বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কীভাবে বায়ুদূষণে হাঁপানি হয়

হাঁপানি ফুসফুসের একটি প্রদাহজনিত অবস্থা। এতে কিছু উদ্দীপক প্রদাহ সাময়িকভাবে শ্বাসনালি সরু করে দেয়। এ কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ধুলাবালু মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শ্বাসযন্ত্রে ঢুকে শ্বাসকষ্টের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। দূষিত বায়ু ফুসফুসে ঢোকার পর সেখানে ফ্রি রেডিক্যালের সৃষ্টি হতে পারে। দেখা গেছে শ্বাসতন্ত্রের অসুখ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এসব ফ্রি র‍্যাডিক্যাল। হাঁপানি বংশগতভাবেও হয়ে থাকে।

শহরাঞ্চলে হাঁপানি বৃদ্ধির কারণ

শহরাঞ্চলে হাঁপানি বৃদ্ধির মূল কারণ ঘনবসতি। শহরে একসঙ্গে অনেক মানুষ বসবাস করেন। এতে ঘরের ভেতরের পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর হয়। ঘরের আসবাবে জমে থাকা ধুলা এবং ধুলায় ‘ডাস্ট মাইট’ নামের এক প্রকার কীট বেশি তৈরি হয়, যা হাঁপানি অনেক মাত্রায় বৃদ্ধি করে। গ্রামের পরিবেশ খোলামেলা হওয়ায় এই সমস্যা তুলনামূলক কম হয়।

উৎস

বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস গাড়ি, শিল্পাঞ্চল, ইটভাটা ও নাগরিক বর্জ্য। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চালিত যানবাহন থেকে বের হয় ক্ষতিকারক বেনজিন। এ ছাড়া সালফার ও সিসাযুক্ত পেট্রল, জ্বালানি তেলে ভেজাল ও ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনের কারণে গাড়ির ধোঁয়ার সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, অ্যালডিহাইডসহ সিসার নিঃসরণ বাতাসকে দূষিত করে।

উন্মুক্ত স্থানে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালু-সিমেন্ট ফেলে রাখা, বিশাল এলাকাজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি দীর্ঘদিন ধরে চললে চারদিকে প্রকট ধুলাদূষণ সৃষ্টি করে।

হাঁপানির লক্ষণ

হাঁপানি হলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, নিশ্বাসের সঙ্গে শাঁই শাঁই শব্দ শোনা যায়। শুকনো কাশি, কখনো এই কাশি একটানা দীর্ঘক্ষণ চলা, বুকে চাপ অনুভব করা এবং অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে। শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক যে কারও হতে পারে হাঁপানি।

প্রতিরোধ

হাঁপানির প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে বায়ু দূষণের মাত্রা কমাতে হবে।সবাই মিলে সচেতন হলে এটি সম্ভব। বায়ুদূষণরোধে পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ হয়ে বেড়ে উঠবে।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান,মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

সুস্থতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন