সাহস, কেউ পরিশ্রম।

২০১৬ সালেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ‘মেডিসিন কর্নার’ চালু করেছি। গভীর রাতেও অজ্ঞাত কোনো রোগী এলে জরুরি ওষুধ, নতুন কাপড়সহ নানা কিছুর ব্যবস্থা আছে এই কর্নারে। এটা আমাদের জন্য মডেল ওয়ার্ড। সারা বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজে অজ্ঞাত রোগীদের জন্য এই ওয়ার্ডের মতো সেবা চালু করার স্বপ্ন আমার।

অজ্ঞাত রোগীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক সময়ে খাবার খাওয়ানোসহ বিভিন্নভাবে সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে দুটি ওয়ার্ডে চারজন কেয়ার গিভার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মাসিক বেতন ‘শিশুস্বর্গ’ নামের মানবিক একটি প্রতিষ্ঠান বহন করছে। চেকআপের জন্য একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টার সহায়তা করছে। অজ্ঞাত রোগীদের জন্য কমলা রঙের বিশেষ পোশাকের ব্যবস্থা করেছি।

সেবামূলক কাজটি করতে গিয়ে কিছু মহানুভব মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক একজন অ্যাম্বুলেন্স দান করেছেন। অসহায় ও গরিব রোগীদের অল্প খরচে সেবা দেওয়া হয়। বিনা মূল্যে অজ্ঞাত রোগীদের পরিবহন সুবিধা দেওয়া হয়।

চিকিৎসার মাঝপথেই অজ্ঞাত রোগীদের অনেক সময় ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অনেকের তখন পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। তাঁরা তখন হয়তো আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন। এসব রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে হাসপাতাল দেওয়ার ইচ্ছেও আমার ছিল। সে স্বপ্নও পূরণ হতে যাচ্ছে। একজন শুভাকাঙ্ক্ষী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) হাসপাতালের জন্য জমি বরাদ্দ করেছেন। সবার সহযোগিতা পেলে বাকি কাজটুকুও দ্রুতই করা যাবে।

‘ছুটির দিনে’র প্রতিবেদনের কল্যাণেই এই কাজগুলো হয়েছে। গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে বলেই মানুষ আমার কাজ সম্পর্কে জেনেছে, সহযোগী হয়েছে, কাজের পরিধি বেড়েছে।