পুরুষের বন্ধ্যত্ব মানে

যদি পুরুষের সিমেন (বীর্য) বিশ্লেষণে শুক্রাণুর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়, তবে তা পুরুষ বন্ধ্যত্বের কারণ হিসেবে নির্ণীত হয়। এখন জানা যাক স্বাভাবিক শুক্রাণুর লক্ষণ কেমন। একটি স্বাভাবিক নমুনা পরীক্ষায় বীর্যের পরিমাণ ১ দশমিক ৫ মিলিলিটার বা তার বেশি। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা প্রতি মিলিলিটারে ন্যূনতম ১ কোটি ৫০ লাখ, চলৎশক্তিসম্পন্ন শুক্রাণুর সংখ্যা অন্তত ৪০ শতাংশ, আর স্বাভাবিক আকার–আকৃতির শুক্রাণু থাকতে হবে কমপক্ষে ৪ শতাংশ বা তার বেশি। কখনো কখনো এমন হয়ে থাকে যে, বীর্যে কোনো শুক্রাণুই থাকে না। চিকিৎসাশাস্ত্রের ভাষায় একে অ্যাজোস্পার্মিয়া বলা হয়। আর যদি সংখ্যায় স্বল্প থাকে তবে তাকে বলা হয় অলিগোস্পার্মিয়া।

  • সহবাসে অক্ষমতাও বন্ধ্যত্বের একটি কারণ।

  • কখনো কখনো এমন হয়, শুক্রাণুর রিপোর্ট ঠিকই থাকে কিন্তু সহবাসের সময় স্বাভাবিক পথ ব্যবহার না করে বীর্য মূত্রথলি বা ব্লাডারে চলে যায়। এটাকে বলা হয় রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন। এ ধরনের ক্ষেত্রেও বন্ধ্যত্ব হতে পারে।

কেন পুরুষের বন্ধ্যত্ব হয়

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ধূমপান, মদ্যপান, মাদকাসক্তি, ক্যানসারের চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় পুরুষের বন্ধ্যত্ব হতে পারে। জন্মগতভাবে অণ্ডকোষ যদি অস্বাভাবিক স্থানে রয়ে যায় এবং নিচে না নামে, কোনো সংক্রমণে বা অস্ত্রোপচারের ফলে শুক্রনালি বন্ধ হয়ে যায়, জন্মগতভাবে শুক্রনালি তৈরি না হয়—এগুলোও বন্ধ্যত্বের কারণ। আবার ক্রোমোজমের ত্রুটি, হরমোনের তারতম্য, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, স্বাস্থ্য বা শক্তি বাড়ানোর জন্য স্টেরয়েড হরমোন গ্রহণ, অতিরিক্ত গরম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা ইত্যাদি কারণে পুরুষের বন্ধ্যত্ব হতে পারে। কোনো কোনো সমীক্ষায় দেখা গেছে, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন হতে নির্গত রশ্মি শুক্রাণুর যথাযথ উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

চিকিৎসা

  • জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন পুরুষের উর্বরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

  • ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু করার আগেই শুক্রকীট বা স্পার্ম সংরক্ষণ করে রাখা যায়, বাংলাদেশেই এমন ব্যবস্থা আছে।

  • কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে বন্ধ করতে হবে।

  • ঝুঁকিপূর্ণ পেশা প্রয়োজনে পরিবর্তন করতে হবে।

  • হরমোনের ঘাটতি থাকলে তা পরীক্ষা করে শনাক্ত করা যায়। আর সেই ঘাটতি পূরণ করতে হবে।

  • কিছু ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দিয়ে তিন মাস পর আবার শুক্রাণু পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে, অনেক সময় ইতিবাচক পরিবর্তন পাওয়া যায়। যদি পরিবর্তন না পাওয়া যায়, আইইউআই বা আইভিএফ চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।

  • বিশেষ ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ বা এপিডিডাইমিস থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শুক্রাণু সংগ্রহ করে ইকসি (ইন্ট্রাসাইটোপ্লাসমিক স্পার্ম ইনজেকশন) বা টেস্টটিউব চিকিৎসা করা যাবে।

  • শুক্রনালি বন্ধ থাকলে তা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ঠিক করা যেতে পারে।

  • অণ্ডকোষ যদি শুক্রাণু তৈরিতে পুরোপুরি অক্ষম হয় তবে এই শুক্রাণু দিয়ে কোনো চিকিৎসার সুযোগ নেই।

সঠিকভাবে নির্ণয় দরকার

পুরুষ বন্ধ্যত্ব অনেক সময় নির্ণয় হয় না, শুধু নারীকেই দায় দেওয়া হতে থাকে দিনের পর দিন। ফলে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রয়ে যায় আর সফল হয় না। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতে আরও আলোকপাত করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে দম্পতি আগে সন্তানের বাবা–মা হয়েছেন তাঁদেরও পরবর্তী সময়ে বন্ধ্যত্ব হতে পারে। আগে বাবা হয়েছেন বলে কোনো সমস্যা থাকতে পারে না, এটা ঠিক নয়। তাই বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার সময় নারী ও পুরুষ দুজনকেই চিকিৎসার আওতায় আনা প্রয়োজন।