আমার অভিধানে ‘লেট সাবমিশন’ বলে কিছু ছিল না। এ অর্জনের জন্য বিভাগ থেকে আমি সনদও পেয়েছি। তবে এ জন্য সহ্য করতে হয়েছে অনেক কষ্ট, হজম করতে হয়েছে বহু টিপ্পনী।
২০১৭ সালের একটা ঘটনা মনে পড়লে এখনো চোখ ভিজে আসে। দাদুর খুব শরীর খারাপ। সেই অবস্থায় আমি পরীক্ষা দিতে গিয়েছি। পরীক্ষা শেষ করে মুঠোফোন অন করতে না করতেই আমার কাছে এসেছে দাদুর মৃত্যুসংবাদ।

ক্লাসকে গুরুত্ব দিয়েছি বলে পারিবারিক অনেক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারিনি। আত্মীয়স্বজনেরা আম্মুকে বলত, ‘তোমার মেয়েই বুঝি শুধু ইউনিভার্সিটিতে পড়ে।’ ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে, অসুস্থতা নিয়েও ক্লাস করতে গিয়েছি। বন্ধু হালিমা একবার আমার কপালে হাত রেখে চমকে উঠেছিল। বলেছিল, ‘সে কী! তোমার তো অনেক জ্বর। এত অসুস্থতা নিয়ে কী দরকার ছিল ক্লাসে আসার?’ এমন অনেকবার হয়েছে, ক্লাস মিস করার ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে না উঠে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে বসেছি। এক মিনিটও যেন দেরি না হয়ে যায়। বন্ধুরা আমাকে নিয়ে মজা করত। ওদের মজাটাও আমি উপভোগই করেছি। এত কষ্ট বিফলে যায়নি। বিবিএ, এমবিএ—দুটোতেই প্রথম হয়েছি। বিবিএতে সিজিপিএ ৩.৮৬, আর এমবিএতে ৩.৯৮।
শতভাগ উপস্থিতির জন্য পঞ্চম শ্রেণিতে একটি জ্যামিতি বক্স আর কিছু টাকা পেয়েছিলাম। সেটিই আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। প্রথম সেমিস্টার থেকেই লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছিলাম, একটি ক্লাসও মিস করব না। সব প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকব। এমবিএর প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার পরপরই করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। নিজের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য অনলাইনে ভিডিও অন রেখে প্রতিটি ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছি। জীবনের বাকি লক্ষ্যগুলোর ক্ষেত্রেও যেন অটল থাকতে পারি, এটাই চাওয়া।

বিশ্ববিদ্যালয়পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন নিয়েতে লেখা পাঠাতে পারেন এই ইমেইলে: [email protected]