গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যানসার নির্ণয় কীভাবে?

চিকিৎসক প্রথমে ক্লিনিক্যালি পরীক্ষা করে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন এই রোগ সম্পর্কে। তবে হবু মায়েদের ক্ষেত্রে কিছু পরীক্ষা ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে, তাই সাবধানতা অবলম্বন করে বিকল্প উপায় ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় করা হয়।

অস্বাভাবিকতা দেখলে নিজ থেকে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা কী?

গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা একটু জটিল। মা ও অনাগত সন্তানের জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে টিউমার বোর্ড গঠনের মাধ্যমে চিকিৎসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পুরো চিকিৎসাপ্রক্রিয়া ক্যানসারের ধাপ বা পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন টিউমারের সংখ্যা ও আকার, টিউমার গ্রেড—যা ক্যানসার বৃদ্ধি এবং কত দূর ছড়িয়ে পড়েছে, স্তনের ক্যানসারের নির্দিষ্ট ধরন, মা গর্ভাবস্থায় কোন পর্যায়ে আছে, সাধারণ স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা, মায়ের বয়স ও কতজন সন্তান হয়েছে, পরিবারে রক্তের সম্পর্কের কারও স্তন ক্যানসারের আছে কি না ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে।

স্তন ক্যানসারের প্রথম লাইনের চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার এমনকি অন্তঃসত্ত্বা হলেও। বর্তমানে স্তন ক্যানসারের বহুল ব্যবহৃত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি হলো ‘ব্রেস্ট কনজারভেটিভ সার্জারি এবং অনকোপ্লাস্টিক ব্রেস্ট সার্জারি। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে পুরো স্তন কেটে না ফেলে শুধু টিউমার বা ক্যানসারের অংশটুকু কেটে বাদ দেওয়া।

সাধারণত টিউমারের আকার ছোট হলে এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের পর অবশ্যই রেডিওথেরাপি দিতে হবে। কিন্তু গর্ভাবস্থায় রেডিওথেরাপি বা তেজস্ক্রিয়তা গর্ভের ভ্রূণের জন্য ভয়ংকর ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যানসার হলে ম্যাসটেকটমি অর্থাৎ পুরো স্তন কেটে ফেলার অস্ত্রোপচারই নিরাপদ।

আবার ভ্রূণের ক্ষতি হতে পারে বিধায় গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে কেমোথেরাপি দেওয়া যাবে না। হরমোন থেরাপিও নিরাপদ নয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে আগে স্তন অপসারণ করে বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর এসব চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিত্সাপদ্ধতি শিশুর জন্মের পরে অবধি বিলম্বিত হতে পারে।

মনে রাখা জরুরি, গর্ভাবস্থায়ও স্তনে কোনো চাকা বা গোটা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কিছুতেই অবহেলা করা চলবে না। এ সময় স্তনে স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। যেকোনো অবস্থায়ই শরীরে ক্যানসার দানা বাঁধলে, তা যত দ্রুত নির্ণয় হয়, ততই ভালো।

আর যাঁদের পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস আছে তাঁদের মা হওয়ার আগে স্তন ক্যানসার নিরীক্ষণ বা ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং একান্ত প্রয়োজন।

ডা. কৃষ্ণা রুপা মজুমদার: সহযোগী অধ্যাপক, সার্জিক্যাল অনকোলোজি (ক্যানসার সার্জারি বিভাগ), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা