ওজন কমাতে সকালে লেবুপানি

আমরা অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা বা কফি চাই। চা-কফি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে দিনের শুরু করতে পারেন লেবুপানি দিয়ে। ৪০০ মিলিলিটার কুসুম গরম পানিতে দুই চা–চামচ লেবুর রস দিয়ে একটু মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন। এটি বিপাকক্রিয়ার হার বাড়ায়। এ কারণে সারা দিনে আপনি যা খান, তা সহজেই হজম হয়ে যায়। খালি পেটে লেবু-পানি-মধু পানে ক্ষুধা কম লাগে। সারা দিনে খাবার কম খাওয়া হয়। শরীরে ক্যালরি কম প্রবেশ করে। এ কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

যেভাবে পান করবেন

  • সকালে নাশতা করার অন্তত ৩০ মিনিট আগে লেবুপানি পান করুন। ক্যাফেইন আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে। চা-কফির পরিবর্তেও লেবুপানি ভালো। এটি পানিশূন্যতা দূর করে। তবে দিনে দুইবারের বেশি লেবুপানি পান করবেন না।

  • লেবুপানির সঙ্গে খানিকটা মধু মিশিয়ে নিলে ক্ষুধা কম লাগে। খাওয়া কম হয়। এ কারণে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি প্রবেশ করতে পারে না।

  • লেবুপানিতে অতিরিক্ত ভিটামিন সি থাকায় দাঁতের অ্যানামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই পান করার পর ভালোভাবে কুলি করে মুখ পরিষ্কার করে নিন।

  • অ্যাসিডিটি হলে পান করা বাদ দিন।

যেসব ক্ষেত্রে লেবুপানি

খাবারের ক্ষেত্রে যদি নিয়মের তোয়াক্কা না করেন, পুষ্টিকর খাবার না খান, ভরপেট বিরিয়ানি খাওয়ার পর শুধু একগ্লাস লেবুপানি পানেই সব ক্যালরি উড়ে যাবে মনে করেন—সেটি ভুল ধারণা। শুধু লেবু-মধুপানি পান করলে শরীরের সব চর্বি গলে যায়, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বেরিয়ে যায়—এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চর্বি ক্ষয়ের জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও ক্যালরি ক্ষয় করতে প্রয়োজন নিয়মিত শরীরচর্চা।

লেবুপানি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ। লেবুতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। এটি শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জোগান দেয়। ত্বকে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয়। ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করে। ডাইউরেটিক ও ল্যাক্সেটিভ হিসেবেও কাজ করে। প্রস্রাব ও মল পরিষ্কার রাখে। এ ছাড়া রয়েছে ফ্ল্যাভনয়েড, যেটি চর্বি ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমায়, রক্তে চর্বি ও শর্করা কমাতে সাহায্য করে। খাদ্যাভ্যাস ঠিক না করে ও শরীরচর্চা না করে শুধু লেবুপানি পানে ওজন কমে না। লেবুপানি পান করে শরীরচর্চা করলে ক্যালরি ক্ষয়ের পরিমাণ বাড়ে। এটি দ্রুত ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।