default-image

নির্ণয়

ঠিক কোন অ্যালার্জেন বা খাবার বা বস্তু অ্যালার্জির জন্য দায়ী, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে প্রয়োজন সতর্ক ইতিহাস পর্যালোচনা আর কিছু পরীক্ষা। যেসব দিনে আপনার ত্বকে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে, সেসব দিন আপনি কোন ধরনের বস্তুর সংস্পর্শে এসেছেন বা কী ধরনের খাবার খেয়েছেন, কোথায় গেছেন বা ত্বকে কী লাগিয়েছেন, তা মনে করুন। একটি ডায়েরিতে লিখে রাখুন। তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে ত্বকে ছিদ্র করে সেখানে নানা ধরনের অ্যালার্জেনের নির্যাস দেওয়া হয় এবং কতক্ষণ পর ওই জায়গায় অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া শুরু হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। কতটা জায়গা ফুলে গেছে বা লাল হয়ে গেছে, তা পরিমাপ করা হয়।

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেও অ্যালার্জির নির্দেশক কিছু অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা যায়। নাকের ভেতরের মিউকোসাল বা চোখের লাল ভাবের একটি শারীরিক পরীক্ষা করেও অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা যেতে পারে।

অ্যালার্জির চিকিৎসা

অ্যালার্জির নানা রকম আধুনিক চিকিৎসা এখন সহজলভ্য। উপসর্গিক চিকিৎসা হিসেবে অ্যান্টিহিস্টামিন এবং স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে। উপশম পেতে ঠান্ডা সেঁক, ঠান্ডা পানিতে চুবিয়ে রাখা, ক্যালামিন লোশন, গাঢ় ময়েশ্চারাইজার ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। সাধারণত নানা মাত্রার স্টেরয়েড ক্রিম দ্রুত উপশম দেয়, তবে গুরুতর ক্ষেত্রে মুখে খাবার স্টেরয়েডও ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে।

default-image

প্রতিরোধ

ধুলাবালু এবং অ্যালার্জেন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। যেমন যার অ্যালার্জির প্রবণতা আছে তিনি ঘর ঝাড়া, বিছানা ঝাড়ার মতো কাজ থেকে বিরত থাকুন।

বিছানার চাদর এবং বালিশের কভার গরম পানিতে ধোবেন। কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো। আসবাব পরিষ্কার করতে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করুন। পশুপাখির লোমে অ্যালার্জি হলে বাড়িতে এগুলো পালা থেকে বিরত থাকুন।

বারবার সাবান, ডিটারজেন্ট, ক্লিনিং এজেন্ট স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। দরকার হলে গৃহস্থালি কাজের সময় গ্লাভস পরুন।

ত্বক শুষ্ক হতে দেবেন না। আর্দ্র রাখবেন।

মনে রাখবেন

ত্বকে চুলকানি ও লাল হওয়ার সঙ্গে যদি চোখের পাতা, মুখ ইত্যাদি ফুলে যায়, জিব ফুলে যায়, কণ্ঠ রোধ হয়ে আসে, শ্বাসকষ্ট হয় বা শ্বাসের সঙ্গে শব্দ হতে থাকে, তবে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন