যা করতে হবে

১. খাবার প্রস্তুত করার সময়, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের সময় হাত ধোয়া থাকতে হবে অবশ্যই। কাজ শেষেও হাত ধুয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া খাওয়ার আগে এবং পরে তো হাত ধুবেনই। হাতের নখ ছোট রাখাই ভালো। তাহলে নখের নিচে খাদ্যের কণা কিংবা ময়লা জমে থাকবে না।

২. খাবার ভালোভাবে রান্না করতে হবে। আধা সেদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।

৩. ফল বা সবজি কাটা কিংবা খোসা ছাড়ানোর আগে ধুয়ে নিন (প্রবাহমান পানিতে)।

৪. খাবার ম্যারিনেট করে রাখতে হলে অবশ্যই তা ফ্রিজে রাখুন।

৫. পচনশীল খাবার ২ ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে উঠিয়ে ফেলুন (উষ্ণ আবহাওয়ায় ১ ঘণ্টার মধ্যেই)। ফ্রিজে রাখার সময় ছোট ছোট পাত্রে ভাগ করে রাখা ভালো। এতে খাবার দ্রুত ঠান্ডা হবে।

৬. খাবার ঢেকে রাখুন।

৭. ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন, যাতে কাঁচা ও রান্না করা খাবার অবশ্যই আলাদা থাকে।

৮. কেনাকাটার সময় এবং বাজার করে নিয়ে আসার সময় কাঁচা খাবার এবং সেগুলো নিঃসৃত (বা মিশ্রিত) তরল যাতে অন্য কোনো কিছুর সংস্পর্শে না আসে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৯. প্রতিবার ব্যবহারের পর (প্রতিটি খাদ্যদ্রব্যের জন্য) কাটাকুটির অনুষঙ্গ (ছুরি, বঁটি, চপিং বোর্ড প্রভৃতি) এবং কাটাকুটির স্থান ঈষদুষ্ণ সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

১০. যেসব খাবার কাঁচা খাওয়া যায় (যেমন ফল) এবং যেসব খাবার কাঁচা খাওয়া যায় না (যেমন মাংস), সেগুলো কাটাকুটির জন্য আলাদা আলাদা অনুষঙ্গ ব্যবহার করা ভালো।

যা করা যাবে না

১. খোসাসহ ডিম না ধোয়াই ভালো। কারণ খোসায় জীবাণু থাকতে পারে। ধোয়া হলে ধোয়ার সময় সেই পানি যেখানে গড়িয়ে বা ছড়িয়ে পড়বে, সেখানে জীবাণু রয়ে যেতে পারে।

২. কাঁচা মাংস বা ডিম যে পাত্রে ছিল, রান্না করা খাবার সেই পাত্রে রাখা যাবে না।

৩. ডিপফ্রিজের জমাট বাঁধা খাবার গলাতে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ফ্রিজের ‘নরমাল’ অংশ কিংবা ঠান্ডা পানির সাহায্য নিন।

৪. খাবার ভালো আছে কি না, তা বোঝার জন্য খাবার মুখে দেওয়া যাবে না কিংবা খাবারের ঘ্রাণ নেওয়া যাবে না।

৫. মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না।

৬. বাইরের খোলা খাবার খাওয়া যাবে না।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি যাদের বেশি

১. ৫ বছরের কম বয়সী শিশু

২. ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি

৩. অন্তঃসত্ত্বা নারী

৪. কোনো রোগ বা ওষুধের কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেছে, এমন ব্যক্তি (যেমন ডায়াবেটিস বা অপুষ্টিতে ভুগছেন, কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে কিংবা কেমোথেরাপি বা স্টেরয়েড–জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করছেন, এমন ব্যক্তি)।

সবার জন্য খাদ্য হোক নিরাপদ। এই তো চাওয়া। তবে এই চার শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি। তাই যাঁরা তাদের যত্ন নিয়ে থাকেন, তাঁদের অবশ্যই খাদ্যনিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করতে সচেতন হতে হবে।

শেষকথা

পোষা প্রাণীর খাবারের ক্ষেত্রেও অবশ্যই খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত। অনিরাপদ খাবার ওদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া আমরা অনায়াসেই আমাদের অনেক খাবারের উচ্ছিষ্ট (কিংবা বেঁচে যাওয়া খাবার) দিয়ে আমাদের কাছাকাছি থাকা প্রাণিকুলের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারি। প্রতি বেলা নিজেদের খাওয়াদাওয়া সেরে নিয়েই এই খাবারটুকু ওদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। আমাদের খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলে দেওয়ার পর পচে যায়। সেই খাবারটুকু খাওয়ার জন্যই হয়তো হাপিত্যেশ করে আছে কোনো অসহায় প্রাণ। খাবারটা পচে যাওয়ার আগেই না হয় ওদের কাছে পৌঁছে দিন। সবাই থাকুক নিরাপদ। গড়ে উঠুক সু-অভ্যাস।

লেখক: চিকিৎসক এবং ক্লিনিক্যাল স্টাফ, নিউরো আইসিইউ, স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, ঢাকা।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন