বদলে যাচ্ছে নখের রং?

সুস্থ স্বাভাবিক নখের রং হালকা গোলাপি। কিন্তু নানা রোগ ও শারীরিক সমস্যায় এই রং বদলে যেতে পারে। একজিমা, সোরিয়াসিস, অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটার মতো ত্বকের সমস্যায় নখে ছোট ছোট আড়াআড়ি লম্বাটে গর্ত হতে পারে। ছত্রাক সংক্রমণের কারণে নখ হলদে ও মোটা হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, যকৃৎ ও কিডনির সমস্যা, হৃদ্রোগ বা ফুসফুসের নানা রোগেও নখের বর্ণ ও আকৃতির পরিবর্তন হয়।
আর্সেনিক দূষণের কারণে নখ আংশিক সাদা হয়ে যায়। রক্তে আমিষের অভাব, শ্বেতী রোগ বা কিডনির সমস্যায়ও নখ সাদাটে বা ফ্যাকাশে হতে পারে। আঘাত এবং গ্লোমাস টিউমারের কারণে নখ লালচে দেখায়। বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নখের রং নীল করে দিতে পারে। আবার মেলানোসাইটের টিউমারের জন্য নখ কালো হয়ে পড়ে। লৌহ ও আমিষের অভাব এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগে নখের আকৃতি পরিবর্তিত হয়ে চামচের মতো হয়ে যেতে পারে।
নখের সুস্থতার জন্য কী করবেন:
* নখ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তাই বলে অতিরিক্ত ঘষাঘষি, বেশি পানি লাগানো বা অতিরিক্ত ম্যানিকিউর বা পেডিকিউর ইত্যাদি ভালো নয়। এতে নখের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
* খুব বেশি নেইলপলিশ ও রিমুভার ব্যবহার করলে নখের ক্ষতি হয়।
* অতিরিক্ত সাবান, ডিটারজেন্ট, ক্ষারযুক্ত পদার্থের ব্যবহার কমান। পানি নিয়ে কাজ করার সময় কিচেন গ্লাভস ব্যবহার করা ভালো।
* দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানোর বদভ্যাস ত্যাগ করুন। একইভাবে নখ দিয়ে ঢাকনা খোলা বা তীক্ষ্ণ জিনিস দিয়ে নখ পরিষ্কার করা ঠিক নয়।
* নখের যেকোনো পরিবর্তনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডা. তাহমিনা আক্তার
চর্ম বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: পেটে ‘গ্যাস’ সমস্যার সমাধান কী?

উত্তর: ‘গ্যাস’ বলতে সাধারণত বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া কিংবা বা পেটে অস্বস্তি হওয়ার সমস্যাকে বোঝানো হয়ে থাকে। নিয়মিত ও পরিমিত খাওয়াদাওয়া করলে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব। যেসব খাবার খেলে সমস্যা হয়, সেগুলো পরিহার করুন। ইচ্ছেমতো অ্যাসিডিটির ওষুধ সেবন করা কোনো সমাধান নয়। ৪০ বছর পেরোনোর পর পাকস্থলীর ক্যানসারের কারণেও এমন সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান
মেডিসিন বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ